ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘১২ সপ্তাহ উপরে কোন ব্যক্তির মধ্যে উপসর্গগুলো থাকলে সেটাই লং কোভিড’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২১ মঙ্গলবার, ০৪:০০ পিএম
‘১২ সপ্তাহ উপরে কোন ব্যক্তির মধ্যে উপসর্গগুলো থাকলে সেটাই লং কোভিড’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সলান বলেছেন, মানুষের উপসর্গ শুরু হওয়ার পর ১২ সপ্তাহ যখন উপসর্গগুলো থাকে তখন এটাকে বলা হচ্ছে লং কোভিড। এই উপসর্গগুলো মৃদু থেকে মাঝারি হতে পারে। আর উপসর্গগুলো হলো যেমন- বেশি দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, হৃদপিন্ডের গতি বৃদ্ধি, বুকে চাপা ব্যথা, স্মৃতি শক্তি হারানো, গিরায় ব্যথা, স্বাদ ও গন্ধে পরিবর্তন ইত্যাদি। এর বাইরে কিছু উপসর্গ দেখা যেতে পারে যেমন- ঘুম কম হওয়া না হওয়া, দৃষ্টি শক্তি বা শ্রবণশক্তি পরিবর্তন। এই উপসর্গগুলো যখন ১২ সপ্তাহ উপরে কোন ব্যক্তির মধ্যে থাকে তখন এটাকে বলা হচ্ছে লং কোভিড। আর লং কোভিড বলতে বুঝাতে চাচ্ছে যে মানুষের যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সে প্রতিরোধ ক্ষমতার অতিরিক্ত কার্যকরীতার কারণে। এই অতিরিক্ত কার্যকরীতার কারণে ভাইরাসকে ধ্বংস করার পাশাপাশি বিশেষ যে কোষগুলো আছে সেগুলোর উপর আক্রমণ করে কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বলে বলে এই উপসর্গগুলো দীর্ঘ সময় থাকছে।

লং কোভিড, চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ডা. ইকবাল আর্সলান। পাঠকদের জন্য ডা. ইকবাল আর্সলান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান। 

ডা. ইকবাল আর্সলান বলেছেন, আরেকটা বিষয় বলা হচ্ছে যে ভাইরাসের আরএনএ, স্পাইন এই সমস্ত অংশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে থাকতে পারে। কিছু ভাইরাস আছে যে ভাইরাসের জন্য জ্বর হয় সেই ধরনের ভাইরাসগুলো এই সময় ওই মানুষকে আক্রমণ করে বসতে পারে। এগুলোর ফলে মুলত উপসর্গগুলো দীর্ঘ সময় থাকছে। এটা নিয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা কঠিন। তবে তাদের অবজারভেশন হচ্ছে যে, যে সমস্ত কোভিডের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে তাদের এক থেকে দুই শতাংশ রোগীর মধ্যে লং কোভিড সংক্রমণ রয়েছে। এটা হচ্ছে মূল কথা।

ঈদ পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. ইকবাল আর্সলান বলেছেন, ঈদের পরে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ১৫ দিনের লকডাউনে আমরা হয়তো লাভবান হয়েছি এবং সেটা ধরেও নেওয়া যায়। যেমন- এই লকডাউন না হলে হয়তো ৩০০ বা ৪০০ লোক মারা যেত, সংক্রমণের হার ৩৫ বা ৪০ শতাংশ হত। কিন্তু এই কঠোর লকডাউনের পরেও আমরা দেখলাম যে ৩০ শতাংশ মৃত্যুর হার এবং মৃত্যু দুইশোর ওপরে এবং এটা কনস্ট্যান্ট। তাহলে ৮ দিনের শিথিল কোভিডের সাথে বসবাস এবং গরুর হাটের যে চিত্র, লঞ্চ-ফেরি চিত্র এবং বিপণিবিতানের যে চিত্র এবং মানুষের স্বাস্থ্যবিধি না মানার যে প্রবণতা, পাশাপাশি গরুর হাটে প্রায় ২০ শতাংশ করোনা রোগী শনাক্ত। এটি আসলে নির্দেশ করে যে, এই আটদিন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে যেটা আমরা দেখতে পাব অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে।

তিনি আরও বলেন, সেখানে সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা আসলে ভয়াবহ বলা হয়, কারণ আমরা এখনই দেখতে পাচ্ছি যে বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন সংক্রমণ হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। এই সময়ে মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে। যে আমাদের ৩০ শতাংশের বেশি সংক্রমণে আমরা ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের যখন এটা ৩৫ শতাংশ হবে বা তার বেশি হবে তখন এই ৩০ শতাংশ ঊর্ধ্বে যেই পরিমান রোগী সেই পরিমান রোগীর থেকে যে অতি সংক্রমিত রোগীগুলো আছে তাদের কিন্তু কোথাও স্থান সংকুলান হবে না। তখন মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে আমাদের যে গ্রামগঞ্জে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা মজবুত নয়। যখন তারা চিকিৎসা দিতে পারবে না তখন রোগীরা সব বড় শহরের দিকে ধাবিত হবে। বড় শহরে যখন এই রোগীর পরিমাণ এবং চাপ বাড়তে থাকবে। তখন স্বাস্থ্যব্যবস্থা একদম ভেঙে পড়বে বলেই আমার মনে হচ্ছে যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।