ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘বেগম জিয়া বলেছিলেন, শিশু আর পাগল ছাড়া নিরপেক্ষ লোক নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার, ০৪:০০ পিএম
‘বেগম জিয়া বলেছিলেন, শিশু আর পাগল ছাড়া নিরপেক্ষ লোক নেই’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, আমরা মনে করি, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া একসময় বলেছিলেন শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নেই। ৯১ সালে সামরিক শাসকদের হাত থেকে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। গণতন্ত্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গণতন্ত্র বুটের তলায় পিষ্ট হয়েছে। সেই গণতন্ত্রকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে বিএনপি যখন ক্ষমতায় এলো, মানুষ তখন তাদের কাছে প্রত্যাশা করেছিল যে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। আমার ভোট আমি দিতে পারব, এই ছিল মানুষের প্রত্যাশা।

নির্বাচনের আরও দুই বছর বাকি আছে। কিন্তু এরমধ্যেই বিএনপি বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, নিরপেক্ষ হবে না। চলমান ইস্যুতে বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, কিন্তু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি আবারও জিয়া এরশাদ স্টাইলে নির্বাচন করলো। গুণ্ডা দিয়ে তারা ভোটকেন্দ্র দখল করলো। ব্যালটে সিল মেরে বাক্স লুকোনোর প্রক্রিয়া শুরু করলো। তার প্রতিবাদেই জননেত্রী শেখ হাসিনা যিনি বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন, তিনি বললেন যে এই বিএনপি সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। আমরা নিরপেক্ষ নেতৃত্বে নির্বাচন চাই। এই আন্দোলন যখন তিনি শুরু করলেন, তখন জনগণ সাড়া দিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বললেন শিশু আর পাগল ছাড়া নিরপেক্ষ লোক নেই। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তথাকথিত একটি ভোট ডাকাতি নির্বাচন করার মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলেন। কিন্তু জনতার দাবির মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি বাস্তবায়ন করলো, সংবিধানে তা সন্নিবেশিত হলো। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একমাত্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জননেত্রী শেখ হাসিনাই  শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন ২০০১ সালে। তাছাড়া কেউই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নাই। ক্ষমতায় যেনতেনভাবে থাকতে চেয়েছে। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রায় এককোটি  একুশ লক্ষ ভুয়া ভোটার করেছিলেন, পছন্দমতো ছাত্রদলের দলীয় দেড়শ ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার করেছিলেন, এবং তাদের পছন্দমতো লোককে প্রিসাইডিং অফিসার করেছিলেন। এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই সেদিন ভোটার বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সংবিধানকে লঙ্ঘন করে তাদের পছন্দমতো লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করার জন্য তাদের দলের একসময়ের যে নেতা ছিল, সে বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করার জন্য হঠাত করে বিচারপতিদের বয়স বৃদ্ধি করলেন। যার ফলে মানুষের মনে সন্দেহ হলো বিএনপি মানুষের ভোটের অধিকার আবার হরণ করতে চায়। তাই সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জামাত, বিএনপি, মুসলীম লীগ বাদে আর সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হলো খালেদা এবং তার ছেলে তারেকের এই দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে। এবং তার প্রমাণ সেদিনকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, খালেদা জিয়ার একগুঁয়েমি এবং তারেক জিয়ার যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্রের কারণেই আজকের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্কিত হলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত করেছে, হত্যা করেছে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া এবং নিজামি। তারা দুজন মিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আপনারা যে গত দুটো নির্বাচন করেছেন, তাতে কোনো দল অংশগ্রহণ করেন, ১৫৩ জন বিনাভোটে নির্বাচিত হয়েছে এবং গতবারের নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে বলছে যে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী যে নির্বাচন হয়, সে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য, সব দলকে অংশগ্রহণ করার জন্য সেদিন সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে বলা হয়েছিল যে আসেন আমরা আলোচনায় বসি। সেদিন তিনি যে ব্যবহার করেছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে, জাতি তা জানে। যেখানে মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে কথা হচ্ছে, সেখানে মতিউর রহমান নিজামীর মুক্তির দাবিতে হরতাল ছিল বলেই সেদিন খালেদা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই বিএনপি-জামাতের একটি শক্তিশালী জোট যারা বাংলাদেশকে চায়নি বরং পাকিস্তানকে চেয়েছিল, সে শক্তির প্রতিবিধিত্ব করে বিএনপি। এই বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তাহলে বাকি যেসব রাজনৈতিক দল আছে, তারা সবজায়গায় প্রার্থী দিতে পারবেনা। যার ফলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, অসাংবিধানিক শক্তিকে উত্থিত করার জন্য বিএনপি সেদিন নির্বাচনে যায়নি। না যাওয়ার কারণেই অন্য কোনো দল প্রার্থী না দেবার কারণে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতেছে। কিন্তু নির্বাচন তো ঠিকই হয়েছে। আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের যে নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে নির্বাচন করার জন্য বিএনপি যায়নি। নইর্বাচন কমিশনের রেজিস্টারভুক্ত নয় এমন অনেক দলকেও গণভবনে ডেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকে কথা বলেছেন। একটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকে। বিএনপি মনোনয়ন বাণিজ্য করার জন্য নির্বাচনে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, যখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলো, তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ জননেত্রী শেখ হাসিনা তার জোটের প্রার্থী নির্বাচিত করে দিয়ে ১৫ দিন ধরে সারা বাংলাদেশ চষে বেড়াচ্ছিল ক্ষমতাসীন দল। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তার নির্বাচনী এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ দিন পর্যন্ত বিএনপি কোনো একক প্রার্থী দিতে পারেনি। ডক্টর কামাল হোসেন যখন ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন যখন ২০ জন জামাত নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হলো, তখন শোনা গিয়েছে যে তারেক জিয়া বিপুল পরিমাণে উৎকোচ গ্রহণ করার কারণে এই ২০ জন জামাত নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা লোক দেখানোর জন্য নির্বাচন করেছে, মনোনয়ন বাণিজ্যের জন্য নির্বাচন করেছে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে তিনি কী মনে করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ বিএনপির সাথে নেই। সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ ধারা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা, নির্বাচন কমিশনের কী দায়িত্ব তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র সংস্থা। এখানে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবেন, সব দল রাজনৈতিকভাবে অংশগ্রহণ করবে। যখন নির্বাচন ঘোষিত হবে, তখন সব সংস্থা নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে। বিএনপি যদি আন্দোলন করতে পারে, তাহলে ভালো কথা। বাংলাদেশের জনগণ বিএনপির আন্দোলনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। বিএনপির আন্দোলন হচ্ছে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন, গান-পাউডারের আন্দোলন, অন্তসত্ত্বা মহিলাকে পুড়িয়ে মারার আন্দোলন।  বিএনপির আন্দোলন মানেই ঘৃণা। এছাড়া আর কিছু নেই।