ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ , ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কথা কীভাবে বলতে হয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:৩৪ এএম
কথা কীভাবে বলতে হয়?

আমাদের তো পরিবার পরিজন, সমাজকে নিয়ে বাস করতে হয়। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে হয়। মেলামেশা মানেই সবার সঙ্গে আড্ডা, আলোচনা, বাক্যবিনিময়। কিন্তু আপনি যদি আলাপ-আলোচনায় খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করেন বা কীভাবে কথা বলবেন বুঝে উঠতে না পারেন তাহলে সাবলীলতা মেনে চলুন। নয়তো কথা বলতে গেলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে, অপমানের শিকার হতে পারেন। তাই আলাপচারিতার সময় নিজেকে সামলে নিয়ে চলুন এভাবে:  

আপনার কথা আগে বলার চেষ্টা করুন

আপনার মন দুর্বল হলেও কোনো প্রশ্ন মাথায় আসলে বসে থাকবেন না। দ্বিধা না করে প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করে ফেলুন। অনেকে এতে আপনাকে রোবোটিক মনে করতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি যদি নার্ভাস বা দুর্বল মনের হয়ে থাকেন তাহলে বেশি কথা বলতে গিয়ে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। তাই সবার আগে আপনার কথা বলে ফেলুন। আত্মবিশ্বাস আর আড্ডার ছলে কথা বলবেন। হতে পারে আপনার কথাটি দিয়েই শুরু হতে পারে কথোপকথন।

অন্যকে বলারও সুযোগ দিন

আপনি শুধু ভালো বক্তা হলেই চলবে না, ভালো শ্রোতাও হতে হবে। যখন আড্ডা বা গল্পে বসবেন তখন অন্যকে কথা বলার সুযোগও দেবেন। আপনার যদি অনেককিছু বলার সুযোগও থাকে, তাও অন্যকে তার কথা বলতে দিন। কারণ অধিকাংশ মানুষই তার কথার মাঝে অন্যের কথা দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে বিরক্ত হন। এতে করে আপনি কারো কাছে বিশ্বস্ত হতে পারবেন না।

সম্পূরক মন্তব্যে সতর্ক হোন

কথা বলার আগে পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে নিন। কারো কথার পৃষ্ঠে কথা বলতে গেলে তার কথার প্রসঙ্গটি বুঝুন। তারপর সেই মতো করে প্রাসঙ্গিক কথা বলুন, প্রশ্ন করুন বা উত্তর দিন। আর কেউ কথা বলতে থাকলে মন দিয়ে সেটি শুনুন। মাঝখানে ‘ও আচ্ছা, ওহ, তারপর’- এই কথাগুলো যখন বলবেন, অবশ্যই সেটি সঠিক সময়ের বিরতিতে, প্রাসঙ্গিকভাবে। অপরজনের কথা শেষ হলে সেই প্রসঙ্গেই আপনার প্রতুত্তর বা মন্তব্য করুন।

অন্যের বক্তব্য শোনার ক্ষেত্রে

যখন কোনো একজন কথা বলেন তখন তার অবচেতন মন বোঝার চেষ্টা করে যে শ্রোতার মনোযোগ আছে কি না। এটা সহজাত প্রবণতা। এটি দিয়েই বোঝা যায় যে অন্য কেউ বিরক্ত হচ্ছে বা আঘাত পাচ্ছে কি না। এক্ষেত্রে মস্তিষ্ক অন্যের অঙ্গভঙ্গি, মুখভঙ্গি এবং আচরণগত বিষয়গুলো লক্ষ্য করতে থাকে। তাই  যখন অন্যের কথা শুনবেন, এদিক ওদিক মন দেবেন না বা তাকাবেন না। তাকে প্রাধান্য দিন এবং মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কী শুনছেন তার থেকে বেশি জরুরি কীভাবে শুনছেন।

নিজেকে সবজান্তা ভাববেন না

আমাদের অনেকেরই নিজেদের সবজান্তা ভাবার প্রবণতা আছে। আর কারো সঙ্গে আলাপের সুযোগ পেলে আমরা সেটা বেশি করে জাহির করতে চায়। এই ধরনের মানুষকে আমরা খুব একটা পছন্দ করি না। নিজেকে জাহির করার থেকে অন্যের সঙ্গে সহজ এবং প্রাসঙ্গিক আলাপ করুন। নিজে বেশি কিছু জানলে সেটি শেয়ার করতে পারেন। তবে সব জানেন এমন ভাব নিয়ে বসে থাকবেন না। বরং অন্যের কাছ থেকে আরও কিছু জানার চেষ্টা করুন।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ