লিভিং ইনসাইড

অসচেতনতায় ভয়াবহ হতে পারে ওমিক্রন!

প্রকাশ: ০৮:০৫ এএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail অসচেতনতায় ভয়াবহ হতে পারে ওমিক্রন!

করোনাভাইরাসের ওমিক্রন-ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ছোবলে সারা বিশ্বে নাভিশ্বাস উঠেছে। করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রকোপ এখন পুরো বিশ্বে। ওমিক্রন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে কম বিপদজনক হলেও এবং মৃত্যুর হার অনেক কম হলেও এটি মিউট্যান্ট ভাইরাস বলে যেকোনো সময় বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এটি করোনাভাইরাসের অন্য ধরনগুলোর চেয়ে দ্রুত ছড়ায়। আর দ্রুত ছড়াতে থাকলে সেটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরির দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে রয়েছে নানা নির্দেশনা, বিধি-নিষেধ। এখনো চালু রয়েছে নো মাস্ক নো সার্ভিস। এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে দিন দিন আক্রান্ত হলেও কেউ মানছে না সতর্কতা, মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। জনসাধারণের এই সচেতনতা না মানার ফলে অজান্তেই  ঝুঁকির মুখে পড়ছে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারি এবং সামাজিক জীবনে।

ব্যক্তিগত জীবন: ওমিক্রন নিয়ে অনেকেই  ভয় পাচ্ছেন না। কারণ একটি কথা এর মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গেছে, ওমিক্রনে বিরাট কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে না। সাধারণ জ্বর, ঠান্ডা, কাশির মতই। কারণ ওমিক্রন ফুসফুসে সংক্রমিত হচ্ছে না। কিন্তু উপসর্গ বুঝার উপায় না থাকলেও এর প্রভাব তো রয়েছেই। করোনায় আক্রান্ত হলে ব্যক্তি জীবনে আপনার কর্মক্ষেত্রে সমস্যা হবে। আপনার পরিবারের মানুষজন আতঙ্কে থাকবে। আপনার সকল ধরনের বাইরের কাজে বাঁধাগ্রস্ত হবেন। ব্যাক্তি জীবনের কাজকর্ম স্বাভাবিক নিয়মে করতে পারবেন না। 
 
এছাড়াও  একবার কোভিড সংক্রমণ হলে তার প্রভাব পড়বে মস্তিষ্কে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন সাইটোকাইন নামক ফ্লুইডের ভূমিকার কথা। শরীর এই উপাদানটি নিজেই তৈরি করে রোগটির সঙ্গে লড়াই করার জন্য। এটির প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। ঠিক যেভাবে কেমোথেরাপি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে, সেভাবেই সাইটোকাইন কভিডের সঙ্গে লড়ে। এবং কেমোথেরাপির রাসায়নিকের মতোই এটিও মস্তিষ্কের কোষের গড়নে বদল ঘটায়। এই ছাপ সারা জীবন থেকে যায়।

পারিবারিক জীবন: অসচেতনতার ফলে আপনি যদি কোনভাবে করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে ভোগান্তিতে পড়তে হবে আপনার পরিবারের মানুষজন। তারপরেও আবার  আপনি যদি পরিবারের  একমাত্র কর্মক্ষম হন, তাহলে তো পরিবারের জন্য আরো সমস্যার। আপনার কাজ কর্ম বন্ধ হয়ে গেলে আপনার পরিবারে দেখা দিবে আর্থিক সমস্যা এবং আপনার সন্তানের প্রয়োজনীয় খরচ করতে হিমশিমে পড়ে যাবেন। অন্যদিকে আবার কিছু পরিবারের  ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের হার বেড়ে যাচ্ছে। অন্যের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি হচ্ছে। এর ফলে ধীরে ধীরে পারিবারিক সম্পর্কগুলোর উপর একধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শিক্ষাজীবন: ছাত্র-ছাত্রীরা কভিডে আক্রান্তের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অনলাইনে কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। অনেক শিশুর মধ্যেই আচরণগত পরিবর্তন হচ্ছে। সঠিক মানসিক বিকাশে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা পিছিয়ে যাচ্ছে, সেশন জটের মুখে পড়ছে। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনলাইন ক্লাসের কারণে শিশুদের মোবাইল এবং ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি বাড়ছে। অন্যদিকে  গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নেটওয়ার্ক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীর আবার ভালো কোন ডিভাইস পাচ্ছে না ক্লাস করার জন্য। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

কর্মজীবন: মাত্রাতিরিক্ত করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে গেলে সরকার লকডাউন দিয়ে দিবে। ফলে মানুষ তার কর্মক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। কর্মী ছাটাই শুরু হবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠান চালাতে না পেরে বন্ধ হয়ে হয়ে যাবে ব্যবাসা প্রতিষ্ঠান। এর সাথে জড়িত লাখ লাখ মানুষ এবং তাদের পরিবার এক মারাত্মক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে। এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা  সাধারণ মানুষদের এক চরম মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দিতে বাধ্য হবে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাটাই প্রক্রিয়া শুরু করবে। সকল লেভেলের কর্মীদের ছাটাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। যারা ছাটাইয়ের শিকার হননি তারাও আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পর্যবসিত হল। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় লস হওয়ার কারণে কর্মীদের বেতন এবং অন্যান্য সুবিধাদি কমিয়ে দিতে বাধ্য হল। ক্ষুদ্র ও মাঝারি অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতে না পেরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল। এর ফলে এর সাথে জড়িত লাখ লাখ মানুষ এবং তাদের পরিবার এক মারাত্মক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হল। এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আমাদের মত সাধারণ মানুষদের এক চরম মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে দিল। 

সামাজিক জীবন: সমাজ জীবনে ব্যাপক বিস্তার ফেলছে করোনাভাইরাস। কভিডে আক্রান্তের ফলে আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলের বাল্য-বিবাহের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। কারন গ্রামাঞ্চলের নিম্নজীবি মানুষের আয়-রোজকার কমে যাওয়ার কারনে পরিবার চালাতেই হিমশিমে পড়ছে, বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে ছোট ছোট মেয়েদের। ফলে বাল্য বিবাহের সংখ্যা বাড়ছে, সাথে সাথে বাড়ছে ডিভোর্সের সংখ্যাও। মানুষের মধ্যে থেকে হাড়িয়ে যাচ্ছে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ। ফলে জায়গা রে নিচ্ছে অনৈতিকতা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। 

মহামারির এই সময়ে আমরা যদি সচেতন না হই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি তাহলে উপরোক্ত সকল সমস্যা পুনরায় আবার হানা দিতে পারে আমাদের দেশে। সুতরাং কভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে চলতে হবে সকলকে। নিয়মিত মাস্ক পরিধান করতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে।

করোনাভাইরাস   ওমিক্রন  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

সুস্থ থাকতে রাতে অন্ধকার ঘরে ঘুমানোই ভাল

প্রকাশ: ০৭:৫০ পিএম, ২৮ মে, ২০২২


Thumbnail সুস্থ থাকতে রাতে অন্ধকার ঘরে ঘুমানোই ভাল

সকলেরই নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমের প্রয়োজন। সারাদিন পরিশ্রমের পর সবাই ক্লানি অনুভব করে, তাই একটা আরামের ঘুম খুব প্রয়োজন। আর রাতে ঘর অন্ধকার করে শোয়ার অভ্যাস অনেকেরই। এমনকি আলো নিভিয়ে না ঘুমলে অনেকেরই ঘুম আসতে চায় না। তবে আলো নিভিয়ে বা রুম আন্ধকার করে ঘুমানো কি আসলেই উচিৎ! চলুন তাহলে জেনে নেই এ সম্পর্কে-

হালের একটি গবেষণা বলছে, সারা রাত এই রকমের আলোয় ঘুমালে শরীরে তার প্রভাব পড়তে পারে। শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা শরীরে এই ধরনের আলোর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। 
 
তাঁদের মতে, রাতে বিভিন্ন রঙের আলোর নীচে ঘুমালে শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিপাক ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। এমনকি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে হৃদ্‌স্পন্দনের মাত্রাও।

রাতে আলো জ্বেলে ঘুমালে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। গবেষকরা প্রায় ২০ জন ব্যক্তির উপর এই গবেষণাটি চালান। তার মধ্যে প্রায় ১০ জনের রাতে মৃদু আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে। 

এবং তাঁদের মধ্যে অনেকেই ডায়াবিটিস, হৃদ্‌রোগের মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার শিকার। রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘু্মানোর ফলে ঘুমের মধ্যেও স্নায়ু অধিক সক্রিয় হয়ে থাকে। ফলে শান্ত মস্তিষ্কে ঘুম হয় না। 

ভিতরে ভিতরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ থাকতে রাতে অন্ধকার ঘরে ঘুমানোই ভাল। যদি একান্তই অন্ধকার ঘরে ঘুমাতে না ইচ্ছে করে, তা হলে একটি হলুদ রঙের আলো জ্বালিয়ে রাখতে পারেন।

রাত   ঘুম   অন্ধকার   রুম   সুস্থতা  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে

প্রকাশ: ০২:০৯ পিএম, ২৮ মে, ২০২২


Thumbnail যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে

কোলেস্টেরলের কথা শুনলেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কিন্তু শরীরে কোলেস্টেরল থাকলেই যে বিপদ, এমন কিন্তু নয়। ভালো আর খারাপ দুই ধরনের কোলেস্টেরলের মধ্যে ভালো কোলেস্টেরলই আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা অবশ্যই চিন্তার বিষয়।

বাইরে থেকে একেবারে সুস্থ। কেবল জোরে হাঁটাহাঁটি বা সিঁড়ি ভাঙলে হাঁপিয়ে উঠছেন। অবশ্য তা তো কমবেশি সকলেরই হয়— এমন ভেবেই নিশ্চিন্ত থাকেন অনেকে। কিন্তু বুঝতে পারেন না চুপিসাড়ে রক্তে মিশে গিয়েছে খারাপ কোলেস্টেরল। পরে রক্ত পরীক্ষা করলে ধরা পড়ে তার দৌরাত্ম্য। উচ্চ রক্তচাপ, ওবেসিটি তো বটেই, কোলেস্টেরলের হাত ধরে হৃদযন্ত্রেও ক্ষতি হতে পারে।

যদিও শরীরে কোলেস্টেরলে মাত্রা বাড়লে কোনও উপসর্গ দেখে তা বোঝার উপায় নেই। তবে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। উচ্চ কোলেস্টেরল ধমনীর উপর চাপ তৈরি করে। যার থেকে ‘পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ’-এর ঝুঁকি বাড়ে। এতে ধমনীগুলো সরু হয়ে রক্ত চলাচল ব্যহত হয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত ঠিক মতো পৌঁছাতে পারে না। ফলে শরীরের বিভিন্ন গাঁটে যন্ত্রণা শুরু হয়।

>> কোলেস্টেরল খুব বেড়ে গেলে পায়ের টেন্ডন লিগামেন্টে প্রভাব পড়ে। এ ক্ষেত্রে পায়ের ধমনী সরু হয়ে পায়ের নীচের অংশে অক্সিজেন-সহ রক্ত পৌঁছতে পারে না। তাতে পা ভারী হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সহজেই। পায়ের অসম্ভব যন্ত্রণা শুরু হয়। উরু বা হাঁটুর নীচে পিছনের দিকে ব্যথা হতে পারে। হাঁটার সময়েই এই ধরনের ব্যথা বাড়ে।

>> একই কারণে ঘাঁড় ও হাতের সংযোগস্থলেও ব্যথা হয়। মাঝেমাঝে এমন ব্যথায় আমরা নজেহাল হই। খুব ঘন ঘন একই স্থানে ব্যথা হলে একটু সতর্ক থাকুন।

>> নিতম্বেও ব্যথা হওয়া উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষ হতে পারে। যদি নিতম্বে ব্যথা হয়, তাহলে সেই লক্ষণ ভালো নয়। এই সব লক্ষণ দেখা দিলে এক বার রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

কোলেস্টেরলর   লক্ষণ  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

এই গরমে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখবেন যেভাবে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৭ মে, ২০২২


Thumbnail এই গরমে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখবেন যেভাবে

গরমে নাকাল সারা দেশের মানুষ। মাঝে মাঝে কিছুটা বৃষ্টি হলেও, আবার কিছুক্ষণ যাওয়ার পরে অবস্থা আবার আগের স্থানে পৌঁছে। ফলে এবার দেশের মানুষ গরমের প্রভাব খুব ভালোভাবেই বুঝতে পাচ্ছে। মূলত আবহাওয়ার তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহের তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে। তাই এ সময় কেউ যদি নিজের দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার কৌশল আয়ত্ত করতে পারেন তাহলেই অসুস্থতার হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। তাহলে আজ দেখে নিন এই গরমে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখবেন যেভাবে।

দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার কৌশল:

১. আয়ুর্বেদ বলে, গরমকালে মানুষের পিত্ত তীব্র হয়ে ওঠে। তাই শরীরে শীতলভাব বজায় রাখতে চাইলে সবার আগে পিত্তবর্ধক খাবারগুলিকে বাদ দিতে হবে। শীতের দিনের সবজি গাজর, ফুলকপি, বিট, বাঁধাকপি বাদ দিন গ্রীষ্মের খাদ্যতালিকা থেকে। বদলে রাখুন শসা, ঝিঙা, পটল, কুমড়া, এঁচোড়ের মতো সবজি ও তরমুজ, ফুটি, বেল, আপেল ইত্যাদি ফল। আম উঠতে শুুরু করেছে, আমও খেতে পারেন নিশ্চিন্তে। প্রতিটি ফল ও সবজিতেই পানির পরিমাণ বেশি, তা শরীর শীতল রাখবে। সেই সঙ্গে দইয়ের ঘোল, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতেও ভুলবেন না। চিজ, তেল-মশলা, ভাজাভুজি, বেশি মরিচ, কমলালেবু ইত্যাদি যতটা কম খাবেন, ততই ভালো।

২. খাওয়ার মাঝে খুব বেশিক্ষণের গ্যাপ দেবেন না। খালি পেটে অ্যাসিড, পিত্ত সব কিছুরই বাড়াবাড়ি ঘটে। দিনের মাঝখানে (অর্থাৎ লাঞ্চ ব্রেকে) সবচেয়ে ভারী খাবার খান, রাতের দিকে হালকা খেলেও চলবে। বেশি করে সালাদ আর ফলমূল খাওয়া উচিত এ সময়ে।

৩. মাথায় আর গায়ে খাঁটি নারকেল তেল মেখে গোসল করুন, আপনার ত্বকে হিট র‍্যাশ বেরনোর মাত্রা নিশ্চিতভাবেই কমবে। নারকেল তেল সানস্ক্রিন হিসেবেও কাজ করে, তাই নিরক্ষীয় অঞ্চলে তার বহুল ব্যবহার দেখা যায়।

৪. গরমের দিনে এমনিতেই চা-কফি খেতে ইচ্ছে করে না। ঘরের তাপমাত্রায় শরবত খান। বরফ-ঠান্ডা পানীয় থেকেও দূরে থাকুন, তাতেও শরীর গরম হয়। 

৫. দুঃসহ গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় প্রচুর পরিমাণ পানি। সেই পানি পূরণ করতে আপনাকে বাড়তি পানি পান করতে হবে। শরীরের কোষগুলো সজীব রাখতে হলে চাই পানি।

৬. বিভিন্ন মাংস, ডিম ও চর্বিজাতীয় খাবারের কথা ভুলে যান। তরল খাবার, ডাবের পানি, তরমুজ খান বেশি করে।

৭. এ গরমে পোশাক পরুন হালকা রংয়ের। গাঢ় রংয়ের পোশাক রোদ শোষণ করে বলে গরম অনুভূত হয় বেশি। সবচেয়ে ভালো হয় সাদা রংয়ের পোশাক হলে। গরমে সিনথেটিক পোশাক পরবেন না। সবসময় সুতি ও ঢিলা পোশাক পরার চেষ্টা করুন।

৮. চেষ্টা করুন ছায়ার মধ্য দিয়ে চলতে। রোদে গেলে মাথায় রাখুন চওড়া ক্যাপ, স্কার্ফ অথবা ছাতা। রিকশায় চড়লে হুড উঠিয়ে চলুন। ত্বকে মাখুন সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন।

৯. খুব ভোরে বা সন্ধে নামার পর যখন প্রকৃতি শীতল হয়েছে, তখনই একমাত্র ভারী ব্যায়াম করুন। রোদের মধ্যে ভারী ব্যায়াম করলে মাসলে ক্র্যাম্প ধরা থেকে আরম্ভ করে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। 

১০. সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করুন। ধূমপানে শরীর আরও গরম হয়ে যায়।

গরম   তাপমাত্রা   আবহাওয়া  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

যেসব খাবার গরমে পানিশূন্যতা বাড়ায়

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৬ মে, ২০২২


Thumbnail যেসব খাবার গরমে পানিশূন্যতা বাড়ায়

পড়েছে তীব্র গরম। মাঝে মাঝে এক পশলা বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিলেও কিছু সময়ের মধ্যেই আবার শুরু হয় গরমের তীব্রতা। এই গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো পানিশূন্যতা। এসময় আমাদের শরীর হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়েও গরমের সময়ে পানি পান করতে হবে বেশি। শুধু পানিই নয়, তরল জাতীয় বিভিন্ন খাবার খেতে হবে। যেসব ফলে পানির অংশ বেশি, সেগুলো খেতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন শরীর পানিশূন্য হয়ে না পড়ে। গরমের সময়ে খাবারের তালিকায় কিছু যোগ-বিয়োগ করতে হবে। তাহলেই সুস্থ্য থাকা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলো গরমে আপনার শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে-

অ্যালকোহল

অ্যালকোহল গ্রহণ কখনোই শরীরের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে গরমে পানিশূন্যতা সৃষ্টির পেছনে এটি মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। গরমে অ্যালকোহল গ্রহণ করলে শরীরের আর্দ্রতা চলে যায়। এর ফলে বুকে ও যকৃতে জ্বলন অনুভূত হয়। অ্যালকোহল গ্রহণের অন্যতম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো ডিহাইড্রেশন।

অতিরিক্ত প্রোটিন

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন গ্রহণ তো করতেই হবে। কিন্তু আপনি যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রোটিন গ্রহণ করে থাকেন তাহলে তা হতে পারে পানিশূন্যতার কারণ। এর কারণ হলো, প্রোটিনের অন্যতম উপাদান নাইট্রোজেনকে ভাঙার জন্য প্রয়োজন পড়ে পানির। যে কারণে প্রোটিন বেশি খেলে শরীর থেকে পানি কমতে থাকে।

কফি

ভীষণ জনপ্রিয় একটি পানীয় হলো কফি। দিনে কয়েক কাপ কফি না হলে চলে না অনেকেরই। এক কাপ খাওয়া যেতেই পারে। কিন্তু অতিরিক্ত কফি খেলে তা এই গরমে আপনাকে পানিশূন্যতার দিকে নিয়ে যাবে। কারণ অতিরিক্ত কফি পানের কারণে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। কফি এবং চা বেশি খেলে তা শরীরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। তাই গরমে খুব বেশি কফি পানের অভ্যাস বাদ দিতে হবে।

ডায়েট কোল্ড ডিংক্স

ডায়েট কোল্ড ডিংক্সে থাকে অত্যাধিক চিনি। আমাদের শরীরের টিস্যু থেকে জলীয় অংশ কমিয়ে দেয় এই চিনি। ফলে শরীর হয়ে পড়ে পানিশূন্য। এই ড্রিংক্স পান করার পর অনেক সময় গলার কাছে শুষ্ক ভাব অনুভব করতে পারেন। তাই এই গরমে ডায়েট কোল্ড ড্রিংক্স পান করার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। 

সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার

ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এর প্রভাবে আমাদের শরীর হয়ে পড়ে পানিশূন্য। নোনতা খাবার বেশি খেলে আমাদের কিডনি অনেক বেশি পানি শোষণ করে। যে কারণে শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়।

খাবার   গরম   পানিশূন্যতা  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

জেনে নিন আনারস খাওয়ার উপকারিতা

প্রকাশ: ১১:৫৭ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail জেনে নিন আনারস খাওয়ার উপকারিতা

খুবই পরিচিত একটি ফল আনারস। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, ক্যালসিয়াম,ফসফরাস ও ভিটামিন সি। শরীরের অনেক কঠিন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে আনারস। ফলে আনারস খাওয়ায় রয়েছে উপকারিতা। হয়তো এই ফলের উপকারিতা সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। ফলটির উপকারিতার কথা জানলে আজই খাওয়া শুরু করে দিবেন।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক আনারসের উপকারিতা সম্পর্কে...

>> আনারস অত্যন্ত রসালো ও সুস্বাদু ফল। আনারসের প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ক্যালোরি থাকার কারণে এটি আমাদের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। আনারসে অতিরিক্ত ফ্যাট একদম নেই।  এটি কোলেস্ট্রল ও ফ্যাট মুক্ত একটি ফল। যার কারণে আনারস আমাদের ওজন কমাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।

>> আনারসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা উচ্চমাত্রার পানিতে দ্রবণীয় এছাড়া আনারসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা আমাদের শরীরে রক্তের কোষগুলোকে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখতে সহায়তা করে। ফলে ক্যানসারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আমাদেরকে দূরে রাখে।

>> আনারসের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আমাদের শরীরে কৃমি উৎপাত বন্ধ হতে কার্যকরীভাবে ভূমিকা রাখে। তাই যাদের শরীরে কৃমির সমস্যা দেখা যায় তারা সকাল বেলা খালি পেটে আনারসের রস খেতে পারেন। এটা আপনার কৃমির উৎপাত বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

>> আনারসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে এটি আমাদের শরীরের হাড়ের কাঠিন্যতা বজায় রাখতে কাজ করে। তাই সুস্থ সবল দেহের অধিকারী হতে হলে অবশ্যই আপনাকে আনারস খেতে হবে।

>> আনারসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি থাকার কারণে এটি আমাদের ত্বকের কোষগুলোকে সবসময় উজ্জীবিত রাখে। ফলে ত্বক টানটান থাকে এবং ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে ফেলে নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। তাই আনারস খাওয়ার মাধ্যমে ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়ে যায়। 

> > আনারসের মধ্যে থাকা বিটা ক্যারোটিন নামক উপাদানটি আমাদের চোখের রাতকানা সমস্যা থেকে দূরে রাখে। পাশাপাশি অনেক সময় চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে আনারস খেতে পারি তাহলে আনারসের রস আমাদের শরীরে গিয়ে আমাদের চোখের সমস্যা দূর করার কাজ করে।

>> আনারস যেহেতু একটি ফ্যাটহীন ফল। তাই আনারস খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে কোলেস্টেরল কমাতে কাজ করবে এবং বাড়তি কোলেস্ট্রল বৃদ্ধি হওয়া থেকে আমাদেরকে রক্ষা করবে। যদি নিয়মিত আনারসের রস সেবন করা যায় তাহলে শরীরে মেদ বাড়া থেকে আমরা দূরে থাকতে পারবো।

সতর্কতা 
যাদের অ্যালার্জি জনিত সমস্যা আছে তারা আনারস না খাওয়াই ভালো। আর বিশেষ করে আনারসের মধ্যে এসিডিটির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি আমাদের শরীরে গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই যাদের এসিডিটি প্রবলেম রয়েছে তারা আনারস খাওয়া থেকে দূরে থাকবেন। 

আনারস   উপকারিতা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন