লিভিং ইনসাইড

খাদ্যের বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে অর্গানিক খাবার

প্রকাশ: ০৭:৫৯ এএম, ১২ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সুস্বাস্থ্যের প্রাথমিক ও প্রধান শর্ত হলো সঠিক খাদ্যাভাস ও পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু বর্তমান সময়ে গ্রাম থেকে শহর সবজায়গায় ই মিলছে ভেজাল মিশ্রিত খাবার। শাক-সবজি, মাংস, দুধ, প্যাকেট জাত খাবার, এমনকি ফল, তেল, ডিম সব কিছুতেই মিলছে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। গত দুই নভেম্বর যুক্তরাজ্যভিত্তিক দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ‘গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি ইনডেক্স ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সর্বোত্রই ভেজাল খাবার এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয় ভেজাল খাদ্যের তালিকায় বিশ্বের ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম।  স্বাস্থ্যকর খাদ্যের খোঁজ পাওয়া যখন প্রায় মুশকিল একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে অরগ্যানিক খাবার হতে পারে বিকল্প। তবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার এই যুগে এসে বাজারে প্রাপ্ত অরগ্যানিক খাবারগুলো কি আদৌ বিষক্রিয়া মুক্ত কি না এই বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক অরগ্যানিক খাবার মূলত কী? এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো এবং কীভাবে বুঝবেন অরগ্যানিক খাবার কোনগুলো-  

অরগানিক খাবার কি? 

অর্গানিক খাবার হলো সেইসকল খাদ্য যা কোনোরকম রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ছাড়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হয়। এমনকি এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও কোন কৃত্রিমতা থাকে না। পাশাপাশি পরিবেশ-বান্ধব এই চাষে ফসল পরিবর্তন, জৈব পেস্ট ইত্যাদির উপর নজর দেওয়া হয়। কৃষি-বাস্তুসংস্থান গত নীতি অনুসারে এই উৎপাদন আমাদের জীববৈচিত্র ও সুন্দর ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করে। ২০১৪ সালে নিউ ক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রমাণ করেন অর্গানিক ফুডের উপকারিতা। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ সার মিশ্রিত ফসলের চেয়ে অর্গানিক ফসলে কীটনাশকের পরিমাণ এক চতুর্থাংশের চেয়েও কম। বিষাক্ত ধাতব উপাদানও কম। তাই এতে ক্যান্সার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক বেশি মাত্রায় থাকে। যার ফলে লাভ করা যায় দীর্ঘায়ু। এছাড়া রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করার কারণে জমির উর্বরতা ও বজায় থাকে। ফলে ফলন বেশি দিন পর্যন্ত পাওয়া যায়।

কিভাবে বুঝবেন কোন খাবারগুলো অরগানিক? 

কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর অরগানিক প্রোডাকশন (NPOP) এর স্বীকৃত কোনো সংস্থার দ্বারা পরীক্ষা করার পর প্রশংসাপত্র সার্টিফিকেট পেয়েছে কি না তা দেখতে হবে। সার্টিফিকেট থাকলে প্যাকেটে ইন্ডিয়া অর্গানিক (INDIA organic) বা USDA organic লোগো থাকবে। অথবা যে সংস্থা সার্টিফিকেট দিয়েছে তার লোগো থাকবে। এছাড়াও রাখতে হবে বাড়তি সতর্কতা, যেমন- 

খাবারের চেহারা: অর্গানিক ফুড এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত খাবার কখনোই দেখতে এক রকমের হবে না। অর্গানিক ফুডে রঙ খুব বেশি গাঢ় হয় না। এটা দেখতে একেবারেই প্রাকৃতিক এবং সতেজ। কিছু কিছু সময় এ ধরনের খাবার হাতে নিলেই এর পরিচিতি পাওয়া যায়।

আকৃতি: হাইব্রিড ফসলগুলো সাধারণত বৃহৎ আকৃতির হয়ে থাকে। তবে অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফলমূল, শাকসবজি এবং অন্যান্য শস্য আকারে বিশাল হবে না। এর স্বাভাবিক হয়ে থাকে এবং ভেতরে পোকার উপদ্রপ থাকে না বললেই চলে।

খাবারের স্বাদ: অর্গানিক ফুডের স্বাদ যে অতুলনীয় হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যখন আপনি অর্গানিক শাকসবজি রান্না করবেন, আপনি মশলার প্রয়োজনীয়তা কম অনুভব করবেন। কারণ প্রাকৃতিকভাবেই এ ধরনের খাবারের স্বাদ বেশি হয়ে থাকে।

দ্রুত রান্না হয়: কীটনাশকযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করার প্রয়োজন পরে। অপরদিকে অর্গানিক ফুড রান্না করতে তুলনামূলক কম সময় লাগে।

গন্ধ: যেহেতু অর্গানিক ফুড মসলা ও তেল বর্জিত প্রাকৃতিক খাবার, এর গন্ধ সম্পূর্ণই আলাদা ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। অপরদিকে অজৈব খাবারে মশলায় তেল ও মসলার প্রচণ্ড ব্যবহারের ফলে একটা পর্যায়ে এর থেকে গন্ধ বের হতে থাকে।

স্বাস্থ্যকর: অর্গানিক খাবার স্বাস্থ্যকর হওয়ায় আপনার হজম প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও দ্রুত করে তোলে। এর ফলে আপনি অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস সম্পর্কিত সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পান।

চলুন নেওয়া যাক অরগানিক খাবারের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে, যা আপনাকে সাহায্য করবে খাদ্য তালিকায় অর্গানিক খাবার যুক্ত করবেন কি না এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে! প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক অরগানিক খাবারের সুবিধা সম্পর্কে-

অরগানিক খাবারের কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি থাকেনা, যা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন প্রাণীজ খাদ্য যেমন মাছ ও মাংসে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে তা দীর্ঘস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এর ফলে হৃদযন্ত্র, কিডনির কার্যক্রম ও স্নায়ু চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অরগানিক খাবার এইসকল উচ্চ এন্টিবায়োটিক মুক্ত অরগানিক খাবার চাষ করা বেশ পরিবেশবান্ধব। এটি শুধু মানব স্বাস্থ্যের জন্যই না, পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক। খাবারের জৈব চাষের প্রবণতা পরিবেশ দূষণ হ্রাস করতে পারে, পানি সংরক্ষণ করতে পারে, মাটির ক্ষয় হ্রাস করতে পারে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে পারে।

খাবার গুলোতে উচ্চ পুষ্টিমান নিশ্চিত হয়  

স্বাদের মান বজায় থাকে 

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে কেননা এতে হাইড্রোজেনেটেড চর্বির পরিমাণ প্রায় শূন্য 

এমনকি নবজাতকদের জন্য ও অরগানিক খাবার বেশ স্বাস্থ্যকর

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অরগানিক খাবার পছন্দের তালিকায় প্রথমদিকে থাকলেও এর কিছু অসুবিধা ও রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে অর্গানিক ফুডের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। বর্তমানে অর্গানিক ফুড সোনার হরিণ। যা বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে। সাধারণ খাবার কিনতেই যেখানে নিম্নবিত্তদের নাভিশ্বাস উঠছে, সেখানে চড়া দামে খাদ্যদ্রব্য কিনে খাওয়া দুঃসাধ্য বটে। তবু খেতে হবে অর্গানিক ফুড। এছাড়াও সব জায়গায় খুঁজে পাওয়া ও মুশকিল। এর মধ্যে বাজারে যে সকল অরগানিক খাবার পাওয়া যায় তা আদৌতে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত কিংবা রাসায়নিক ভেজাল মুক্ত তা নিয়েও নিশ্চিন্ত থাকার নেই সুযোগ। এমনকি যেসব খাদ্য সামগ্রী প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত বা অর্গানিক বলে বিক্রি হচ্ছে সেগুলো ও ঠিকমত পরীক্ষা করা হয়না খাদ্যের মান পরীক্ষা করার সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন বা বিএসটিআই থেকে। 

অর্গানিক খাবার   পুষ্টিকর  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

সাশ্রয়ী মূল্যে বিয়ের শাড়ি ও লেহেঙ্গা

প্রকাশ: ০২:০৭ পিএম, ৩০ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

শীত মানেই বিয়ের সিজন। গ্রাম থেকে শহর, পাড়া থেকে মহল্লা প্রতি দশ কদম হাটলেই দেখা মেলে বিয়ে বাড়ির প্যান্ডেল কিংবা মরিচাবাতিতে সজ্জিত বিয়ে বাড়ি। সিজন যখন বিয়ের তখন কেনাকাটার ধুম তো পড়বেই। আর কেনাকাটার কথা মাথায় আসলে সর্বপ্রথম মাথায় আসে বউয়ের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গার কথা।

জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে সবাই চায় তাঁকে লাগবে সবচাইতে সুন্দর, পরতে চাইবে বাজারের সেরা ডিজানের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গা। কিন্তু দিনকে দিন সকলধরনের পণ্যের দাম যেভাবে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সেখানে পছন্দের বেনারসি কিংবা লেহেঙ্গার দাম প্রায় আকাশচুম্বী। ডিজাইনার এবং মানসম্মত কিছু কিনতে গেলেই গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, কিংবা গুলশান-বনানির নামিদামী ব্র্যান্ডের পোশাক তো অনেকের কাছেই ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু তাই বলে কি নিজেকে টুকটুকে লাল বেনারসি কিংবা ডিজাইনার লেহেঙ্গায় দেখার সাধ অপূর্ন থেকে যাবে বউয়ের?

রাজধানীর মিরপুর ১০ এর বেনারসী পল্লি এমন একটি জায়গা যেখানে বেশ সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় বিয়ের বেনারসী, এবং বাহারি ডিজাইনের পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের দারূন সব লেহেঙ্গা। বিক্রেতা আবু নায়েম বলেন, বেনারসি পল্লিতে আমরা ভালো জিনিস রিজনেবল প্রাইসে দিয়ে থাকি। এখানকার শাড়ির দামের সাথে বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, আনজারার শাড়ির দামের তফাৎ দুই থেকে তিনগুন। আমাদের এখানকার সবমিলিয়ে কস্টিং কম তাই আমরা কম দামেই কোয়ালিটিফুল জিনিস দিতে পারি। এইবার ওয়েটলেস বেনারসি, ডিজাইনার পাকিস্তানি লেহেঙ্গা সবচেয়ে বেশি চলছে। এবং গত দুই বছরের তুলনায় এইবার অনেক ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের শাড়ি কাজ ডিজাইনের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন রকম। তবে সর্বনিন্ম ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে এখানে বাহারি ডিজাইনের রঙের সব বেনারসি পাওয়া যায়।

মানুষের পরিবর্তনশীল রুচির কারণে বিয়ের সময় বেনারসি শাড়ির পাশাপাশি বর্তমান বাজারে লেহেঙ্গার চাহিদা বেড়ে গিয়েছে অনেক। প্রসঙ্গে বিক্রেতা জুবায়ের ইসলাম বলেন, ‘যারা বিয়েতে একটু গর্জিয়াস সাজ দিতে চান, মূলত তাঁরাই লেহেঙ্গা কিনতে বেশী আগ্রহী। বেনারসি পল্লিতে সর্বনিন্ম ৩০০০ টাকা থেকেই পাওয়া যায় গর্জিয়াস লেহেঙ্গা। হালকা এবং ভারী কাজের উপর নির্ভর করে লেহেঙ্গা গুলোর দাম কমবেশী হয়

কোয়ালিটি ভালো হবার কারণে বিয়ে কিংবা যেকোনো ফেস্টিভ সিজনে ভিড় লেগেই থাকে এখানকার দোকানগুলোতে। একই জায়গায় শাড়ি, লেহেঙ্গার একাধিক দোকান থাকার কারণে ক্রেতাদের যাচাই বাছাই করে কেনাকাটার থাকে সুযোগ। কথা হয় ধানমন্ডি থেকে আগত একজন ক্রেতার সাথে। তিনি বলেন, পছন্দের জিনিস কয়েকটি দোকান ঘুরে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। আর দামের ক্ষেত্রে কয়েকটি দোকান ঘুরে যাচাই করে কিনে নেওয়া উত্তম। এক্ষেত্রে দামাদামি করে কিনলে কম দামেই ভালো ভালো শাড়ি পাওয়া সম্ভব। এবং এখানকার শাড়ির কোয়ালিটি বেশ ভালো।

বিয়ের দিনে প্রতিটি মেয়েই চায়, তাঁকে লাগবে সবচাইতে সুন্দর, পরতে চাইবে বাজারের সেরা ডিজাইনের শাড়ি কিংবা লেহেঙ্গা। সেক্ষেত্রে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে পছন্দের ডিজাইন রঙের কাপড়ের খোজ পাওয়া যাবে মিরপুর বেনারসি পল্লিতে।



মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াবে চা-সিগারেট

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কিছু অভ্যাস রয়েছে যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এর মধ্যে একটি হলো চায়ের সঙ্গে  সিগারেট খাওয়া। এটা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষণা অনুসারে, ধূমপায়ী এবং মদ্যপানকারীরা যদি একসঙ্গে চা পান করেন, তাহলে এটি খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি ৩০% বাড়িয়ে দেয়।

জার্নাল অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরম চা খাদ্য নালীর কোষের ক্ষতি করে এবং চা ও সিগারেট একসঙ্গে সেবন করলে কোষের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি ২ গুণ বেড়ে যায়। যা ক্যানসারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চায়ে ক্যাফেইন পাওয়া যায়, যার কারণে পাকস্থলীতে এক ধরনের বিশেষ এসিড তৈরি হয়, যা হজমে সহায়ক, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যাফেইন পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে, সিগারেট বা বিড়িতে নিকোটিন পাওয়া যায়। যদি খালি পেটে চা এবং সিগারেট একসঙ্গে পান করলে মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সিগারেট খাওয়াও ক্ষতিকর। কারণ ধূমপায়ীর ব্রেইন স্ট্রোক বা হার্ট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমন কিছু গবেষণা রয়েছে, যা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের তুলনায় যারা দিনে একটি সিগারেট খান তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৭% বেশি। এছাড়াও, যদি কেউ চেইনস্মোকার হন তাহলে এটি তার আয়ু ১৭ বছর কমিয়ে দিতে পারে।



মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এ বাংলাদেশি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. রোকসানা আক্তার

প্রকাশ: ০২:১৯ পিএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. রোকসানা আক্তার। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

ডা. রোকসানা আক্তার একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী, মেডিকেল জার্নালের লেখিকা, গ্লোবাল পিস অ্যাম্বাসেডর, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং মানবাধিকার কর্মী। ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর মহিলা আইকন অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডস পুরষ্কার জিতেছেন তিনি।  কমিউনিটি ওয়ার্কসের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গোল্ড মেডেল অর্জন করেছেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মাসিক ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’ বাংলাদেশি ডাক্তার রোকসানা আক্তার সম্পর্কে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।   

ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’ বলছে, ২০২২ সালেই তিনি জয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিসেস ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক অ্যওয়ার্ডস। ২০১৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বিউটি কন্টেস্টে রানার আপ হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের ইন্টারন্যাশনাল বিউটি কন্টেস্টে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রানার-আপ হয়েছেন তিনি। এই বছরই তিনি মুনারির ক্লাসিক্যাল মডেল হিসেবে টেক্সাসের স্বর্ণপদক আর্জন করেন।  



ম্যাগাজিনটি আরও জানায়, ২০২০ সালে নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে মডেল নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে ইউটিউবে তিনি ৭০টির বেশি গানও প্রকাশ করেছেন। ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া এসব গানের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের গায়কের মডেলও হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ‘ভিক্টিমস অফ ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স, মা ও শিশু’-এর জন্য তহবিল সংগ্রহের ফ্যাশন শোতে মডেল হয়েছিলেন তিনি। তিনি ইন্দো আমেরিকান দাতব্য ফাউন্ডেশনের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ২০১৯ সালের মডেল। 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাশন এবং লাইফস্টাইল ম্যাগাজিনটি বলছে, তিনি টেক্সাসের কমিউনিটি মাদার অ্যাওয়ার্ডস জিতেছেন ২০২১ সালে। টেক্সাসের শিফা হেলথ কেয়ার, কমিউনিটি সার্ভিস, টেক্সাস ইবনে সিনা কমিউনিটি মেডিকেল ক্লিনিক এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল প্রফেশনাল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। টেক্সাসের লায়ন্স ক্লাব, রোটারেক্ট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এ কাজ করেছেন তিনি। 

স্যান্টি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস ফাউন্ডেশন ফর সেভ অ্যা ফ্যামিলি, স্টপ বুলিং, ডিসক্রিমিনেশন এবং গার্হস্থ্য হিংসা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যুব উন্নয়নের বোর্ড অফ ডিরেক্টর এবং পরিচালক পদে রয়েছেন তিনি। তিনি একজন মানবতাবাদী এবং তিনি বিশ্বের সবাইকে ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন প্রতিটি নারীই সুন্দর। তিনি আরও মনে করেন, আমাদের সকলের একে অপরকে সমর্থন করা এবং অনুপ্রাণিত করা উচিত। 

তার শখের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি (আন্তর্জাতিক সঙ্গীত প্রযোজকের সাথে ইউটিউবে প্রকাশিত), নতুন লোকের সাথে দেখা করা, গান করা, নাচ করা, ভ্রমণ করা, সংবাদপত্র এবং মেডিকেল জার্নাল পড়া, বিতর্ক করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

যুক্তরাষ্ট্র   ভোগ   চিকিৎসা বিজ্ঞানী   ডা. রোকসানা আক্তার  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে করনীয়

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে ক্রমাগত। এটি সহজ কোনো অসুখ নয়। বরং একবার আক্রান্ত হলে বাড়ে আরও অনেক অসুখের ঝুঁকি। বিশ্বে প্রতি বছর হার্ট অ্যাটাকের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কম নয়। জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। খাবার, ঘুম, শরীরচর্চা সবকিছুই থাকতে হবে রুটিনের মধ্যে। চলুন জেনে নেওয়া যাক হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে কোন কাজগুলো করতে হবে-

নিজেকে কর্মব্যস্ত রাখুন-

নিজেকে হৃদরোগ থেকে দূরে রাখতে চাইলে অলস দিন কাটানো চলবে না। নিজেকে কর্মব্যস্ত রাখুন। নিয়মিত শরীরচর্চায় মন দিন। হাঁটাহাঁটির অভ্যাস বাড়ান। খানিকটা বিশ্রাম নেওয়া অবশ্যই ভালো, তবে তাতে যেন অলসতা ভর না করে। বাসার টুকিটাকি কাজগুলো নিয়মিত করার অভ্যাস করুন। এতে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। মেডিটেশন, ধর্মীয় প্রার্থনা এগুলো আপনাকে মানসিকভাবেও সতেজ রাখবে।

খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার-

সুস্থ থাকতে হলে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। হৃদরোগ থেকে দূরে থাকতে হলে নিয়মিত খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আপনার প্রতিদিনের যেসব খাবার খাচ্ছেন তা রক্তে কোলেস্টেরলের, রক্তচাপ ও গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। যা বাড়ায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। এ কারণে প্রতিদিনের খাবারে যাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে। বাদ দিতে হবে সব ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার।

রক্তচাপ যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে

হার্টের অসুখের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো উচ্চ রক্তচাপ। যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। কারণ উচ্চ রক্তচাপের ফলে হৃদযন্ত্রে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায়। যে কারণে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করান। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্ট্রেসমুক্ত থাকুন

হতাশা কিংবা মানসিক চাপ আমাদের অনেক শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কোনো কারণে মানসিক চাপ অনুভব করলে তা মস্তিষ্কের কিছু জায়গার কাজ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যে কারণে মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। মন ভালো থাকে এমন সব কাজ করুন। বাড়তি দুশ্চিন্তা করবেন না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

ওজন অতিরিক্ত হলে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থুল ব্যক্তিদের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। কারণ ওজন অতিরিক্ত হলে বাড়ে উচ্চ রক্তচাপ এবং বেড়ে যায় কোলেস্টেরলের মাত্রা। ফলে বাড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। তাই আপনার উচ্চতা অনুযায়ী স্বাভাবিক ওজন ধরে রাখার চেষ্টা করুন।


হৃদরোগ   ঝুঁকি   কর্মব্যস্ত  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

কফির উষ্ণতায় আনন্দের হোক ‘একান্ত সময়’

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের শুরুটা যদি হয় পছন্দের গান শুনতে শুনতে ধোঁয়া উঠা এক কাপ কফি হাতে কিংবা অবসর শীতের বিকেলে পছন্দের বই পড়তে পড়তে কফির কাপে চুমুক কিংবা হতে পারে অলস দুপুরে সিনেমা দেখার ফাঁকে ফাঁকে কফি পান, একান্তে নিজের সাথে সময় কাটানোর জন্য এগুলো হতে পারে চমৎকার কিছু কাজ। যান্ত্রিক কোলাহলপূর্ন ব্যস্ত এই নগরজীবনে নিজের সাথে সময় কাটানোর ‘সময়’ ই যেনো আজ বিলুপ্তির পথে। পড়ালেখা, কর্মজীবন, পরিবার, বন্ধু সবকিছুর জন্য আমরা সময় বের করলেও নিজের জন্য দিনশেষে কতটুকু সময় ই বা বের করতে পারি? শেষ কবে নিজেকে সময় দিয়ে, নিজের পছন্দের কোনো কাজ করেছেন মনে পড়ে কী?  

‘মি টাইম’ কিংবা ‘নিজের সাথে একান্ত সময়’ বলতে মূলত বোঝানো হয় দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময় আলাদা করে নিজের জন্য রাখা। 

যেই সময়টুকুতে শুধুমাত্র নিজের পছন্দের কাজ করা। সেটা হতে পারে পছন্দের বই পড়া, সিনেমা দেখা, রূপচর্চা করা, মেকাপ করা, ইয়োগা করা, বেকিং, গাছের পরিচর্যা, শপিং করা, যেকোনো শখের কাজ করা, কিংবা ঘুমানো বা পছন্দের জায়গায় কফি খেতে খেতে একান্তে নিরিবিলি সময় কাটানো। সেটা হতে পারে আপনার নিজের রুম, বাসা কিংবা কোনো নিরিবিলি বুকশপ ক্যাফেতে। আজকাল শহরে বেশকিছু বুকশপ ক্যাফে খুলেছে, যেখানে কফির পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে দারূন সব বই, সাথে থাকে ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক। ‘মি টাইম’ কাটানোর জন্য এই ধরণের বুকক্যাফে গুলো কিংবা কফিশপ গুলো অসাধারণ। পছন্দের কফি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেওয়া যায় নির্দ্বিধায়। ‘মি টাইম’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বারবার কফির কথা বলছি কিছু বিশেষ কারনে, যা কফির গুণাগুণের সাথে সম্পর্কিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক কফির কিছু গুনাগুন সম্পর্কে

কফিতে থাকা ক্যাফেনাইন এনার্জি বর্ধক-  এই উপাদান শারীরিক ও মানসিক এনার্জি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। কফি পান করলে মস্তিষ্ক ভালো কাজ করে। সারাদিন কাজের মাঝে ক্লান্ত মস্তিষ্কে ১০ মিনিটের ব্রেক নিয়ে এক কাপ কফি খেতে খেতে ‘মি টাইম’ কাটালে তা আপনার শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে আপনাকে পূনরায় কাজে ফিরার মনোবল জোগাবে। 

কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস আপনার মন কে রাখে ভালো ও মেজাজ কে রাখে ফুরফুরে। ‘মি টাইম’ কাটানোর পর আপনার মন ও মেজাজ ভালো রাখতে জুড়ি নেই কফির। 

শরীর ও মন কে অবসাদমুক্ত রাখতে সহায়তা করে ক্যাফেইন

যাদের অতিরিক্ত মুড সুইং এর সমস্যা রয়েছে তাদের কফি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। 

কফির ক্যাফেইন মানুষের মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার অ্যাডেনোসাইনকে ব্লক করে। ফলে নোরপাইনফ্রাইন ও ডোপামিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। যা নিউরনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। কফি পান করলে এই ক্যাফেইন রক্তে মিশে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যা আমাদের মেজাজের উন্নতিতেও সাহায্য করে। এ সব কারণে কফি খেলে আপনি তুলনামূলক কম ক্লান্ত অনুভব করবেন।

কফি মনকে রাখে প্রফুল্ল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এক পরীক্ষায় প্রমাণ করেছে, যারা প্রতিদিন চার বা ততোধিক কাপ কফি পান করে তাদের বিষন্নতা হওয়ার সম্ভাবনা যারা কখনও পান করেনি তাদের চেয়ে ১০ ভাগ কম। কফিতে উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইন নামে এক প্রকার উপাদান থাকার কারণেই এটি সম্ভব। তবে কোকাকোলোতে ক্যাফেইন থাকা সত্ত্বেও তা বিষন্নতা বাড়িয়ে দেয়। 

আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২-৪ কাপ কফি পান করলে ছেলেদের আত্মহত্যার ঝুঁকি হ্রাস পায়। আর মেয়েদের আত্মহত্যার ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে।

স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে কফি। সিউল ন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটিতে ইদুরের মস্তিষ্কের উপর চালানো এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, নিদ্রাহীনতার ফলে মস্তিষ্কের যে চাপের সৃষ্টি হয় কফি সে চাপ লাঘবে সাহায্য করে।

কফির বহুমুখী এইসব গুণের কারণে ‘মি টাইম’ কাটানোর ক্ষেত্রে কফি হতে পারে চমৎকার একটি সঙ্গী। যা একই সাথে আপনার মন, মেজাজ ও শরীরকে করে তুলবে প্রফুল্ল। আনন্দে কাটবে আপনার একান্ত ব্যক্তিগত সময়।


কফি   বই পড়া   শীতকাল   কুয়াশা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন