ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বৃদ্ধ বাবা-মায়ের যত্ন নেবেন কীভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:৪০ এএম
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের যত্ন নেবেন কীভাবে

জীবন সময়ের বাঁকে যখন বার্ধক্যে এসে পৌঁছে, চলমান পৃথিবী থেকে বার্ধক্যের মানুষগুলো কেমন যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে থাকে। তাদের করণীয় তেমন কিছু থাকে না, দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো থেকে তারা অবসরে চলে যায়। সবচেয়ে সমস্যা হয় যখন তাদেরকে মূল্যায়ন বা সময় দেওয়ার মতো সময় তাদের সন্তান বা স্বজনদের থাকে না।

বিশ্বের সঙ্গে এখন দেশেও আমাদের গড় আয়ু বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এখন আমাদের একটা বড় জনগোষ্ঠীই হলো বৃদ্ধ। কিন্তু আমরা সন্তানেরা বিভিন্ন কাজের অজুহাতে বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেলে তাকে সময় দিতে চাই না বা মূল্যায়ন করতে পারি না। এটা অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা। আমাদের সন্তানদের বোঝা উচিৎ তাদের অসুস্থতার কথা। এই সময়টাইতেই তাদের পাশে সঙ্গ দরকার, ভালোবাসা আর মমতা দরকার। একটা বিষয় বেশ লজ্জাজনক বলা যায়। খেয়াল করলে দেখাই যায় যে, সন্তানেরা বোধহয় বিত্তবান বাবা মাকেই যত্ন করে বেশি!

বৃদ্ধাশ্রম শব্দটির সঙ্গে আমরা পরিচিত হলেও বিষয়টি আমাদের দেশে কিন্তু অতোটা প্রচলিত না বলা যায়। আমরা সন্তানেরা হয়তো হুটহাট করেই বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিতে পারি না। যৌথ পরিবার রীতি ভেঙে গেলেও সন্তানের চাকরি, কর্মজীবন আর তাদের সন্তানদের লালনপালনের স্বার্থে অনেক বৃদ্ধ বাবা-মায়েরাই এখন শহরের দিকে সন্তানের সঙ্গেই বাস করছে। পরিবারে বাবা মাকে আলাদা সময় দিন, খেয়াল রাখুন।

পরিবারের সিদ্ধান্ত এবং ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন, তাদের পরামর্শ নিন। এতে তাঁরা আর নিজেদেরকে অসহায় মনে করবে না। তাঁরা ভাবতে পারবে, তাঁদের ইচ্ছা, পরামর্শকে আপনি এখনো প্রাধান্য দেন।

দিনের শেষে বাসায় ফিরে আসার সময় মা-বাবার জন্য সামান্য কিছু হলেও নিয়ে আসুন, দেখবেন এতে তারা খুশি হয়ে উঠবে। তাদের প্রতি ভালোবাসাটাকে প্রকাশের একটু অবকাশ রাখুন। 

বাবা-মাকে সুযোগ-সুবিধা মতো গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন। সেখানে তাদের বিভিন্ন স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। শহরের বন্দি জীবন থেকে বেরিয়ে তাদেরও প্রয়োজন খোলামেলা কোথাও সময় কাটানো। যেখানে তাদের বিভিন্ন স্মৃতি জমা আছে, সেখানে নিয়ে যান।

ছুটির দিনগুলোতে তাদের একটু বেশী সময় দিন। তাদের পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াতে পারেন। ঘরের বিভিন্ন কাজের মধ্যে টুকিটাকি কাজে তাদের সাহায্য করতে বলুন। সবচেয়ে ভালো হয় তাদের নিয়ে বাইরে কোথাও ঘুরে আসলে।

সন্তানের উন্নতি হোক, সেটা বাবা মা সবসময়েই চান। কিন্তু সেই উন্নতির পিছনে ছুটতে গিয়ে যদি বৃদ্ধ বাবা-মাকে সময়ই দিতে না পারেন, তাহলে কি লাভ হলো। আপনার সান্নিধ্য তাদেরকে অন্যসব কিছু থেকে বেশী খুশি রাখতে পারবে। এতে আপনি নিজেও খুশি থাকতে পারবেন।

আর আপনি যদি সারাদিন সময় দিতে না নাও পারেন, তাও মা-বাবাকে একা সময় কাটাতে দেবেন না। এতে তারা মানসিকভাবে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই তাদের ছোটখাটো কাজে উৎসাহিত করতে পারেন।

যে পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুইজনই চাকুরি করেন তারা বুঝতে পারেন না যে কীভাবে সময় দিবেন মা-বাবাকে। দিনের শেষে এসে হলেও একটু সময় দেবেন তাদের। একটু চা করে এনে, মা-বাবার সঙ্গে গল্প করতে পারেন। সারাদিনের ঘটনাগুলো তাদের কাছে শেয়ার করুন। তাদের কথাগুলো শুনুন।

আর বাইরে থাকলে দিনে সময় করে খোঁজখবর নেবেন তাদের। তাদের কোনো সমস্যা হলে জানার চেষ্টা করুন। নিয়মিত ওষুধ খেলো কি না, খাওয়াদাওয়ায় কোনো সমস্যা হলে ঠিকমতো খেয়াল রাখুন তাদের।

তাদের জীবনের বিশেষ দিনগুলো মনে রাখুন এবং ছোটখাটো সারপ্রাইজ দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে তাঁরা যে আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তাঁরা বুঝতে পারবে।

মর্নিং ওয়াকে আপনার বাবা বা মায়ের জগিং এর সঙ্গী হতে পারেন। এতে তারা ভালো অনুভব করবে। আর পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠান বা সাংসারিক কোন বড় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করুন। প্রয়োজনে তাদের থেকে পরামর্শ চাইতে পারেন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ