ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনা করেনি করুণা

শুকরিয়া আকতার মুন্নি
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ শনিবার, ১১:১০ এএম
করোনা করেনি করুণা

আমি শুকরিয়া মুন্নি। থাকি চট্টগ্রাম শহরে। করোনা ভাইরাসের তান্ডবে পুরো বাংলাদেশ দীর্ঘসময় লকডাউনে ছিল। যদিও লকডাউন শেষ হয়েছে তবে শেষ হয়নি করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব। লকডাউন শেষ হওয়ায় এবং ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে এসেছি ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বরিশাল গ্রামে।

আমার গ্রামটি দেখতে অনেক সুন্দর। সবুজে সবুজে ভরা গ্রামটা যেন সজিবতায় ভরা। কিন্তু সজিব, সতেজ আর মুখভরা হাসি নেই দেশের গ্রামীন মানুষগুলোর মুখে। কারণ গ্রামের লক্ষাধিক নিম্নশ্রেণীর ও মধ্যবিত্ত পরিবার শহরে বসবাস করতেন, থাকতেন ভাড়া বাসায়। ছাত্রদের কেউ কেউ থাকতেন ব্যাচেলর। করোনার কারণে চাকরি হারিয়েছেন হাজার পরিবারের গৃহকর্তা। চাকরি হারানোর পরে আয় উপার্জনের ভিন্ন পথ খুজেও ব্যর্থ হন অনেকে। যার ফলে বেশিরভাগ মানুষ সব হারিয়ে ভাগ্যকে মেনে নিয়েছেন। তিলে তিলে গড়া সংসারকে মাত্র একটি ট্রাকে নিয়ে ফিরেছেন গ্রামে। দীর্ঘ লকডাউনের কারনে ভেঙ্গে পড়েছে দেশের  অর্থব্যাবস্থা। বেড়েছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা। এসব কারনে গ্রামের মানুষের মধ্যে বাড়ছে বিষণ্ণতা। করোনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাদের বাবা মায়ের সাথে গ্রামে চলে এসেছে। ফলে গ্রামের স্কুলে শিক্ষার্থীদের চাপ বাড়ার একটি আশঙ্কা রয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর শ্রেণীকক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় পাঠদান চালিয়ে নিতে দূরশিক্ষন পদ্ধতি চালু করেন সরকার। কিন্তু গ্রামে অনুকুল পরিবেশ না থাকায় বাড়িতেও এগুচ্ছেনা পড়ালেখা। দীর্ঘ ছুটি ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ার ঝুকিও বেড়েছে বহুগুন। গ্রামে শিক্ষকদের অবস্থাও ভাল নয়। টানাপোড়েন বেড়েছে গ্রামের অনেক শিক্ষকদের সংসারেও। উপার্জন করার ব্যাবস্থা না থাকায় জীবন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়ছে বাল্যবিবাহ। গ্রামে নানান অজুহাতে বিদেশ ফেরত গৃহকর্তাদের সহমতে হচ্ছে বাল্য-বিবাহ। অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেবার কারণ হিসাবে বলছেন, চারদিকে বাড়ছে ধর্ষণ আর নেই সঠিক বিচার, তাই কন্যা সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে দিয়েছেন বিয়ে। আবার কেউ বলছেন আর্থিক দূরবস্থার কথা। নানান অজুহাতে গ্রামের শিক্ষার্থীরা শিকার হচ্ছে বাল্যবিয়ের। আর এই বাল্যবিয়ের কারণে ভাঙছে হাজার কিশোরীর স্বপ্ন।

করোনার কারণে বাড়ছে শিশু-শ্রম, যেখানে রয়েছে কিশোর কিশোরী উভয়। গ্রামের বেশিরভাগ শিশুরা উপার্জনের পথে নেমেছে। কেউ কেউ নতুন কাজের সন্ধানে চলেছে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে। অনেকে ভাড়ায় নৌকা ও অটোরিকশা চালাচ্ছে। আবার কেউ করছে ইট ভাঙ্গার কাজ। জীবন বাচিয়ে রাখতে তারা নেমেছে জীবনসংগ্রামে।

করোনার কারণে সৃষ্ট লকডাউনের ফলে বেড়েছে দ্রব্যমূল্য। খেয়ে না খেয়ে কাটছে গ্রামের সাধারন মানুষের জীবন। করোনা মহামারী হয়তো একদিন কেটে যাবে, কিন্তু গ্রামের এই গরীর দুঃখী মানুষেরা করোনার এই যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে তো?

 

শুকরিয়া আকতার মুন্নি

বয়সঃ ১৮

কলেজঃ মেকানিকাল টেকনোলজি, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক