ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ , ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

উচ্চ রক্তচাপ নীরব ঘাতক

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:২৬ এএম
উচ্চ রক্তচাপ নীরব ঘাতক

উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ ছাড়াই নীরবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে। যখন বুঝতে পারা যায়, তখন হয়তো এর তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়, অনেকক্ষেত্রে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে। তাই সচেতন হতে হবে আজই।

যেকোনো বয়সে, যে কারোরই উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। একজন মধ্যবয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, আবার বয়স্ক মানুষেরও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। বয়স বেশি হলেই উচ্চ রক্তচাপ হবে এমন ধারণাটা ঠিক নয়।

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণগুলো কী

অনেক সময়ে উচ্চ রক্তচাপ শরীরে বাসা বাধলেও বোঝা যায়না বা খেয়াল করা হয়না। তবে এ বিষয়ে একটু খেয়াল রাখতে হবে। এই লক্ষণ দেখা দিলেই সতর্ক হতে হবে-

১. মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা

২. ঘাড়ের পিছনে ব্যথা

৩. ক্লান্তি বা দিশেহারা ভাব

৪. চোখের দৃষ্টিতে অসুবিধা বা ঝাপসা লাগা

৫. দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

৬. বুকে ব্যথা, চাপ অনুভূত হওয়া এবং বুক ধড়ফড় করা

৭. ঘুমের ব্যাঘাত হওয়া।

৮. উচ্চ পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা

উচ্চ রক্তচাপের কারণ

৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। তবে গবেষণা এবং চিকিৎসাশাস্ত্র পর্যালোচনা করে জানা যায় ধূমপান, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, মদ্যপান, বংশগত কারণে, মানসিক অস্থিরতা, অতিরিক্ত ওজনের কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা

উচ্চ রক্তচাপ থেকে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে। যেমন- স্টো্রক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি বিকল, অন্ধত্ব।

উচ্চ রক্তচাপ রোধে করণীয়

১. নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে।

২. সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রচুর শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে চর্বি ও তৈলাক্ত খাবার।

৩. পাতে কাচা লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তামাকজাত পণ্য, অ্যালকোহল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য পরিহার করুন।

৪. দৈনিক কমপক্ষে আধা ঘণ্টা মিনিট হাঁটুন।

৫. বয়স ও দুশ্চিন্তা অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৬. দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগমুক্ত থাকুন।

৭. প্রয়োজনমতো ঘুমান অর্থাৎ দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা।

৮. ডায়াবেটিস থাকলে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৯. মানসিক ও শারীরিক চাপ সামলাতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন

একটু নিয়ম মেনে চললেই অনেকট সুস্থ থাকা সম্ভব। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবার আগে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে হবে। ওজন কমাতে হবে, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খেতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে এবং ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কোনোক্রমেই চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধ সেবন বন্ধ করা যাবে না। অনেকেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত জানার পরও ওষুধ খেতে চান না, এটা একদমই ঠিক নয়। উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি সম্যসা দেখা দিতে পারে। তাই শুরু থেকে এই ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। এছাড়া বাড়িতে নিয়মিত রক্তচাপ মাপতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে হবে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ