ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কীভাবে বুঝবেন আপনার সহকর্মী মাদকাসক্ত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৮:৩৬ এএম
কীভাবে বুঝবেন আপনার সহকর্মী মাদকাসক্ত?

মাহিনের সঙ্গে প্রায় তিনবছর ধরে একই অফিসে কাজ করছে শিপন। কাজের ব্যাপারে মাহিন মোটামুটি মনোযোগী, দক্ষ বলাই যায়। অফিসে সবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও বেশ ভালো। আর অফিসের বাইরেও মাহিনের সঙ্গে শিপনের সহকর্মীর বাইরেও একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। দুজনের মধ্যে শেয়ারিং কেয়ারিংও ভালো। তাদের অফিসে তারাসহ আরও ৫-৬জন নিয়ে ভালো একটা দলও রয়েছে। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, অবসরে আড্ডা, গান শোনা বা ঘুরে বেড়ানোও হয় তাদের। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে মাহিনের মধ্যে কেমন একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অফিস সংক্রান্ত কিছু কাজ গুছিয়ে উঠতে পারছে না সে, আবার পরিবারেও কোনো একটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে যেটা সে প্রকাশও করছে না। তাঁর গতিবিধি দেখে অনেকেই আবার সন্দেহ করে বলছে, ‘মাহিন সাহেব মাদকাসক্ত হয়ে যাননি তো?’

অসম্ভব চাপ, দুশ্চিন্তা, বিরক্তি থেকে একজন মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়তে পারে। সাধারণত কৈশোর থেকে যৌবনের শুরুর দিকে তরুণ সমাজই বেশিমাত্রায় মাদকের দিকে ঝোঁকে। তবে এমন কিছু সময়ও জীবনে আসে, যখন পরিণত একজন মানুষও স্বাভাবিক জীবন থেকে পালাতে মাদকের অন্ধকার পথ বেছে নেয়। মাহিনের মতো আপনার কর্মক্ষেত্রে আপনি এমন কাউকে পেতেই পারেন যে কিনা আপনার চোখের সামনে বদলে যাচ্ছে, ডুবে যাচ্ছে নেশার জগতে। আজকাল কর্পোরেট জগতে মাদকাসক্তির পরিমাণও বেশ ভালোই চোখে পড়ছে। সহকর্মী আমাদের কর্মজীবনে সবসময়ে কাছে থাকা মানুষ। তাই খেয়াল রাখুন সহকর্মী মাদকের ছোবলে পড়ছে কি না। সহকর্মী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে কিনা বুঝতে হলে এই বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখবেন:

যদি অফিসে অনিয়মিত বা দেরি করে আসে

কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে খেয়াল করবেন যে সহকর্মী মাঝেমাঝেই অফিস কামাই করছে কি না। হয়তো মাদকের অভ্যাসের কারণে সে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না বা সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে পারছে না। বা শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা, কাজের প্রতি অনীহার জন্য সে অফিসে অনিয়মিত এবং দেরি করে আসার প্রবণতা তৈরি করতে পারে।

অমনোযোগী

যদি দেখেন আপনার সহকর্মী কাজের বিষয়ে দিন দিন অমনোযোগী হয়ে পড়ছে তাহলে একটু খোঁজ রাখার চেষ্টা করুন। আবার খেয়াল করবেন মাদকে আসক্ত হলে মানুষ কারও কোনো কথা মন দিয়ে শোনে না। আপনি অনেককিছু বলতে থাকলেও যদি সে তাতে গুরুত্ব না দেয়, গুছিয়ে কিছু বলতে না পারে বা কোনোকিছু মনে রাখতে না পারে- তাহলে বুঝবেন সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে হয়তো।

মিথ্যা বলছে

মাদক গ্রহণের অন্যতম লক্ষণ হলো মিথ্যা কথা বলা। যেখানে মিথ্যা বলার প্রয়োজন নেই, সেখানেও মিথ্যা বলে তারা। তারপর বিনা কারণে বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করা, নিজেকে সবার কাছে ভালো রাখতে যদি কাউকে বিপদে ফেলতে হয় তাতেও আপত্তি করে না একজন মাদকাসক্ত মানুষ।

টাকা ধার চাইছে

ধরুন আপনার সহকর্মী যখন তখন আপনার কাছে টাকা চেয়ে বসছে। এই লক্ষণটা কিন্তু ভালো নয়। খোঁজ নিন সে কোনো জরুরি প্রয়োজনে টাকাটা নিচ্ছে কি না। যদি জরুরি কোনো কারণ না হয়ে থাকে তবে তার টাকা চাওয়ার কারণ ভিন্ন হবে। কারণ নিয়মিত মাদকের যোগানের জন্য তার অতিরিক্ত টাকাপয়সা দরকার হয়।

যখন তখন ঘুম

অফিসে বসে সাধারণত ঘুমানোর বিধান নেই। কিন্তু আপনার সহকর্মী যদি সময়ে অসময়ে ঘুমিয়ে পড়েন বা তাকে দেখে যদি মনে হয় দীর্ঘদিন না ঘুমিয়ে রয়েছে তাহলে একটু সতর্ক হোন। কারণ মাদকে আসক্ত হলে ঘুমের কোনো ঠিক থাকে না, যখন তখন ঘুম পায়। তাকে সবসময়েই কেমন ক্লান্ত দেখায়।

বেশি আবেগাপ্লুত হলে

যদি আপনার সহকর্মী কখনো ধীরস্থির হতে না পারে, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া নার্ভাস বা ভীত থাকে, তাহলে সন্দেহ করতে পারেন যে সে মাদক সেবন করছে। এর বাইরেও তার মধ্যে অত্যধিক ক্লান্তি বা উত্তেজনা কিংবা উভয় দেখা দিলেও সেটি মাদকের লক্ষণ। সে হুটহাট রেগে যেতে পারে, বিনা কারণে বেশি হাসাহাসিও করতে পারে। মানে তার আবেগের কোনো নিয়ন্ত্রণই থাকে না।

আপনাদের এড়িয়ে চলছে

আগের হাসিখুশি মানুষটি এখন আর হাসিমুখে কথা বলে না, আপনাদের আড্ডা দেখলে সরে আসে, কোথাও ঘুরতে যায় না, খাওয়ার সময়েও দুরে দুরে থাকে তাহলে বুঝবেন সে হয়তো অন্য আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েছে। এমনকি আপনার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিতে পারে। বেশি করে অভিমানও করতে পারে।

অভ্যাস বদলে গেলো কি না

প্রতিটা মানুষের আলাদা আলাদা বিভিন্ন অভ্যাস থাকে। এই যেমন খাওয়ার অভ্যাস, নির্দিষ্ট একটা বন্ধু সার্কেলে চলার অভ্যাস, কিংবা কোনো ভালো বা খারাপ অভ্যাস। কিন্তু আপনার সহকর্মী যদি মাদকে ডুবে যায় তাহলে তার স্বাভাবিক অভ্যাসগুলো বদলে যেতে থাকবে। সে নতুন অভ্যাসে অভ্যস্ত হতে থাকবে। তার গতিবিধিও বদলাতে থাকবে।

শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে কি না

সহকর্মীর শরীর হঠাৎ করে যদি খারাপের দিকে যায়, সেদিকে সতর্ক হোন। তার চোখমুখ, হাত পা নড়াচড়া, শরীর কাঁপছে কি না, বা কথা বলতে গিয়ে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কি না সেটা দেখুন। এমনটা হলে সতর্ক হন।

এই ঘটনাগুলো ঘটলে বসে থাকবেন না। সহকর্মী বা বন্ধু হিসেবে তার পাশে দাঁড়ান। মাদক থেকে বাঁচাতে তাকে ভরসা দিন, কোনো অ্যাডিকশন সাইকিয়াট্রিস্ট বা রেফারেল চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ