ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

`নির্বাচন কমিশন গঠন করা জরুরী, কিন্তু আইনের স্বচ্ছতা প্রয়োজন`

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ রবিবার, ০৪:০২ পিএম
`নির্বাচন কমিশন গঠন করা জরুরী, কিন্তু আইনের স্বচ্ছতা প্রয়োজন`

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সাধারন সম্পাদক ড.বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইলেকশন কমিশন গঠন হলেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকার লাগবে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন করা খুবই জরুরী, তবে সেখানেও কিন্তু আইনের স্বচ্ছতা লাগবে। যে কোনো ব্যক্তিই প্রস্তাব করতে পারবে। আইনের দৃষ্টিতে যোগ্যতার কিছু মাপকাঠি আছে। প্রাথমিক বাছাই করে একটি প্যানেল তৈরি করতে হবে এবং প্যানেল তৈরি করে এদের নামগুলো ঘোষণা করতে হবে। প্রাথমিক বাছাইতে যারা নির্বাচিত হবে, তাদের সকলের নামই ঘোষিত হবার পর আলাপ-আলোচনা চলতে পারে।

নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন গঠন, সুষ্ঠু নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইত্যাদি বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

নামগুলো যখন চূড়ান্ত হবে, তখন গণশুনানি হতে পারে। কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের নাম নির্বাচিত করা হলো, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। গতবার নাম যখন প্রকাশিত হয়েছে, তখন গেজেট পেয়ে গিয়েছে। আমেরিকান এক বিখ্যাত  লিগ্যাল জাস্টিস বলেছিলেন যে সানলাইট ইজ দ্য বেস্ট ডিসইনফেকট্যান্ট, অর্থাৎ সূর্যের আলোতে কোনো অন্যায় হয় না। কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের সুপারিশ করা হলো, তা যদি প্রকাশ হয়, তাহলে কোনো অন্যায় সংঘটিত হবার আশঙ্কা থাকে না। নির্বাচন কমিশন যদি সঠিকভাবে পুনর্গঠন করা যায়, তারাও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন যদি না হয়, তাহলে আমরা নির্বাচন বন্ধ করে দেবো, এমন একটি কথা নির্বাচন কমিশন বলতে পারে। সে ক্ষমতা তাদের আছে।

নির্বাচন কমিশন নির্বাচন বন্ধ করে দেয়ার এখতিয়ার রাখে কিনা, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাতকে দিন করা, দিনকে রাত করা, পুরুষকে নারী বা নারীকে পুরুষ করা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের খাতিরে সবকিছু করার ক্ষমতা আছে। এটি আমাদের ও ভারতের উচ্চ আদালতের রায়। সংসদ সুষ্ঠু নির্বাচনের খাতিরে আইনবিধির সাথে সংযোজনমূলক হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন কেন হাতের পুতুলের মতো হয়ে যায়, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে আসবার পর নুরুল হুদা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছেন। তার সাথে যখন আমার নির্বাচন কমিশনে প্রথম দেখা হয়, উনি আমার সাথে এমন আচরণ করলেন যেন আমাকে একদম চেনেনই না। আসবার সময় আমি তাকে বলে আসলাম যে আপনি একদমই বদলে গিয়েছেন। এরাই আসলে তেমন মানুষ, যাদেরকে এই কাজগুলো চরিতার্থ করবার জন্য বাছাই করা হয়। তার এখন এই কাজের কোনো দরকার ছিল না, কিন্তু পরিস্থিতির জন্য তাকে এই আসনে এনে বসানো হয়েছে। নইলে তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক আগে থেকেই চিনি। হুট করেই তার এভাবে বদলে যাবার কথা নয়। এই অবস্থার তো পরিবর্তন হতে হবে। এই পরিবর্তন না হলে আমরা ভয়াবহ একটি পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হতে পারি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে তার কি মন্তব্য, এই সম্পর্কে তিনি বলেন, আপনি যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লেখাগুলো পড়েন, ওনার একটা বই আছে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কিছু চিন্তাভাবনা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ওখানে তার একটি আর্টিকেল আছে। ওখানে তিনি বলেছেন যে যারাই ক্ষমতায় থাকে, তারা নির্বাচনকালীন সময়ে কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পারবে না। মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। আমি বলছি না যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে। এমন একটি সরকার আমাদের প্রয়োজন যারা নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ আচরণ করবে। এখন যে সরকারই থাকুক না কেন, আমাদের চাওয়া, তার মাঝে ওই গুণগত পরিবর্তন আসতে হবে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের জন্য অনেকগুলো অংশীজন আছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশীজন হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এরপর আসে রাজনৈতিক বিভিন্ন দল। গণমাধ্যম, নাগরিক, সুশীল সমাজ- সবারই একটি ভূমিকা আছে। তবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এখানেও কথা আছে। সবচেয়ে কার্যকর কিংবা করিতকর্মা নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে না, যদি না সরকার এবং প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সহায়তা না করে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে সময়ে হয়েছিল, সে সময়ে দলীয় লোকেরা তাদের দলীয় ভূমিকাই পালন করেছিল। তখনও চরমভাবে দুর্নীতি হয়েছিল। আমি আগেই একবার বলেছিলাম যে সস্তার তিন অবস্থা। এখন নির্বাচন কমিশন যদি ঠিকভাবে তাদের কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে না পারে, তাহলে আমরা চরম দুর্দিনের মাঝে যাবো।

ওয়ান ইলেভেনের সময় বিরাজনীতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ছবি এবং মুজাফফর আহমেদ চৌধুরীর ছবি দিয়ে ব্যানার করে সংবাদ করা হয়েছিল। তিনি কিন্তু এই সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। যেদিন ওয়ান ইলেভেন হলো, সেদিন আমি, মঞ্জুর হাসান এবং আরও কয়েকজন মিলে অফিসে একটা মিটিং করে এখন যে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়, তা নিয়ে গিয়েছিলাম প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের অফিসে। আমার বিরুদ্ধে এখন যারা অভিযোগ করছেন, নানা কথা বলছেন, আমি তখন এসবের বিষয়ে কিছুই জানতাম না। স্থানীয় সরকারের কমিটির রিপোর্ট দেবার জন্য আমি ফখরুদ্দিন সাহেবের সঙ্গে একবার দেখা করেছিলাম, কারণ তখন আমি ঐ কমিটির অংশ ছিলাম। তাই আমি তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাথে দেখা করেছিলাম।

আমি একদিন আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে বললাম যে আপনি এই যে ব্যানার হেডলাইনটা করলেন সেটা কিসের ভিত্তিতে করলেন। তো বললো যে আপনি একটি প্রতিবাদলিপি দেন। আমি বললাম প্রতিবাদলিপি কি, এর তো সামান্য সত্যতা নাই। এটা হলো প্রোপাগান্ডা।

এখন অনেকে মনে করে প্রথম আলো-ডেইলি স্টার গোষ্ঠী যারা বিরাজনীতিকরণ করতে চায় তাদের সাথে আপনার একটা রাজনৈতিক অংশ আছে যেখানে আপনাদের মূল টার্গেট হলো ক্ষমতায় আসা এবং রাজনীতিকে বাহিরে পাঠিয়ে দেওয়া। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি একজন একটিভিস্ট। আমি একজন কলাম লেখক নই। আমি একটিভিস্টও ছিলাম না। আমি আমেরিকাতে শিক্ষকতা করেছি বহুবছর। আমি একজন একটিভিস্ট হিসেবে কলাম লেখা শুরু করেছি। প্রথম ইংরেজীতে লেখা শুরু করেছি, এখন বাংলায় লিখি। আমার কলামগুলো অনেকে ফলো করে। আমার কিছু পাঠক আছে। আমি তথ্য দিয়ে লেখার চেষ্টা করি।

আপনার যে এ্যাসোসিয়েশন যাদেরকে নিয়ে কাজ করছেন বা আপনার যে চিন্তাভাবনা যে রাজনীতিকে নির্বাসনে পাঠিয়ে সুশীলদের সরকার গঠন করা নিয়ে নানা রকম ধুম্রজাল আছে। এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আপনার বিরুদ্ধে বহু কথা বাজারে প্রচলিত আছে, বহু লোক বহু কথা বলে। আমি তো কোনকিছু লুকিয়ে করছি না।