ঢাকা, রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ , ৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রোজায় ডায়বেটিস রোগীদের খাদ্যাভাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:৩৫ এএম
রোজায় ডায়বেটিস রোগীদের খাদ্যাভাস

রোজা এলেই ডায়বেটিস রোগীদের স্বাস্থ্য সমস্যা, খাদ্যাভাস নিয়ে বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হয় যে বোজা রাখা যাবে কি যাবেনা। ডায়াবেটিস রোগে অনেক ধরণের জটিলতা হতে পারে। একজন রোজাদারকে সূর্য্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনেকক্ষণ না খেতে থাকতে হয়, তাই তাদের জটিলতার সম্ভাবনা আরো বেশি। তবে এর সমাধানও আছে অনেক।

রোজার সময় ডায়াবেটিস রোগীদের জটিলতা-

১. রোজায় রক্তের সুগার অতিরিক্ত কমতে পারে যাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। বিশেষত যারা সালফোনাইলইউরিয়া জাতীয় ওষুধ খান, ইনসুলিন নেন, সেহেরীতে অনিয়ম করনে অথবা রোজা রেখে অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন তাদের এই ঝুঁকিটা বেশি। এতে বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম দেওয়া, মাথা ঘোরা, শরীর কাঁপা, চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হয়। সুগারের পরিমাণ ৩ বা এর নিচে হলে রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হবে।

২. আবার সুগার অতিরিক্ত বেড়েও যেতে পারে, যাকে হাইপারগ্লাইসেমিয়া বলে। এর লক্ষণ হলো জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, ঝিমুনি, বমি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে রক্তের সুগার পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন নিতে হবে।

৩. ডায়বেটিস রোগীদের শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হয়। কিন্তু রোজা থেকে পানি না খেতে পারলে  পানিশূন্যতার সমস্যা জটিল হতে পারে।

৪. ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হতে পারে। এতে টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

৫.  এছাড়া অনেকে এই মাসে রোজা রেখে বাকি সময় অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করেন। এর বাইরে ব্যায়াম বা হাঁটাচলা, পরিশ্রম করেন না তেমন।  ফলে রক্তের চর্বি এবং শরীরের ওজন বেড়ে যায়। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হয়ে যায়।

কী করণীয়

শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে রাতের বেলা বেশি পানি পান করতে হবে। তারপরও যদি রোজা রাখা অবস্থায় পানি শূন্যতার পরিমাণ বেশি হয় যেমন জিহ্বা অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া, বেশি বেশি মাথা ঘোরানো, প্রস্রাবের পরিমাণ অতিরিক্ত কম ইত্যাদির কোন লক্ষণ দেখা যায় তবে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

যারা বেশি কায়িক পরিশ্রম করেন বা বাইরে অতিরিক্ত গরমের মধ্যে কাজ করেন, তাদের বেলায় এই ঝুঁকি বেশি থাকে। অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এই পানিশূন্যতা আরো প্রকট হতে পারে।

অনেকে রোজার সময় অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করেন, অনেকে আবার খুবই অল্প আহার করেন। মনে রাখতে হবে ডায়াবেটিক রোগীর জন্য দুটিই ক্ষতিকর। ভারসাম্য রেখে খাবার খেতে হবে।

সেহরির খাবার সেহরির শেষ সময়ের অল্প কিছুক্ষণ আগে খাওয়া। মানে খাওয়া হলেই শুয়ে পড়তে নেই। আর ইফতারের সময় অধিক পরিমাণে মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা ঠিক নয়।

ডায়াবেটিস রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যাতে পানিশূন্যতায় না ভুগতে হয়। একটা খেজুর, ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও টক দই তালিকাভুক্ত করতে পারেন। ডাবের পানি পান করতে পারেন। পানীয় পান করলে চিনিমুক্ত পানীয় বেছে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে কৃত্রিম সুইটনার ব্যবহার করতে হবে। ভাজা পোড়া খাবার যেমন- পেঁয়াজু, বেগুনি, পুরি, পরোটা কাবাব অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

খাদ্যের ক্যালরি ঠিক রেখে খাওয়ার পরিমাণ এবং ধরন ঠিক করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ খাওয়া প্রয়োজন। রোজার আগের ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবারের অভ্যাসটা এই মাসে কমাতে হবে।  প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের কাছে যেতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে ওষুধের সঙ্গে খাবারের যেন সামঞ্জস্য থাকে। ইফতারের সময় অতিরিক্ত খাওয়া এবং শেষ রাতে অল্প খাওয়া যাবেনা।

রোজায় দিনে বেলা না খাওয়া ইফতার এবং সেহেরিতে সময়মত পরিমিত আহারের অভ্যাস যেকোনো ডায়বেটিস রোগীকে সংযম ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। এটিই তো ডায়বেটিসের চিকিত্সার মূল উপাদান। আর এই সময় হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামের খুব একটা সুযোগ হয়না বলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যতটুক পারুন একটু শারীরিক পরিশ্রম করে নিন, শরীরকে ফিট রাখুন। কেমন হতে পারে সারাদিনের খাবার-

ইফতার

জাম্বুরা, তরমুজ, পাকা পেঁপে, আনারসের জুস, সবজির নরম পাতলা খিচুড়ি, দুটি পেঁয়াজু ও বেগুনি, আধা কাপ হালিম, অল্প ছোলাভাজা, দইবড়া ১টি, মৌসুমি ফল (আম, কাঁঠাল, ও কলা ব্যতিত), চিড়া খেতে পারেন।  

রাতের খাবার

ছোট রুটি ২-৩টি, মিক্সড সবজি পৌনে ১ বাটি, ২ টুকরা মাছ/মাংস ছোট, এবং ঘুমানোর আগে অল্প ফল খেতে পারেন।  

সেহরির খাবার

ভাত ২ কাপ (২৪০ গ্রাম)

মাছ বা মাংস ১-২ টুকরা

ডাল ১ কাপ মাঝারি ঘন বা দুধ ১ কাপ (সর ছাড়া)

সবজি ইচ্ছামতো

রোজায় ইনসুলিন

যারা ইনসুলিন গ্রহণ করেন তারা রোজায় দীর্ঘ মেয়াদী ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারেন, এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম। এই ইনসুলিন ইফতারের সময় নিতে হবে এবং প্রয়োজনে শেষ রাতে অল্প মাত্রায় নিতে হবে। ইনসুলিন গ্রহণকারী রোগীদের অবশ্যই রমজানের শুরুতেই ইনসুলিনের ধরণ ও মাত্রা ঠিক করে নিতে হবে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ