ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ , ৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নিয়মিত শসা খেলে কি হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০১৮ রবিবার, ০৫:৪৪ পিএম
নিয়মিত শসা খেলে কি হয়?

শসা ভিটামিন বি এর খুব ভালো একটি উৎস যা আমাদের মেজাজ ভালো করতে ও মস্তিস্কের কাজের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি মন ভালো করতে চান তাহলে এক টুকরো শসা খেয়ে নিন।আসুন জেনে নিন নিয়মিত শশা খেলে কি হয়?

১. শরীরকে বিষমুক্ত করে:
শসাতে ৯০% পানি রয়েছে। তাই শসার এই পানি দেহের ভিতর জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন করে । যা শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

২. ত্বক ও চুলের যত্নে:
শসার খোসার পেস্ট আপনি চাইলে অ্যালোভেরার মতো সানবার্ন বা ত্বকের চুলকানি সারাতে ব্যবহার করতে পারেন। চোখের ফোলাভাব কমাতে এক ফালি শসা চোখে দিতে পারেন ফলে ফোলা ভাব কমে যাবে। এছাড়া শসাতে থাকা সিলিকন ও সালফার চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৩. ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে:
শসাতে রয়েছে lariciresinol, pinoresinol, and secoisolariciresinol নামক রাসায়নিক যৌগ। এই তিনটি রাসায়নিক যৌগের গবেষণার ইতিহাসে রয়েছে যে এরা বেশ কিছু ধরনের ক্যান্সার যেমন স্তন, অভারিয়ান, জরায়ু, প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে:
এক স্লাইস শসা নিয়ে মুখের ভেতরের তালুতে রেখে জিহ্বা দিয়ে ৩০ সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে শসাতে থাকা ফাইটোক্যামিকেল মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টির জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধংস করে ফেলে।

৪. মাথা ব্যাথা দূর করতে:
মাথা ব্যাথা বা ভার হয়ে থাকা দূর করতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক টুকরো শসা খেতে পারেন। শশাতে থাকা শর্করা, বি ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর ইলেক্ট্রোলাইট মাথা ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।

৫. ওজন কমাতে :
শসা কম ক্যালরিযুক্ত এবং পানিতে ভরপুর থাকার কারনে যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য এটি খুব ভালো। উচ্চ মাত্রার খাদ্যআঁশ ও পানি থাকার কারনে তা দেহের পাকস্থলির বিষাক্ততা দূর করে হজমশক্তিকে উন্নত করে। নিয়মিত শসা খাওয়ার ফলে তা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভালো কাজ করে।

৬. ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে :
শসাতে থাকা অগ্নাশয়ের কোষে ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি হরমোন ডায়াবেটিসের জন্য বেশ উপকারী বলে জানা গেছে। এছাড়া গবেষণায় পাওয়া যায় যে শসাতে থাকা স্ট্রেরল নামক একটি পদার্থ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। শসাতে প্রচুর পরিমানে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও খাদ্য আঁশ আছে যা রক্তচাপ কমাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তাই এই শসা উচ্চ রক্তচাপ এবং নিম্ন রক্তচাপ দুইটির জন্যই ভালো।

৭. বাতের ও আর্থ্রাইটিসের ব্যাথা দূর করতে:
শসা সিলিকার খুব ভালো উৎস যা সংযোজক কলাকে সুদৃঢ় করে হাড়ের জয়েন্ট ভালো রাখে। এছাড়া শসাতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১, বি৬, সি ও ডি, ফোলেট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম। গাজরের জুসের সাথে শসা মিশিয়ে খেলে তা ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে যার ফলে বাতের ও আর্থ্রাইটিসের ব্যাথা দূর হয়।

৫. ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়:
দেহকে সচল রাখতে ভিটামিনের প্রয়োজন । শসাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, বি এবং এ থাকে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য় বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. খনিজের ঘাটতি মেটে:
শসার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম,পটাসিয়াম এবং সিলিকন। এই সবকটি খনিজ শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
তাই আমাদেরকে শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে নিয়মিত শসা খাওয়া উচিত।

বাংলা ইনসাইডার/এএফ/জেডএ