ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য যা করা দরকার বিএনপি তাই করে’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ শুক্রবার, ০৩:৫৯ পিএম
‘নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য যা করা দরকার বিএনপি তাই করে’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেছেন, জেলা, থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়নে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ সকল কমিটিকে টার্গেট করে আগামী ডিসেম্বরের মাঝে সম্মেলন সমাপ্ত করার জন্য। আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছে, সময় নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। পাশাপাশি আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের শিডিউল ঘোষণা হবে, এটাতে হয়ত ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু কাজ বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কাজে কোন ধরনের বাঁধার সৃষ্টি হবে না।

আওয়ামী লীগের সম্মেলন, জেলা-উপজেলার কমিটি, বিএনপির আন্দোলন সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন।

আপনারা কি জেলা পর্যায়ের সম্মেলন আগে করবেন না থানা পর্যায়ে আগে করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আজম বলেন, জেলা পর্যায়ের সম্মেলনগুলো প্রস্তুত আছে যেমন রাজবাড়ীর সম্মেলন আগামী ১৬ অক্টোবর। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যে সমস্ত জেলায় কাজের অগ্রগতি কম সে সমস্ত জেলায় আমরা শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব পরিবর্ত করে ফেলবো আগে।

জেলা নেতৃত্বর ক্ষেত্রে কমিটিতে এমপি, মন্ত্রীদের না রাখা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, এমপি, মন্ত্রীদের জেলা কমিটিতে রাখা হবে না এই ধরণের কোন সিদ্ধান্ত আমাদের হয়নি। এমপিরা জেলা কমিটিতে থাকতে পারবে না এমনটি নয়, তারাও কমিটিতে থাকবেন। তারা তাদের কাজ করবে তবে তাদের মূল কাজ হবে দলকে সহযোগিতা করা। যারা জেলা থেকে সভাপতি কিংবা সম্পাদক হিসেবেই এমপি, মন্ত্রী হয়েছেন তিনি তো ওই পদে আছেনই। তবে যেসব ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের অভাবে কিংবা রাজনৈতিক কারণে অন্য পেশার মানুষ অথবা ব্যবসায়ীদের ধরে এনে নির্বাচন করানো হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগটি নেই।

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলগুলো কি সম্মেলনের মাধ্যমে বন্ধ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন্দল বন্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই আগাম সম্মেলন করা হচ্ছে। জেলাসমূহের কোন্দলগুলো নিরসনে নেতৃত্ব পরিবর্তন করা হবে। 

যেকোনো আন্দোলন মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুত কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে যেকোনো আন্দোলন মোকাবেলার জন্য সব সময় প্রস্তুত রয়েছে, কারণ আওয়ামী লীগ দুর্যোগ মোকাবেলা করেই অভ্যস্ত।

এখনো দুই বছর বাকি থাকতেই আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তো আসলে একটি নির্বাচন শেষ হতেই তার পরেরদিন থেকে আমরা পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকি। এক্ষেত্রে গত নির্বাচনের পর ইতিমধ্যে তিন বছর পার হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে দুই বছর বাকি থাকতেই আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছি। 

২০১৮ সালের মত বিএনপি সহ সকল দল আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা জানতে চাইলে মির্জা আজম বলেন, বিএনপি আসলে নির্বাচন করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না, তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে ভোটে দাঁড়ালে তারা পরাজিত হবে। অতএব নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য যা যা বলা দরকার, যা যা করা দরকার তা তারা করে। কখনো প্রার্থী প্রত্যাহার, কোন কোন নির্বাচনে তারা প্রার্থীই দেয়না, বিভিন্নভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করে তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করে থাকে।

আগামী নির্বাচন অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা টানা তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন, তাই আমি বিশ্বাস করি অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন হবে। সেজন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছি।