ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সুস্থ থাকার জন্য দড়ি লাফ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০১:৪২ পিএম
সুস্থ থাকার জন্য দড়ি লাফ

একটা সময়ে স্কিপিং বা দড়ি লাফ আমাদের ব্যক্তিগত কাজের একটি অংশ ছিল। হোক সেটা খেলাধুলা বা শরীরচর্চার উদ্দেশ্যে। কিন্তু দিন পাল্টাতে পাল্টাতে সেই দফি লাফানোর চল অনেকটা চলেই গেছে। এই দড়ি লাফানোর অভ্যাস আমাদের শারীরিক আর মানসিক সুস্থতার জন্য অনেক উপকারেই আসে যা আমাদের অজানা।

অতিরিক্ত ওজন ও পেট কমিয়ে দেবে

গবেষণা বলছে, মাত্র ৩০ মিনিট দড়ি লাফালে ৪৫০ ক্যালোরি পোড়ানো সম্ভব। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ১০ মিনিট দড়ি লাফালে ৮ মিনিটে ১ মাইল দৌড়ানোর সমান শারীরিক পরিশ্রম হয়। আপনি যদি পুরো শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা ভারী হয়ে যাওয়া পেট কমাতে চান তাহলে নিয়মিত দড়ি লাফানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রথমদিকে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে সাধ্যমত স্কিপিং করা শুরু করুন। পরে আস্তে আস্তে সময় বাড়িয়ে নিন।

হার্ট ও ফুসফুস সুস্থ-সবল রাখে

আপনি নিয়মিত দড়ি লাফালে হার্ট ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বহুগুণে বেড়ে যাবে। আপনার দম বাড়াতে, শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার ক্ষেত্রে দড়ি লাফ বেশ কার্যকরী। হার্টকে সচল করলে সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক করবে। ফলে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশের টিস্যুগুলোতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি-উপাদান পৌঁছে যাবে।

মাংসপেশীকে সবল রাখে

নিয়মিত স্কিপিংয়ের ফলে আপনার শরীরের ওপরের ও নিচের অংশ অর্থাৎ কোমর থেকে পায়ের পাতার মাংসপেশীর গঠন সুন্দর ও দৃঢ় হয়। ফলে শরীরের পেশীগুলো শক্তিশালী হয়, সবল হয়ে ওঠে। আর পেশী দুর্বল হওয়া মানে কাজেকর্মে অবসাদ নেমে আসা। আর দড়ি লাফানোর সময়ে হাত এবং কাঁধ ব্যবহার করা হয় বিধায় সেগুলোও কর্মক্ষম থাকে।

নমনীয়তা, ভারসাম্য, সমন্বয় ও মনোযোগ বাড়ায়

দড়ি লাফের নিয়মিত অভ্যাসে আপনার শরীর আগের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয় হবে এবং আপনার শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় ঠিক রাখতে সাহায্য করে। দড়ি লাফানোর সময়ে আমাদের মস্তিষ্কের দুটি অংশই সমানভাবে সক্রিয় থাকে। সেজন্য সব কাজে মন:সংযোগ বাড়তে থাকে।

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে পারে

নিয়মিত দড়ি লাফালে আপনার শরীরের হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, হাড়ের ক্ষয় রোধ হয় এবং অস্টিওপোরোসিস জাতীয় মারাত্মক সমস্যা থেকে দূরে রাখে।

মসৃণ-উজ্জ্বল ত্বকের জন্য

দড়ি লাফের সময় আমাদের ক্যালোরি খরচ হয় এবং অল্প সময়ে পর্যাপ্ত পরিশ্রম হয়। শরীর থেকে ঘাম এবং অন্যান্য বিষাক্ত উপাদানগুলো বেরিয়ে যায়। এতে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা, মসৃণতা ও সজীবতা বৃদ্ধি পায়।

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

সব ধরনের ব্যায়ামই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দড়ি লাফ মানেই যেকোনো খেলার বেশ সহজ বিকল্প। খেলাধুলার মতো বেশি সময়েরও প্রয়োজনও হয়না দড়ি লাফে। আর এই ব্যায়ামের ফলে হৃদরোগ, ডায়বেটিস, আথ্রাইটিস, স্থুলতার মতো রোগবালাইগুলো প্রতিরোধ হয়।

মানসিকতা ইতিবাচক হয়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় বলে মন মানসিকতাও ভালো থাকে। কারণ সুস্থ দেহে সুস্থ মন- কথাটি সবখানেই প্রচলিত। রোগব্যাধি কমে গেলে মন থাকবে স্বতঃস্ফূর্ত, চাঙ্গা, প্রাণবন্ত ও ফুরফুরে। মানসিক অবসাদ, দ্বিধা সংকোচ সব চলে যেতে থাকবে। তাই নিয়মিত দড়ি লাফানোর সুঅভ্যাস আজ থেকেই গড়ে তুলতে শুরু করুন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ