ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`মিডিয়া কভারেজের লোভে ভুঁইফোড় সংগঠনের সভায় মন্ত্রীরা যায়`

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার, ০৪:০০ পিএম
`মিডিয়া কভারেজের লোভে ভুঁইফোড় সংগঠনের সভায় মন্ত্রীরা যায়`

গতকাল সম্পাদকমণ্ডলীর একটা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। দশটায় আমাদের মিটিং সময় দেয়া হয়েছিল। দশটার আগেই পার্টি অফিসের নিচে আওয়ামী প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার লাগানো নিয়ে একটি সমস্যা দেখা যায়। গত কয়েকদিনে আমরা সবকিছু নিয়েই এই বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছি, যেখানে দলের অবস্থান, নেত্রীর অবস্থান সবকিছু নিয়েই আমরা পরিষ্কার যে এখানে কোনো ভুঁইফোঁড় সংগঠন থাকবে না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেছেন, আওয়ামী লীগের যে ভুঁইফোঁড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন প্রজন্ম লীগ ইত্যাদি নানা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হপচ্ছে। এই ঘটনা সম্পর্কে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মির্জা আজম ভুঁইফোঁড় সংগঠন সম্পর্কে তার বক্তব্য, দলীয় ও সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে নানা দিক ব্যাখ্যা করেছেন।

ভুঁইফোঁড় সংগঠন মানে গঠনতন্ত্রের বাইরে কোনো সংগঠন থাকবে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গঠনতন্ত্রের বাইরে এমন কিছু সংগঠন রয়েছে, যেগুলো নেত্রী নিজে গঠন করেছেন। যেমন মোটর চালক লীগ, শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ইত্যাদি। এই সংগঠনগুলো আওয়ামী লীগের দুঃসময় থেকেই তৈরি করা হয়েছিল। এরকম দুই একটি সংগঠন আছে, যেগুলো আমাদের গঠনতন্ত্রে নেই। বাকি সবগুলোই ভুঁইফোঁড় সংগঠন। এদের কাজকর্ম সরকারের পক্ষ থেকে এবং দলের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এরপর আমরা ওপরে যাই। দলের অন্যান্য নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে বুঝতে পারি যে ভুঁইফোঁড়দের বিরুদ্ধে এতকিছু করবার পরও আজকের বিষয়টি তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে প্যান্ডেল টানিয়েছে। এদের প্যাড কিংবা অন্যসবকিছুর মধ্যে ঠিকানা হিসেবে লেখা ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। তারা জানে যে আজকের মিটিঙে ওবায়দুল কাদেরসহ দলের সাংগঠনিক আরও নেতারা থাকবেন। তাদের সামনে মিটিং করে পার পেয়ে যাওয়া মানেই হচ্ছে ৩৭০টি ভুঁইফোঁড় যে তালিকাটি আমরা পেয়েছি, তাদের সবাইকে বৈধতা প্রদান করে দেয়া। তাই দেরি না করে এদেরকে এখনই ধরা উচিত। এরপর বিপ্লব বড়ুয়া এসে বললেন যে আমি খবর দিয়ে তাদেরকে চলে যেতে বলেছি। এভাবে চলে গেলে কিংবা সাইনবোর্ড খুলে নিয়ে গেলে তো কোনো খবর হবে না। তখনও ওবায়দুল কাদের সাহেব পার্টি অফিসে এসে পৌঁছোননি। তার কাছে অনুমতি নেয়ার জন্য খবর পাঠানো হলো। তিনি অনুমতি দিলেন না। বললেন এদেরকে যত দ্রুত সম্ভব উঠিয়ে দিতে। পুলিশ তাদের কাছে যাওয়াই লাগেনি। এর আগেই তারা চলে যায়।

এমন ভুঁইফোঁড় সংগঠনের সভায় আগে দেখা যেতো আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতারাও যেতো। এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কালকের মিটিঙে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা আগে একসময় এমন সভায় যেতো। এখন তারা আর যায় না। এখন যায় অনেক মন্ত্রীরা। তারা যায় কারণ এখানে অনেক মিডিয়া কভারেজের লোভ থাকে। এইজন্য তারা এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনদের সভায় যায়। গতকাল মিটিঙে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে আর কোনো মন্ত্রী যেন এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের কোনো সভায় না যায়।

ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত কিংবা সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সংগঠনগুলোর সৃষ্টি হয় বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করার জন্য, বিভিন্ন অফিস-আদালতে গিয়ে সরকারের লোককে প্রভাবিত করার জন্য। টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করার জন্য। শুধু তাই নয়, এদের তো আবার অনেক শাখা-প্রশাখা থাকে। যেমন সম্প্রতিই আমরা দেখতে পেলাম হেলেনা জাহাঙ্গীরের চাকরিজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এরপর তারা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলো যে থানা এবং জেলা পর্যায়ে কমিটি দেয়া হচ্ছে। কমিটি নিতে যারা আসবে, তাদের কাছ থেকেও টাকা খেয়ে এরা কমিটি দেয়। যারা এমন কমিটি নিতে আসে, তাদের মাঝেও চাঁদাবাজি কিংবা টেন্ডারবাজির আকাঙ্খা থাকে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে পুরোটাই হচ্ছে প্রধান সংগঠনের নাম ভাঁড়ানোর জন্য তারা এমন করছে। সামনে আওয়ামী রাখে এবং পেছনে লীগ রাখে। এরপর এসব নাম ব্যবহার করে তারা সমাজের যত অপকর্মমূলক কর্ম আছে, এগুলোই করে বেড়াতো বেশি।

গতকাল এই ঘটনার পর এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোকে একটা বার্তা দেয়া হয়েছে পরিষ্কারভাবে। এই বার্তা পেয়ে এমন ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোর যথেচ্ছাচার কমবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে আগেও এমন পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়েছে কিন্তু গতকাল একটা কড়াভাবে উত্তর দেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে টাকা আয় করার উদ্দেশ্যে যারা চলে, তারা হচ্ছে খারাপ প্রকৃতির লোক। এরা যদি ভালো হয়ে যেতো, তাহলে তো দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো প্রয়োজন পড়তো না। এরা থাকবে, কিন্তু যখনই এদের বিরুদ্ধে কোনো অপতৎপরতার খবর পাওয়া যাবে, তখনই ব্যবস্থা নেয়া হবে।