ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঢেঁড়সের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০৩:৫৩ পিএম
ঢেঁড়সের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ

তরতাজা সবজি আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য সবসময়েই প্রয়োজন। প্রতিটি সবজিই আমাদের শরীরে ভিন্ন ভিন্নভাবে উপকারে আসে। গরমের সবজিগুলোর মধ্যে ঢেঁড়স আমাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। গবেষণাতেও বলা হয়েছে, প্রতিদিন ১০০ গ্রাম ঢেঁড়স খেলে শরীরে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবার, নিয়াসিন, ভিটামিন সি, ই, কে, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাসের ঘাটতি অনেকটাই মেটানো যায়। তাই অবশ্যই ঢেঁড়স খাওয়ার প্রতি মনোযোগ দিন এই কারণগুলো ভেবে-

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

আমরা যারা খাদ্যরসিক বাঙালি, তাদের খাবারদাবারে রূচির বিভিন্ন বৈচিত্র্য আছে। এই বিভিন্ন স্বাদ মেটাতে কতো রকমের মশলা, ভাজাপোড়া, বিভিন্ন ঢঙে রান্না খাবার খেলে পেটে হজমজনিত অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থায় ঢেড়স খেয়ে দেখতে পারেন। এজন্য সপ্তাহে ২-৩ দিন ঢেঁড়স সেদ্ধ খাওয়া শুরু করুন। এতে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটবে, বিভিন্ন পেটের রোগও চলে যাবে।

সানস্ট্রোক থেকে বাঁচায়

বিশ্বে তাপমাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়ছেই। এতে করে বাড়ছে বিভিন্ন রোগবালাই, শারীরিক-মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। এজন্য সচেতনতার পাশাপাশি খাবারেও কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিৎ। এজন্য আপনি খেতে পারেন ঢেড়স। কেননা এই সবজিটি আমাদের শরীরে কিছু পরিবর্তন করতে পারে, শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে ঠাণ্ডা করে তোলে। ফলে সানস্ট্রোকে আক্রান্তের আশঙ্কা কমে।

কিডনির ক্ষমতা বাড়ে

গবেষণায় প্রমাণিত যে, নিয়মিত এক বাটি ঢেঁড়সের তরকারি খেলে কিডনির ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো বের হয়ে যায় শরীর থেকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কিডনির সমস্যা সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। সেই সঙ্গে কিডনির যেকোনো ইনফেকশন দূর করে দিতে পারে।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়

ঢেঁড়সে থাকা ফাইবার পেটের বিভিন্ন রোগের প্রকোপ কমায়। সেই সঙ্গে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যারও সমাধান করে। ঢেঁড়স খেলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটে। ঢেঁড়সে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে ত্বকের বয়স কমিয়ে দিতে পারে।

শরীর সচল করে তোলে

শরীরকে সচল এবং রোগমুক্ত রাখতে নিয়মিত ফলেট উপাদানটি খুবই প্রয়োজনীয়। ঢেঁড়সে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলেট থাকে বলে শরীরে অসাড়তা আসতে পারে না সহজে। তাই নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়া শুরু করে দিন। রোগবালাই কম হবে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে।

খুশকির প্রকোপ কমে

গবেষণায় প্রমাণিত, নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়া শুরু করলে স্কাল্প বা মাথার ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতা ফিরে আসে। ফলে খুশকি কমে যেতে থাকে। এছাড়া মাথায় বিভিন্ন চুলকানি, ইনফেকশনের প্রকোপও কমার ‍সুযোগ থাকে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে

ঢেঁড়সে থাকা ফাইবার আমাদের হার্টের পরিচর্চা করে। সেই সঙ্গে বাওয়েল মুভমেন্ট উন্নতি ঘটায়। অর্থাৎ মলত্যাগের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে।  ঢেঁড়স খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যা কমে যায়। তাই প্রতিদিন না খান, নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়ার চেষ্টা করুন। এচঅড়া ঢেঁড়স কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়।

হাড় সুস্থ রাখে

ঢেঁড়সে থাকা ফলেট হাড়ের গঠনে উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি অস্টিওপোরোসিসের মতো রোগকে দূরে রাখে। আর বয়স ৪০ পার হলেই হাড়ের রোগগুলো একটু বেশি হয়, তাই খাওয়াদাওয়ায় একটু পরিবর্তন আনা উচিৎ। বিশেষ করে নারীদের এই বয়সটাতে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে বিভিন্ন হাড়ের রোগ শরীরে আক্রমণ করে। তাই নারীদের জন্য ঢেঁড়স খাওয়া বেশি জরুরি।

ক্যানসার প্রতিহত করে

ঢেঁড়সে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে প্রতিদিন এই সবজি খেতে হবে। এতে করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, শরীরের বিভিন্ন কোষগুলোর বিভাজন ঠিকমতো হয়। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান কোষ গঠনে পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে না। ফলে ক্যানসার সেল জন্ম নেওয়ার আশঙ্কাও কমে।

বাজে কোলেস্টরলের মাত্রা কমে

শরীরে থাকা বাজে কোলেস্টরলের মাত্রা কমানোর জন্য ঢেঁড়সের কোনো বিকল্প নেই। ঢেঁড়সে ফাইবার থাকে বলে শরীরে কোনো ক্ষতিকর কোলেস্টরল কমতে পারে না। তাই যাদের ডায়বেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের জন্য নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়া উচিৎ।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে

বিশ্বে এখন ডায়বেটিস ভয়াবহ এক রোগের নাম। প্রতিবছর নতুন করে ডায়বেটিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। এই পরিস্থিতিতে নিজেকে সুস্থ রাখা এবং ডায়বেটিস থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য নিয়মিত ঢেঁড়স খাওয়া উচিৎ। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন ৬-৮ টা ঢেঁড়স খেলে শরীরে ইনসুলিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে ডায়বেটিস রোগে আক্রান্তের আশঙ্কা কমে যায়।

সূত্র: বোল্ডস্কাই

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ