ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ , ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হাজারো গুণের নিমপাতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:৩৩ এএম
হাজারো গুণের নিমপাতা

তিক্ত কোনোকিছুই আমাদের পছন্দ নয়। এই যেমন নিমপাতার কথা মনে হলেও কেমন তিক্ততা চলে আসে মনের মধ্যে। কিন্তু এই নিমপাতারই যে কতো গুণ রয়েছে তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। এর গুণের কথা আমরা কিছুটা জানলেও এর যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে জানি না। আজ জেনে নেবো নিমপাতার জাদুকরি অজানা গুণগুলো কি:

ম্যালেরিয়ার সমস্যা কমাতে

ম্যালেরিয়া আমাদের মহামারী এক রোগ। এই রোগে নিমপাতা বেশ কাজে লাগে। কারণ নিমপাতার নির্যাস ব্যবহারে ম্যালেরিয়া ভালো হয়। পানি বা পানীয় জাতীয় দ্রব্যে নিমপাতা মিশিয়ে বা নিমপাতার নির্যাস নিয়মিত খেতে শুরু করুন। ওষুধের পাশাপাশি এটা ভেতর থেকে ভালো কাজে দেবে।

মানসিক চাপ ও অশান্তি কমায়

বিভিনন কারণে যাদের বেশি মানসিক চাপ ও অশান্তি পোহাতে হয়, তাদের নিমপাতার রস নিয়মিত পান করা উচিত। নিমে এমন কিছু গুণ আছে, যার ফলে অল্প পরিমাণ নিমপাতার নির্যাসও এই মানসিক চাপ আর অশান্তি, বিরক্তি কমিয়ে দিতে পারে। তাই একটু কষ্ট করে নিয়মিক নিমপাতা খান।

আলসার নিরাময় ও জন্ডিস প্রতিকার করে

শররের ভেতরে আমাদের কতো অদ্ভুত সমস্যা আর প্রতিকার ব্যবস্থাই তো রয়েছে। সমস্যাগুলোর জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে নিমপাতা অনেক কার্যকর। নিমপাতার রস ও নিম বীজে থাকা রস খেলে পেপটিক ও ডিওডেনাল আলসার ভালো হয়। এছাড়া ২৫-৩০ ফোঁটা নিমপাতার রস একটু মধুর সঙ্গে মিশিয়ে সকালে খালিপেটে খেলে জন্ডিস রোগ থেকে মুক্তি মেলে।

ক্যানসার প্রতিরোধ করে

ক্যানসার প্রতিকার করতেও নিমপাতার ভূমিকা অতুলনীয়। এজন্য নিম তেল, ছাল বা বাকল ও পাতার রস ব্যবহার আর নিয়ম করে খেতে হবে। এতে করে  ক্যানসার-টিউমার, বিশেষ করে স্কিন ক্যানসার প্রতিরোধে নিমপাতা বেশ ভালো কাজে দেয়।

উঁকুন সমস্যার সমাধান

মাথার চুলে উঁকুন হওয়া একটা বিশ্রী ব্যাপার। ছেলে বা মেয়ে উভয়ের মাথাতেই উঁকুন হতে পারে। উঁকুন মাথায় হয়ে থাকে। উঁকুন হলে ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে, রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা এই উঁকুন যথেষ্ট বিরক্তিকর। এমন হলে নিমের ফুল বা পাতা বেটে মাথায় মাখলে উঁকুন চলে যায়।

কৃমি নিরাময় করে

কৃমিও পরজীবীনির্ভর একটি বড় সমস্যা আমাদের। কৃমির সমস্যা নিরাময়ে নিমের গুণাগুণ অপরিসীম। ৩-৪ গ্রাম নিম ছাল গুড়ো করে কিছুটা লবণ বা সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খান নিয়মিত এক সপ্তাহ। শিশুদেরও অল্প পরিমাণে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে করে কৃমি চলে যাবে।

রক্ত পরিষ্কার করে

নিমপাতার রসরক্ত পরিষ্কার করে ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্ত চলাচল বাড়িয়ে হৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক রাখে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও নিমের কোনো তুলনা নেই। কাঁচা নিমপাতা ১০ গ্রাম ২ কাপ পানিতে জাল দিয়ে ১ কাপ অবশিষ্ট থাকতে ছেঁকে নিন। এরপর চিনি মিশিয়ে সেটি খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

দাঁতের যত্নে

আমরা দাঁতের যত্ন নিতে গড়িমসি করি। এ দায়িত্ব নিমের ওপর ছেড়ে দিতে পারেন। কচি নিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভালো থাকে। নিম পাউডার দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ও মাড়ি ভালো থাকে। নিমপাতার রস পানিতে মিশিয়ে বা নিম দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে ফেললে দাঁতের আক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে।

চর্মরোগ প্রতিরোধক

যাদের খোস-পাঁচড়া ও পুরনো বিভিন্ন ক্ষত রয়েছে, বা বিভিন্ন কাটা-ছেড়া বা পোড়া স্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের কাজ করে। নিমপাতার সঙ্গে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে সপ্তাহখানেক লাগালে খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষত কমে যাবে।

ত্বকের যত্নে হোক নিমপাতা

রূপচর্চায় নিমের ব্যবহার অনেক আগে থেকেই। ত্বকের দাগ দূর, ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে নিমপাতা বেটে লাগান। এছাড়াও নিমপাতা ও কমলার খোসা অল্প পানিতে সিদ্ধ করে পেস্ট করুন। এতে এবার মধু ও দুধ মেশান। এই ফেসপ্যাক সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন। এতে ব্রণ, কালো দাগ, ক্ষত বা গর্ত দূর করবে। এছাড়াও নিমের তেল, সাবান, ট্যালকম পাউডার, শ্যাম্পু, লোশন, ক্রিম, টুথপেস্ট, পাতার ক্যাপসুল বেশ প্রচলিত। এগুলো ত্বককে মসৃণ করে ইনফেকশন দূর করে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ