ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অতি পরিষ্কার যখন ক্ষতির কারণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার, ০১:৫১ পিএম
অতি পরিষ্কার যখন ক্ষতির কারণ

নিজেকে আর নিজের সবকিছুকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, জীবানুমুক্ত রাখতে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। সেই সঙ্গে খুঁতখুতানিও আছে অনেক। আমরা সাধারণত যা কিছু দিয়ে নিজেদের বা নিজের সবকিছু পরিস্কার রাখি, তা সবসময় ভালো নয়, ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষতিরও কারণ এমন কিছু পরিস্কারের বাতিকের কথা জানালাম:

কটন বাড দিয়ে কান পরিস্কার

কটন বাড দিয়ে কান অহেতুক খোঁচাখুঁচির ফলে কানে আঘাত লাগতে পারে। এমনকি কানের পর্দাও ছিঁড়ে যেতে পারে ৷ যারা প্রায়ই কান পরিষ্কার করে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে কানে থাকা ওয়াক্স বের হতে পারে না। বরং কান পরিষ্কার করার প্রক্রিয়ায় এর কিছুটা কটন বাডে ধাক্কা খেয়ে কানের সরুপথের আরও গভীরে গিয়ে আটকা পড়ে। এগুলো জমে কানে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাবানের অতিরিক্ত ফেনা তৈরি করা

অনেকেরই অভ্যাস থাকে বেশি করে সাবানের ফেনা তৈরি করে গোসল করা বা হাত-মুখ পরিস্কার করা। অনেকের মনে করেন এতে পরিস্কার বেশি হবে। ঠিক সেরকম কাপড় ধোয়ার সময়েও যতো বেশি ফেনা ততো বেশি পরিস্কার। তবে শরীরের ক্ষেত্রে এমনটি ভাবা ভুল। কারণ এতে করে সাবানের ক্ষার এবং কেমিক্যাল বেশি করে শরীরের সংস্পর্শে আসে।

স্যানিটাইজার

স্যানিটাইজার বা হ্যান্ডওয়াশ শুষ্ক ত্বকের অন্যতম কারণ। এতে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়ে যা হরমোনের স্বাভাবিক কাজে বাধার সৃষ্টি করে। এছাড়া এটি ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়। অনেক সময়ে এগুলো সঠিকভাবে কাজ করেনা। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে শরীরের শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়, ,যা মানবদেশের জন্য ক্ষতিকর।

গোসলে আরাম করে অতিরিক্ত সময় নেওয়া

ত্বক বেশি পরিস্কার বা সুন্দর হবে এই ভেবে অনেকেই গোসলে বেশি সময় নেয়। আবার অনেকেরই অভ্যাস আছে ধীরে সুস্থ্যে আরাম করে গোসল করে, বিশেষ করে সকালে। এটা আসলে ত্বকের জন্য একদম ভালো না। ত্বক বেশিক্ষণ ভিজে থাকলে অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রতিদিন চুল পরিস্কার করা

ধুলো, ময়লা আর ঘাম থেকে বাঁচতে বাইরে থেকে ফিরে অনেকেই গোসলে প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু দেন, যা একদমই ঠিক না। এতে করে চুল পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমাদের চুল যাতে শুস্ক না থাকে তাই প্রাকৃতিকভাবেই মাথা থেকে তেল নির্গত হয়। এতে করে চুল ভালো আর স্বাভাবিক থাকে। প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে সেই তৈলাক্ত ভাবটা আর থাকে না। সেই সঙ্গে মাথার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অতিমাত্রায় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা

স্বাভাবিক ত্বকে প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের কাজে বাঁধার সৃষ্টি হয় এবং যন্ত্রণাদায়ক পদার্থের প্রতি ত্বকের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। ময়েশ্চারাইজারে যে ভিটামিন ই লিনোলিয়েট থাকে তা ফলিকলের সংস্পর্শে আসলে ডারমাটাইটিস বা চর্মরোগ সৃষ্টি করতে পারে। ময়েশ্চারাইজারের মতো কসমেটিক পণ্যই অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডারমাটাইটিস এর মূল কারণ। অকালসিভ সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে খুব সহজেই ঘাম আটকে যায় ও ব্রণের সৃষ্টি হয়।

খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁত ব্রাশ করা

এনামেলের বিষয়টি চিন্তা করে খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁত ব্রাশ করা ঠিক নয়। কারণ খাওয়ার পর দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর দাঁত ব্রাশ করা উচিত। সকালের নাশতা খাওয়ার পর ও রাতের খাবার খাওয়ার পর আধঘণ্টা অপেক্ষা করে তারপর দাঁত ব্রাশ করতে হবে। এ সময়টা দাঁতের এসিড নিষ্ক্রিয় হবার জন্য রাখা উচিৎ।

শরীর ডলে পরিস্কারের প্রবণতা

অনেকেই গোসলে স্ক্রাবার, মাজুনি বা কাপড়ে সাবান লাগিয়ে বেশ জোরে ঘষে শরীর পরিস্কার করে। এটা একদম ঠিক না। এতে করে ত্বকের স্বাভাবিক কোমলতা একদম নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় ত্বক ছড়ে যেতে পারে পর্যন্ত। ত্বকের লোমকূপের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেল উৎপন্ন হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

হাতে নাক ঢেকে হাঁচি দেওয়া

আমাদের যখন তখন হাঁচি আসে, আর তখনই আমরা নাকে হাত দিয়ে হাঁচি দেই। এতে মারাত্মক ভুল করে ফেলি আমরা। ভেতরের যাবতীয় জীবাণু হাতে লেগে যায়। আমরা এই হাত দিয়ে আবার অন্য কাজ করি, খাই, অন্যকে স্পর্শ করি। এতে জীবাণু শুধু ছড়াতেই থাকে।

অন্তর্বাসে সুগন্ধি স্প্রে করা

অন্তর্বাসের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য অনেকেই তাতে বডি স্প্রে, পারফিউম বা ট্যালকম পাউডার লাগায়। এটা নতুন করে জীবাণু উৎপন্ন করতে শুরু করে। এতে সেই জীবাণু এবং সুগন্ধির ক্ষতিকর উপাদান, কেমিক্যাল সরাসরি শরীরের সংবেদনশীল অংশগুলোতে প্রবেশ করে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ