ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন মানানোর বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি`

মো. মাহমুদুল হাসান
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৪:০১ পিএম
`সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন মানানোর বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি`

বাংলাদেশের  কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, এ ক্ষেত্রে আমি জনগণকে কোনো দোষ দেই না। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম দিক থেকে লকডাউন মানানোর বিষয়ে কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। সরকার মনে করেছে একটি সিদ্ধান্ত দিলেই মানুষ শুনবে। মনে করেছে প্রশাসনিক হুঁমকি-ধামকির মধ্য দিয়ে আমরা কাজ করবো। কিন্তু এটা যে হয় না সেটাই প্রমাণ হলো। 

মানুষকে লকডাউন মানাতে করণীয় এবং ২৩ জুলাই থেকে লকডাউন শুরু হওয়ায় ঢাকায় মানুষের ফিরে আসার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে ফোনে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন রুহিন হোসেন প্রিন্স। পাঠকদের জন্য রুহিন হোসেন প্রিন্স`র সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান। 

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, প্রথমত আমরা যে, মানুষকে ঘরে থাকতে বললাম, এটার প্রধান কারণ হোল হলো বৈজ্ঞানিক। এটা আমরা বললাম কিন্তু মানুষের বাস্তবতা ও চেতনার স্তর কি? আমাদের দেশের মানুষের বাস্তবতা ও চেতনার স্তরের দুই তিনটা বিষয়। প্রথমে তাকে চিকিৎসা সচেতন হতে হবে। দ্বিতীয়ত, শুধু চিকিৎসা সচেতন হলে হবে না বেঁচে থাকার জন্য তার জীবিকার বিষয়ে নিশ্চয়তা পেতে হবে। তৃতীয়ত, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ যে সংস্কৃতি ধারণ করে, সে মনে করে যা কপালে লেখা আছে তাই। তাহলে আপনাকে এই ধরনের লকডাউন সফল করতে গেলে প্রথমে মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করা, দুই নাম্বার তার জীবিকার নিশ্চয়তা দেওয়া এবং তিন নাম্বার হচ্ছে তার যে অজ্ঞতা সেটা দূর করার জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করা। 

তিনি বলেন, এই তিনটি কাজ করা জন্য আমাদের এই ঘনবসতীপূর্ণ দেশ লকডাউন সফল করতে গেলে আমাদের দরকার ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাইরে সমাজ বিজ্ঞানের আশ্রয় নেয়া উচিৎ ছিল। সেটা নিতে গেলে আমাদের যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার যে ইউনিটগুলো আছে, যার ন্যূনতম ইউনিট হলো বিভিন্ন ওয়ার্ড যেটা শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে আছে। আমরা প্রথম দিক থেকে বলে এসেছিলাম যে, কেন্দ্র থেকে এই ওয়ার্ড পর্যায়ে আমরা দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক দলের কর্মী থেকে শুরু করে মসজিদের ইমাম সাহেবদের নিয়ে আমরা যদি একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা যদি তাদেরকে প্রথমে কনভিন্স করে ওই এলাকায় একটা প্রচারের ঢেউ তুলতে পারতাম , মানুষকে যদি বুঝাতে পারতাম, মানুষের বাঁচার জন্য কি কারনে ঘরে  থাকা প্রয়োজন, আমরা  যদি প্রয়োজনীয় মানুষদের খাদ্য -অর্থ সহায়তার নিশ্চয়তা দিতে পারতাম, মানুষদের যদি চিকিৎসার সব নিশ্চয়তা দিতে পারতাম, একই সাথে তাকে যদি অজ্ঞতা দূর করার বিষয়ে আমরা ভূমিকা নিতে পারতাম তাহলেই কেবলমাত্র আমরা সফল হতে পারতাম।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র এই নেতা বলেন, এ ক্ষেত্রে আমি জনগণকে কোনো দোষ দেই না। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম দিক থেকে এ ধরনের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। সরকার মনে করেছে একটি সিদ্ধান্ত দিলেই মানুষ শুনবে। মনে করেছে প্রশাসনিক হুঁমকি-ধামকির মধ্য দিয়ে আমরা কাজ করবো। কিন্তু এটা যে হয় না সেটাই প্রমাণ হলো। আমি আজকের এই দুঃসময়ে পাল্টা দোষারোপের কথা বলতে চাই না। এখনও আমাদের সামনে সময় আছে আমরা এই কাজগুলো যদি করতে পারি তাহলে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ, সব মানুষ শুনবে আমি এটা মনে করি না, অধিকাংশ মানুষকে আমরা শোনাতে পারবো এবং এই কাজটি সফল করতে পারবো। এর বাইরে, আমাদের কিছু মালিক আছেন, বিশেষ করে গার্মেন্টস মালিক এবং অন্যান্য কিছু আছেন। তারা কোনো নিয়ম কানুনের ধার ধারে না। তারা বলে, এই কয়দিন আমরা যদি বন্ধ রাখি আমাদের এত এত হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে। ঠিক আছে তোমাদের এতদিন তো ক্ষতি হয়নি। যে লাভ করেছ সেইটা দিয়ে অন্তত দয়া করে এই কয়দিন বন্ধ রাখো। তাতে দেশের অর্থনীতিতে এমন কোনো ক্ষতি হবে না। কিছু কিছু মালিকের হয়তো বিদেশে টাকা পাঠানো বন্ধ হবে। কিন্তু আমাদের বিদেশের যে রেমিটেন্স, দেশীয় উৎপাদন, আমাদের সাধারণ মানুষের কম খেয়ে বেঁচে থাকার যে অভ্যাস তাতে খুব ক্ষতি হবে না। বরং আমরা এই দুরাবস্থা থেকে বাঁচতে পারবো। ভবিষ্যতে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আরো ভূমিকা নিতে পারব ।

২৩ জুলাই থেকে লকডাউনের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথমত মানুষ কেনো ফিরে আসবে? সরকার যখন সিদ্ধান্ত নিলো ২৩ জুলাই থেকে লকডাউন। তার মানে যারা বাড়ি যাবে ঈদে তারা আর ফিরে আসবে না। এই ম্যাসেজটা তো পরিস্কার করতে হবে এবং সেই মানুষকে নিশ্চিত করতে হবে যে, ২৩ তারিখ থেকে যে লকডাউন, ১৪ দিন পরে তুমি যে কর্মস্থলে কাজ করছো তাদের বেতন ও চাকরির নিশ্চয়তা থাকলো এবং লকডাউন শেষে ফিরে আসার জন্য আমরা পর্যাপ্ত সময় দেবো এবং তোমার চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে। এই ম্যাসেজটা কিন্তু আমরা মানুষকে দিলাম না। এটা না দেওয়ার কারণে, ইতিমধ্যে শুনলাম, ব্যাংক নাকি খোলা থাকবে, ইতিমধ্যে শুনলাম কিছু গার্মেন্টস খোলা আছে এবং তারা খোলা রাখবে। অর্থাৎ মানুষকে আজকে হুড়াহুড়ি করে ঢাকায় আসতে আমরা আবার বাধ্য করছি। তার মানে এই ম্যাসেজটা যথাযথভাবে যায় নি। আমি মনে করি আমরা যেভাবে বলেছি, এটি শুধু আমাদের কথা নয়,বিশেষজ্ঞদেরও কথা । সেইভাবে ম্যাসেজটা দেওয়া দরকার। আরেকটা কাজ হচ্ছে, আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে যারা মিথ্যা প্রাচরে ওস্তাদ। আমার ধারণা এই প্রোপাগান্ডার একটা বড় দল, যারা মুনাফার জন্য শুধু শ্রমিকদেরকে ব্যবহার করে।এরা মানবিক না। তারা চাচ্ছে যেকোন ভাবে পারুক শ্রমিকরা চলে আসুক।তাহলে তারা কারখানা খোলা রেখে কাজ করাতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি মানুষকে বাড়ি পাঠিয়ে ঘরে থাকার কথা বলবেন একই সাথে ফিরে আসাতে বাধ্য করবেন, তাতো হয় না। আমরা যদি নিশ্চিত করতে। পারতাম, লকডাউনে এলাকায়, ঘরে থাকলে চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে। এই কথাটুকু বললে অন্তত:  হুড়াহুড়ি করে ঢাকায় বা শহরে আসবে না। এছাড়া প্রয়োজনীয় ও “দিন আনি দিন খাই  “ মানুষদের খাদ্য-অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামসহ এলাকায় এলাকায় করোনা পরীক্ষাসহ ভ্রাম্যমান টিকিৎসা সহায়তা টিম গঠন করতে হবে। সামগ্রিকভাবে এসব কাজ  সমন্বিতভাবে করতে হবে। এটা সরকারকে করতে হবে ও সমন্বিত কার্যক্রমের উদ্যোগ নিতে হবে । তাহলে লকডাউন সফল করার বিষয়ে কিছুটা নিশ্চয়তা পাওয়া যেতে পারে।

বিষয়: সরকার , লকডাউন