ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আমরাই ধ্বংস করছি আমাদের পৃথিবী !

মোঃ হৃদয় মিয়া
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ শনিবার, ১১:১৯ এএম
আমরাই ধ্বংস করছি আমাদের পৃথিবী !

পার্বত্য চট্টগ্রামের সিতাকুন্ড ও মিরসড়াই এলাকায় নাম না জানা  অসংখ্য মনোমুগ্ধকর পাহাড়ি ঝর্ণা আছে। যেমন:রুপসী ঝর্ণা, সহস্রধারা ঝর্না, খৈয়াছরা ঝর্না, নাপিত্যাছড়া ঝর্না, বোয়ালিয়া ঝর্না, বাড়বাকুন্ড ঝর্না। অপরূপ সুন্দর এই ঝর্ণাগুলো। অনেক পর্যটক বিভিন্ন ভাবে সুন্ধান পেয়ে চলে আসেন দুর্গম পাহাড়ি এই ঝর্ণাগুলোতে। একটুখানি প্রশান্তির জন্য।
এই এলাকাগুলোতে মূলত নৃগোষ্ঠীই মানুষদের বসতি। এ মানুষ গুলো মূলত পাহাড়ের উপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করে থাকেন।পাহাড়ি গাছপালা আর ঝর্ণার পানি দিয়েই তারা তাদের সকল চাহিদা মিটিয়ে থাকেন।

সারাদেশ যখন করোনা নামক মহামারিতে প্রায় ৬ মাস অঘোষিত লকডাউনে বন্দি তখন,কিছু মানুষ একটু বের হওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলো।  প্রকৃতির টানে ভ্রমনে বের হতে ব্যাকুল হয়ে উঠলো তাদের প্রকৃতি প্রেমি হৃদয়। কিন্তু বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র গুলো তখনও সচল হইনি। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাহাড়ি  ঝর্ণার সন্ধান পেয়ে অনেক পর্যটক সেই ঝর্না গুলোতে ভিড় করেন। স্থানীয় এক গাইড  নাম মনির হোসেন (২০) জানান যে,যেখানে বছরে ৫০০-১০০০ পর্যটক আসে না। সেখানে একদিনে ৭০০ বেশি মানুষ আসছে।তিনি আরো জানান যে,পর্যটকরা আসছেন ঠিকই কিন্তু,  কেউ  স্বাস্থ্য বিধি  মানছেন না। মাক্স পরা বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না। সবাই যার যার মতো আনন্দ হৈ-হুল্লোড় করছে, ঝর্ণাতে গোসল করছে প্রত্যেক পর্যটক গ্রুপ  যার যার মতো উপভোগ করছে প্রকৃতির এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে !

কিন্তু কয়েকটা দল  চিপসের প্যাকেট থেকে শুরু করে বিরিয়ানির প্যাকেট এবং কোমল পানীয়র বোতলটা  অব্দি পানিতে কিংবা ঝর্ণার দ্বারে  যেখানে সেখানে ছুঁড়ে ফেলতে লাগল ! শুধু তারাই নই বরং এর আগেও যারা এসেছিল তারাও কিছু না কিছু ফেলে গেল। এমনকি শিশুদের ডায়াপারটা সহ। হাজার বছর ধরে পাহাড়ি মানুষরা পাহাড়ের এসব ঝর্ণার পানির উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে আসছেন। আমাদের দেশের সৌন্দর্যের একটা বড় অংশ হলো  পাহাড়,  পাহাড়ি ঝর্ণা  আর এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সাধারন জীবন যাপন। অত্যান্ত পরিতাপের বিষয় তারা আজ আমাদের বিলাসিতার বা অসচেতনতার শিকার হয়ে অস্তিত্বহীনতায় ভুগছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ সমস্ত ময়লা আবর্জনায় আটকে যেতে পারে মনোমুগ্ধকর এ সকল ঝর্নার গতি পথ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে প্রকৃতির এই অনাবিল সৌন্দর্যের লীলাভূমির এই অপার সৌন্দর্য । আমরা যেনো আমাদেরি ধ্বংসের কারণ না হয়ে দাঁড়াই। সচেতনতা আর সাবধানতাই পারে আমাদের পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো আর এখানে বসবাসকারী নৃগোষ্ঠী গুলকে বাঁচাতে।

 

নামঃ মোঃ হৃদয় মিয়া

বয়সঃ ২০+

কলেজ: চিটাগং গভর্নমেন্ট সিটি কলেজ