ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কোভিড- ১৯ বদলে দিয়েছে শিশুদের জীবন

সালমা আকতার
প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার, ১২:২১ পিএম
কোভিড- ১৯ বদলে দিয়েছে শিশুদের জীবন

কোভিড-১৯-এর কারণে বন্ধ হয়ে আছে বিশ্বের প্রায় সব দেশের স্কুল। শিশুরা বাড়িতে নিরাপদে আছে এমনটি ভাবলেও আদতে তাদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। স্কুলের সামাজিকতা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, ক্লাসে বসে শিক্ষাগ্রহণ সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত। মহামারী শেষে স্কুল খুললেও শিশুরা কি পারবে আগের মতো সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে? 

দীর্ঘদিন বন্ধ স্কুল

এই বৈশ্বিক মহামারীর মাঝে বড় হয়ে আজকের শিশু-কিশোররা কি একবারের জন্য হলেও নিজেদের ‘হারানো প্রজন্ম’ বলে ভাববে না? এই যে এতগুলো দিন কেটে যাচ্ছে এমনি এমনি, বলার মতো বড় কোনো কাজ নেই, স্কুল বলতে অনেকের কাছে এখন অনলাইন ক্লাস, বাইরে খেলাধুলা একদম বন্ধ। এই সময়গুলো কি তাদের তাড়িয়ে ফিরবে না কখনো? কভিড-১৯ এ স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের ওপর মানসিক প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। ইউনেস্কোর মতে, ১৯০টি দেশের অন্তত ১৬০ কোটি শিশুর শিক্ষায় প্রভাব ফেলেছে কভিড-১৯। অর্থাৎ না হলেও ১০০ ভাগের মধ্যে ৯০ ভাগ শিশুর শিক্ষায় গুরুতর প্রভাব পড়েছে। এখনো নিশ্চিত নয়, শিশুদের স্কুল কবে খুলবে, কবে শিক্ষাব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, স্কুল খুললেও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন কি না। স্কুল বন্ধ হলেও যতদিন খোলা ছিল ততদিনে ভাইরাস কতখানি ছড়িয়ে পড়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। করোনাভাইরাস উহানে প্রথম দেখা দেয় এ তথ্য প্রকাশের ৫ মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেলেও তাদের ভাইরাস নিয়ে সঠিক তথ্য প্রদান এবং রোগপ্রতিরোধে সঠিক ভূমিকা এখনো ঘোলাটে। নানা তথ্য-উপাত্ত যতই ঘোলাটে বা প্রশ্নবিদ্ধ হোক, এখন চিন্তা শিশুদের নিয়ে। এই বন্ধ সময়ে তাদের মানসিক বিকাশে কতটা খারাপ প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে ভাবাটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

বুদ্ধিমত্তা বিকাশে বাধা

করোনাকালে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধে, সামাজিক পরিবেশ থেকে একদম দূরে থাকায় শিশুদের ওপর কেমন প্রভাব পড়ছে সেটি হিসাবের আগে ঠিক এমনই আরেকটি বিষয় নিয়ে জানা যাক। ২০০৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক ডেভ মার্কোটি মেরিল্যান্ডের তৃতীয়, পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বর দেখছিলেন। নম্বর, স্কুল বন্ধের সময়, শিশুদের মনে রাখার ক্ষমতা সবকিছু মিলিয়ে তিনি খেয়াল করলেন স্কুল বন্ধের প্রভাবগুলো সর্বকনিষ্ঠ শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ছিল। প্রতিটি হারানো দিনের কারণে ০.৫৭ শতাংশ শিশু গণিতে এবং বই দেখে রিডিং পড়ার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত নম্বরের চেয়ে কম নম্বর পেয়েছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে স্কুলটি ৫দিন বন্ধ থাকে। এতেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। আগের বারের চেয়ে সামগ্রিক পাসের ক্ষেত্রে সে সময় ৩ শতাংশ পাসের সংখ্যা হ্রাস পায় অর্থাৎ প্রতি ৩০ জনের শ্রেণিতে অন্তত একজন শিশুর এই সমস্যা হয়। সংখ্যাটি দেখে আপাতদৃষ্টিতে হয়তো খুব বেশি মনে হচ্ছে না। কিন্তু সেই স্কুলের জন্য এই সংখ্যাটিই ছিল অনেক বেশি। ঠিক একই ঘটনা ঘটতে পারে এই মহামারীতে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুরা ইতিমধ্যে যা শিখেছিল তা ভুলতে শুরু করবে। যদি সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ স্কুল না খোলে, তবে প্রায় ২০ সপ্তাহ হয়ে যাবে শিশুদের স্কুলে না যাওয়ার সময়। শিক্ষা থেকে দূরে থাকার জন্য এই সময়টা অনেক বেশি। এ থেকে শিশুদের কতটুকু ক্ষতি হতে পারে তা হয়তো আমরা কোনো ডেটা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানতে পারব না। দীর্ঘ সময়ের এই বিরতি শিশুদের বুদ্ধিমত্তা এবং জ্ঞান বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই সমস্যার সমাধানে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। অনেকেই ভাবছেন হয়তো শিশুদের এতে কিছুটা হলেও লেখাপড়ার ঘাটতি মিটবে। তবে প্রকৃত শিক্ষার জন্য এই পদ্ধতি খুব বেশি কার্যকর নয়। মার্কোটি বলেন, ‘সত্যিকারের দুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার মাধ্যমে লেখাপড়ায় মনোযোগ দেওয়া যত সহজ, এক রুমে বন্দি হয়ে কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে সেই একই বিষয়ে দক্ষতা আনা ঠিক ততটাই কঠিন।’

স্কুলে শুধু লেখাপড়াই হয় তা নয়, শিশুরা একে অপরকে দেখেও নতুন কিছু শেখে। স্কুলে টিফিন ব্রেকে একে অপরের সঙ্গে খাবার শেয়ার করে খাওয়া, গল্প করা এই বিষয়গুলো এখন একদম বন্ধ। এছাড়াও নাচ, গানের ক্লাস, লাইব্রেরিতে পড়ালেখা, মিউজিয়াম বা ক্যাম্পে যাওয়ার মতো মজার বিষয়গুলো থেকেও এখন তারা অনেক দূরে। সাধারণ জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর স্কুল থেকে যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো তার সবই এখন স্থবির হয়ে আছে। শিশুদের ওপর এই বিষয়টিও গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

নামঃ সালমা আকতার 

বয়সঃ ১৭

কলেজঃ ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ