ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনকে আরও সচেতন হতে হবে’

মাহমুদুল হাসান তুহিন
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার, ০৪:০০ পিএম
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনকে আরও সচেতন হতে হবে’

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, করোনা সংক্রমণ কম হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি এখনও সেভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ডেঙ্গুর প্রকোপটাও আগের চেয়ে একটু বেড়েছে। মেয়র তাপস আজ বলেছেন যে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলায় সক্ষম। এই বিষয়গুলো তিনি কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে বলেন, প্রায় সাড়ে ছয় মাস পরে আমাদের করোনা পরিস্থিতি আগের চেয়ে একটু উন্নত হয়েছে। শনাক্ত এবং সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে চলে এসেছে। এই মুহূর্তে আমরা মনে করি যে শনাক্তের হার কমে এলেও কিন্তু যে কোনো সময় তা আবার বাড়তে পারে।

করোনার টিকা, করোনা ও ডেঙ্গু সংক্রমণ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন তৃতীয় ঢেউ কিংবা চতুর্থ ঢেউ হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ভ্যারিয়েন্ট বের হবার একটা সম্ভাবনা সবসময় থেকেই যায়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, খেলার মাঠ, হাসপাতাল, চিত্তবিনোদন কেন্দ্র- সবজায়গাতেই সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও এটি নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। তা নইলে যে কোনো সময় সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি আমাদের টিকাদান কর্মসূচিও একটি ধারাবাহিকতার মধ্যে চলে এসেছে। এই ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম আরও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। অনেক সময় নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসবার সম্ভাবনা থাকে। আমাদের সরকারের টিকাদান কর্মসূচি যদি নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়, তাহলে কোনোরূপ শঙ্কা থাকার কথা নয়। আর নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় যে টিকা উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলছে, সেটিও দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। তাহলে আমাদের এই জনগোষ্ঠীকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা যাবে। তাহলেই আমরা তৃতীয় ঢেউ থেকে শঙ্কামুক্ত থাকব।

তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের দেশে যেহেতু ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাব একটু কমে এলেও ডেঙ্গু বিষয়ক শঙ্কা থেকে আমরা একদমই মুক্ত হয়েছি, তা বলা যাবে না। পাশাপাশি ঢাকা শহরেও ডেঙ্গু আক্রমণের হার একদম কম নয়। হাসপাতালে আমরা অনেক রোগী দেখি যার ডেঙ্গু এবং কোভিড দুটোই একসাথে হয়েছে। যদি কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক থাকেন যারা আগে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা করেছেন এবং একইসাথে কোভিড রোগীর চিকিৎসা কেমন হবে তা সম্পর্কে জানেন, তাহলে আমরা তার কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা বা গাইডলাইন নিতে পারি। আমরা মনে করি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এই মুহূর্তে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না কিন্তু এটা তো কোনো সমাধান নয়। সমাধান হলো প্রিভেনশন। প্রিভেনশনের প্রেক্ষাপটে আমাদের দুটো জায়গায় কাজ করতে হবে। একটি জায়গা হলো সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় সরকারে যারা আছেন, তারা এটি প্রিভেনশনের দায়িত্বে কাজ করবেন। চিকিৎসকদের কাজ হলো চিকিৎসার দায়িত্ব। চিকিৎসাব্যবস্থায় যেহেতু আমাদের সক্ষমতা আছে, সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে কাজের জায়গায় আরও একটু নজর দেয়া প্রয়োজন। সেটা প্রচার-প্রচারণা হোক কিংবা মশক নিধন অভিযান হোক, যেভাবে সম্ভব এটি তাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে। আরও একটি বিষয় হলো আমাদের এখনকার সময়ের দাবি। স্থানীয় সরকারের অধীনে একটি কীট পতঙ্গ বা এনটমোলজি ডিপার্টমেন্ট হওয়া উচিত বা কেন্দ্রীয় সেল গঠন করা উচিত। তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দ্বারা কাজ করবে।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, তারা মশা নিয়ে কাজ করবে, কীভাবে মশা নিধন এবং নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করে তাদের এই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। পারিবারিকভাবে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের সবারই নিজেদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। নিজের সুরক্ষা নিজেকেই করতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, নিজের বাড়ি এবং আশেপাশে পরিষ্কার রাখতে হবে। স্কুল কলেজ, অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জায়গাগুলো একটু চ্যালেঞ্জিং। এই জায়গাগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগে সিটি কর্পোরেশনকে তা নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে নজরদারির মাধ্যমে এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তাহলেই আমরা ডেঙ্গু এবং কোভিড নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।