ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`ঈদের দুই সপ্তাহ পরে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সন্ধিক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে`

মো. মাহমুদুল হাসান
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২১ বুধবার, ০৪:০০ পিএম
`ঈদের দুই সপ্তাহ পরে একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সন্ধিক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে`

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেছেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে সংক্রমণের এখনো যে গতি এটা ঈদের সপ্তাহ দুয়েক পরে একটি বিশাল প্রভাব পড়বে। একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সন্ধিক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

জনগণের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, ঈদের পরে করোনার পরিস্থিতির কোন দিকে যেতে পারে এই ধরনের নানা বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ`র সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, আজকে ঈদের দিন। আমাদের আগে থেকেই এই ঈদ নিয়ে একটি দুশ্চিন্তার কারণ ছিল, একটা শঙ্কার কারণ ছিল। ঈদে একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ, মানুষের ঢাকা থেকে যাতায়াত সেটাও আমরা লক্ষ্য করেছি যে, গণপরিবহন, লঞ্জ, ফেরিতে কোথাও আসলে স্বাস্থ্যবিধি মানে নি এবং লোকজনের অনিহাও ছিল স্বাস্থ্যবিধি মানতে। আসলে তারা স্বাস্থ্যবিধি মানে নি। আজকের যে ঈদ জামাত, সেই ঈদ জামাতেও অনেকেই আসলে কোলাকুলি, হাত মেলানো এটাও হচ্ছে। আজকে যে কোরবানি এই কোরবানিও একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। যে জায়গায় কোরবানি হয়, সেখানে অনেকেই দেখা যাচ্ছে যে, যারা এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত তারা অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না বা মাস্ক পড়ছে না। ঈদের জামাতেও অনেক জায়গায় একই জিনিষ লক্ষণীয়। পাশাপাশি আমাদের সামনে রয়েছে ঈদ করে বাড়ি ফেরা বা ঘরে ফেরা অর্থাৎ ঢাকায় ফেরা এটাও একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ একটি। 

তিনি বলেন, আগামী ২৩ তারিখ থেকে যদি লকডাউন শুরু হয় তাহলে একদিনে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী যারা ঢাকার বাহিরে গিয়েছে তারা আবার ফিরে আসবে। এটাও একটি বড় ভয়ের কারণ। সব মিলিয়েই আমাদের কাছে মনে হচ্ছে সংক্রমণের এখনো যে গতি এটা ঈদের সপ্তাহ দুয়েক পরে একটি বিশাল প্রভাব পড়বে। একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সন্ধিক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থারও একটি লিমিটেশন আছে। একের পর এক বেডের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে, হাসপাতাল বাড়ানো হচ্ছে, কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের ও লিমিটেশন আছে। যদিও আমরা মনে করি সরকার ইতিমধ্যেই অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবুও এই অবস্থার কথা, সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে ঢাকাসহ সারাদেশে আরও কোভিড শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা উচিৎ। ঢাকাতে আরও ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল করা উচিৎ এবং বিভিন্ন জেলা পর্যায়েও যেখানে সুযোগ আছে সেখানে কোভিড হাসপাতাল বা শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা উচিৎ। সেই প্রিপারেশন রাখা উচিৎ।

স্বাচিপ এর মহাসচিব বলেন, পাশাপাশি জনসাধারণেরও আরও এখন উপলব্ধি করতে হবে। পাশের দেশ ভারতের অবস্থা বিবেচনায় রেখে, আমাদের যদি এই রকম একটি পরিস্থিতি হয়, আমাদের তো সব কিছুতেই লিমিটেশন আছে, তাহলে আমাদের ভারতের চেয়েও খারাপ অবস্থা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেই প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি এখনাে জনসাধারণের সতর্ক হওয়া উচিৎ। তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিৎ। আমরা জানি সরকার বিধিনিষেধ সাময়িক শিথিল করেছে কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি কিন্তু শিথিল করে নি। সেই প্রেক্ষাপটে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখন চলা উচিৎ এবং সরকারের নির্দেশিত যে পদক্ষেপগুলো আছে সেগুলো তে সহযোগীতা করা উচিৎ। পাশাপাশি আমি মনে করি যে, সরকার এখন গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। সবারই এই টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা উচিৎ। কারণ টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এটাই আসলে এই কোভিড-১৯ এর জন্য উত্তম সমাধান। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার অনুরোধ করছি।