ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে গণটিকা স্রেফ চাটুকারিতা’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ সোমবার, ০৪:০০ পিএম
‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে গণটিকা স্রেফ চাটুকারিতা’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সলান বলেছেন, বিগত সময়ে আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে আমরা দেখেছি যে এটি হঠাৎ করে নেয়া একটি সিদ্ধান্ত এবং আমি মনে করি না এই কার্যক্রম এখন পরিচালিত করার মতো প্রস্তুতি আমাদের আছে। আগামীকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে জন্মদিন, সেটিকে সামনে রেখে যে উদ্যোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছে, সেটি যদি আরও আগে গ্রহণ করা হতো এবং প্রস্তুতি নিয়ে শুরু করতো তাহলে উদ্যোগটি ভালোভাবে পরিচালিত করা যেত। এতে একটা জিনিস বোঝা যাচ্ছে যে, তারা এই উদ্যোগটি ২৮ তারিখেই করতে চাচ্ছে এবং তারা বলছে যে ২৮ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে তারা এই ৮০ লক্ষ গণটিকা দেবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি এভাবে সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি খুবই ভালো অবশ্যই। সম্মান প্রদর্শনের জন্য তারা আসলে এটা করছে।

আগামীকাল একযোগে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আগামীকাল করোনাভাইরাসের ৮০ লক্ষ ডোজ টিকা প্রদানের গণটিকা কার্যক্রম সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন ডা. ইকবাল আর্সলান।

ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, অতীতে তারা এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ যে টিকা দিয়েছিলেন, সেটি হচ্ছে ৩০ লক্ষ। গণটিকা দেয়ার সময় যে অব্যবস্থাপনা, মানুষের দুর্ভোগ, হয়রানি ইত্যাদি আমরা যা পর্যবেক্ষণ করেছি, এতে আমি মনে করি না যে এই মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাই যদি হতো, তাহলে এই ঘোষণাটি আরও আগেই আসতো। যেহেতু হঠাৎ করে আগের দিন এই ঘোষণাটি এলো এবং কোনো প্রস্তুতি ছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হলো, এই কর্মসূচি দ্বারা মানুষের হয়রানি করাটাকে আমি মনে করি না কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সরকারের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ছিল ৩২ লাখ। সেখানে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বলছে ৭৫ লাখ আবার সংবাদ সম্মেলনে বললো ৮০ লাখ ডোজ টিকা এবং সেটি একদিনেই কেন দিতে হবে। এটা এক ধরণের চাটুকারিতা বা অতি উৎসাহ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্যে বা এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের চাইতে যে অসম্মান প্রদর্শন সেটি আসলে এখানে উদ্ভাসিত হবে। এটা তো অবশ্যই চাটুকারিতা।

করোনা সংক্রমণ তো এখন কমে গেছে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এখন তো মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। আপনি কি মনে করেন বা এমন কোন শঙ্কা করেন যে সংক্রমণ আবার বাড়ার কোন সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাড়ার তো সম্ভাবনা আছেই। কারণ কোভিড সংক্রমণ কিন্তু হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগে যেগুলো আমরা দেখি বা জানতে পারি তাতে কিন্তু সংক্রমণ আছে। এখন কথা হচ্ছে যে মানুষের যে অসতর্কতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা এবং যে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিভিন্ন পর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেখতে পাচ্ছি তারা মাস্ক ছাড়া একজন আরেকজনের গায়ে গায়ে বসে ফটোসেশন করছে এগুলো তো সেখানে উপস্থিত যে সমস্ত সাধারণ মানুষ আছেন তারা কিন্তু একটি ভুল বার্তা পাচ্ছেন। এই ভুল বার্তার ফলে আমাদের মত যে সমস্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব সে রাজনৈতিক হোক, সামাজিক হোক আর প্রশাসনিক হোক তাদেরকেই নিতে হবে। তারা কিন্তু এই ভুল বার্তাটা সাধারণ মানুষকে দিচ্ছেন।