ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘সব সমস্যার সমাধান আমলাতান্ত্রিক উপায়ে করা যায় না’

মাহমুদুল হাসান তুহিন
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ শনিবার, ০৪:০০ পিএম
‘সব সমস্যার সমাধান আমলাতান্ত্রিক উপায়ে করা যায় না’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, স্কুল খুলেছে, তার এক সপ্তাহও তো এখনও হয়নি। সব শ্রেণিও খোলেনি। একটি বা দুটি শ্রেণি খুলেছে। এটা ঠিক যে কিছু কিছু এলাকায় সংক্রমণ ঘটেছে। তবে সেটি যে স্কুলে আসার কারণেই হয়েছে, তা সঠিক বলা যায় না। তবে ঘটনা যেটি ঘটেছে, সেটি তো অস্বীকার করার আর কোনো উপায় নেই। যা করার উচিত, তা হলো এই ঘটনা নিয়ে প্যানিক সৃষ্টি করার কোনো দরকার নেই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নির্ধারিত সময়ে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, সারা বিশ্বেই এমন ঘটনা ঘটেছে। যারা আক্রান্ত হয়েছে, তাদেরকে স্কুলে পাঠাবার দরকার নেই। আর এখানে অভিভাবকদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। আমাদের তো বয়স হয়েছে। আমরা বাইরে খুব কম যাই। যখনই বাইরে যাই, বাড়িতে ঢুকেই গোসল করে ফেলি, পোশাকগুলো সব ধুয়ে ফেলি। বাচ্চারা স্কুল থেকে বাড়িতে এলে অভিভাবকদের দায়িত্ব হবে তাদেরকে পরিষ্কার করিয়ে দেয়া, কাপড়গুলো নিয়ে ধুয়ে দেয়া। এগুলো হচ্ছে কিছু সতর্কতা, যা অভিভাবকদের পালন করতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষকেও এই ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ ভারত, দিল্লি এসব জায়গাতেও এমন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে স্কুল খুলে দেবার পর। পরে তাদেরকে স্কুলে আসতে মানা করে দিয়ে আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং একইসাথে অভিভাবকদেরও কিছু দায়িত্ব আছে।

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে তা সময়মতোই অনুষ্ঠিত হবে। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষার্থীদের পাশ করিয়ে দেয়া উচিত হবে না। এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা যে শুধু স্কুল-কলেজেই নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই তা নেয়া যেতে পারে। দরকার হলে তিন ঘণ্টার সময় কমিয়ে দুই ঘণ্টায় নিয়ে আসা যেতে পারে। আমাদের একটি রেওয়াজ আছে যে এইচএসসি পরীক্ষা কলেজেই অনুষ্ঠিত হবে।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, দুটো পরীক্ষা যেহেতু দুই সময়ে নেয়া হবে, তাই যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা গ্রহণ করার সুযোগটি আমরা গ্রহণ করতে পারি। ম্যানেজমেন্টেরও কিছু ব্যাপার আছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরির পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। স্কুল কলেজের এই পরীক্ষাগুলোও এমনভাবে নেয়া যেতে পারে। এমআইএসটি, বিইউপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ভর্তি পরীক্ষা ও সিমেস্টার পরীক্ষাগুলো সময়মতো নিয়ে নিয়েছে। তারা সবাই কিন্তু সশরীরে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষাগুলো দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটা আসলে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় আমাদেরকেই বের করতে হবে। আমাদের সময়ও আমরা এমনটি দেখেছি। সব সমস্যার সমাধান আমলাতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান করা যায় না। এখানে শিক্ষাবিদদেরও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, যারা এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেন। তাদের কাছ থেকেও সুপরামর্শ নেয়া যেতে পারে, কিন্তু এটি খুব একটা করা হয় না।