ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ , ৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পথচলায় হয়ে উঠুন আদর্শ নারী

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৪:২৮ পিএম
পথচলায় হয়ে উঠুন আদর্শ নারী

সুপ্রাচীনকাল থেকে নারী ছিল পর্দার পেছনে। তারা পুরুষের সমকক্ষ নয়, সহযোগী হিসেবে অনুপ্রেরণা দিতো। আজ দিন যখন বদলাচ্ছে, নারী ঝড়-ঘাপটা পার করে এগোচ্ছে তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে। সংসারের মধ্যে নারী আর নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেনি। সংসার তো সামলাচ্ছেই, সেই সঙ্গে নিজের কর্মক্ষেত্রেও সে নিজের দাপট দেখাতে প্রস্তুত এখন। এর মধ্যে অনেক ঘাত প্রতিঘাত আসছে আর যাচ্ছে। নারী আজ যে সব্যসাচীর ভূমিকায় অবতীর্ণ, এজন্য নারীকে নিজের প্রতি অনেক বেশি যত্নবান হতে হবে। নইলে টিকে থাকার লড়াই কঠিন হয়ে উঠবে। ভালো থাকার জন্য নারীকে শারীরিকভাবে সুস্থ আর মানসিকভাবে প্রফুল্লও থাকতে হবে। এজন্য তার করণীয় কাজ নিয়ে থাকবে আলোচনা।

কাজের পরেও নিজের জন্য সময় রাখুন

কর্মজীবী হোর বা সংসারী হোন, কাজকে সহজ করে ফেলুন। এতে করে সারাদিন কাজের চিন্তা মাথায় থাকবেনা, নিজের জন্য একটু একান্ত সময় পাওয়া যাবে। দরকার হলে একটা কাজের লিস্ট করুন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ক্রমানুসারে সাজান। দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হিসেবে কাজ ভাগ করুন।

নিজেকে ভালোবাসুন

গৃহিণী কিংবা কর্মজীবী-দুই ক্ষেত্রেই নারীদের মানসিক চাপ ও ব্যস্ততায় কাটে প্রতিটি মুহূর্ত। সংসার, সন্তান পালন আর সামাজিক কাজের পাশাপাশি রয়েছে পেশাজীবনের দায়দায়িত্বও। সবদিক সামলাতে গিয়ে নারী নিজের প্রতি অমনোযোগী হয়ে যায়। অথচ মানসিক ও শারীরিক সুস্থ থাকার জন্য নারীদের নিজের প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি। তাই নিজেকে ভালবাসুন। শত ব্যস্ততা, দায়িত্ব-কর্তব্যের মাঝেও নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন।

নিজের খাওয়া দাওয়ার প্রতি মনোযোগী

গৃহিণী ও কর্মজীবী নারীরা ব্যস্ততার কারণে নিজের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে পারেনা। এতে সুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি দেখা দেয়। তাই নিজেকে সুস্থ রাখতে পরিবারের সদস্যদের খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি নিজের খাবারের ব্যাপারেও সচেতনতা দরকার। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করেত হবে। নিয়মিত সকালের নাস্তা করুন। প্রতিদিন আমিষ ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান। রাতে হালকা খাবার খান। সেই সঙ্গে প্রচুর পানি পান করুন।

শরীরচর্চা করুন নিয়মিত

গৃহিণী ও কর্মজীবী সব নারীরই উচিৎ কাজের ফাঁকে শরীরচর্চায় আলাদা সময় দেয়া। এজন্য খুব বেশি সময় লাগেনা। কাজের মধ্যেই সেরে নিতে পারেন ব্যায়াম। এই যেমন লিফটে না উঠে সিড়ি ব্যবহার করুন। অফিসে যাওয়া আসার পথে একটু হাটুন। টানা বসে কাজ না করে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। সকালে একটু হাঁটার অভ্যাস রাখুন। ছোটখাটো ব্যায়াম গুলো বাসায় বসেই করুন। এতে করে ফিট থাকুন।

মন-মেজাজ ভালো রাখুন

যতো ব্যস্তই থাকুন, ব্যস্ততার পাশাপাশি জীবনটাকেও উপভোগ করুন। ছুটির দিনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাছে-দূরে কোথাও বেড়িয়ে আসুন। ভালো কোনো সিনেমা দেখুন, পছন্দের বই পড়ুন, বন্ধুদের সময় দিন। গান শুনুন, হাঁটুন। এতে করে মন ভালো থাকবে, কাজে মন বসবে।

একটু খেয়াল রাখুন রূপচর্চায়

ব্যস্ত থাকলে রূপচর্চার জন্য সময় বের করা মুশকিল। নিয়মিত পার্লারে যেতে না পারলে ঘরে বসেই সেরে নিন রূপচর্চা। দ্রুত করা যায় এমন কোনো রূপচর্চা করুন। সপ্তাহে দুদিন গোসলের সময় স্ক্র্যাব দিয়ে মুখ ও শরীর স্ক্র্যাবিং করুন। পাকা পেঁপে, চিনি ও লেবুর রসের মিশ্রণ ভালো স্ক্র্যাবারের কাজ করে। মিশ্রণটি ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণও করতে পারে, এতে কাজের মধ্যেও মিশ্রণটি ফ্রিজ থেকে বের করে ব্যবহার করতে পারবেন।

পোশাক হোক আরামদায়ক

একজন কর্মজীবী নারীকে পোশাকের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয়। কর্মস্থলে অবশ্যই মার্জিত, রূচিসম্মত পোশাক পরতে হবে। শাড়ির ক্ষেত্রে হালকা রঙের সুতি, তাঁত, কোটার কিংবা জর্জেট শাড়ি বেছে নিন। সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রেও সুতির পাশাপাশি হালকা কাজের জর্জেট পোশাক মানিয়ে যাবে।

অফিসের সাজ হবে স্নিগ্ধ

অফিসের সাজে হালকা ও স্নিগ্ধতা রাখা উচিৎ। হালকা ফেস পাউডার, কাজল আর আইলাইনার লাগিয়ে নিলেই যথেষ্ট। লিপস্টিকের রঙ নির্বাচনে উজ্জ্বল ও চকচকে রঙগুলো এড়িয়ে চলুন। চুলটা বেধে বা খোলা রেখে পরিপাটি হয়ে থাকুন।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ