ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সম্পর্কের মাঝে এমন কোনো অভ্যাস নয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০১:৫২ পিএম
সম্পর্কের মাঝে এমন কোনো অভ্যাস নয়

ভালোবাসার সম্পর্ক মানেই দুজনের মধ্যে একটা অভ্যস্ততা তৈরি হওয়া। একজন আরেকজনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া, ভালোমন্দ দেখাশোনা করা। কিন্তু দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পরেও দুজনের সম্পর্কে একসময়ে ভাটা পড়তেই পারে। কিছুটা তিক্ততা, বিরক্তিও চলে আসতে পারে। তার কারণ আমরা সম্পর্কের মাঝে এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি যা সম্পর্কের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

সঙ্গীই জীবনের সবকিছু-এটা ভাববেন না

আপনি যদি সঙ্গীকে জীবনের একমাত্র অবলম্বন ভাবা শুরু করেন, তাহলে বুঝতে হবে আপনার জীবনে অন্যকিছু নেই বা আপনি অন্য বিষয়গুলোকে কম গুরুত্ব দিচ্ছেন। মাথায় রাখতে হবে যে নিজেকে গুরুত্ব দিতে হবে, না হলে জীবন একসময় অর্থহীন হয়ে যাবে। তখন সঙ্গীর উপরেই সব দোষ চাপাতে ইচ্ছে হবে। সঙ্গীর পাশাপাশি নিজেকেও অনেকটাই গুরুত্ব দিতে হবে, সমস্যার সমাধান হবে।

সারাক্ষণ সঙ্গীর সঙ্গে থাকবেন না

সম্পর্ককে টেকসই করে তুলতে সঙ্গীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে, এটা ঠিক। তবে সবসময় একে অপরের সঙ্গে থাকতে হবে, সারাক্ষণ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে- এমনটা ভাবা ঠিক নয়। কারণ এতে করে সম্পর্কই হালকা হয়ে যেতে পারে, টান কমে যেতে পারে, বিরক্তিকরও হয়ে যেতে পারে। তাই দুজনের জন্য ছাড় দিয়ে সঙ্গে থাকতে হবে, তবে সবসময়ের জন্য না।

সঙ্গী আপনাকে সবসময়ই বুঝবে না

একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, একান্ত আবেগগুলো আমরা নিজেরা বুঝতে পারলেও সঙ্গী সবসময় বুঝবে না। তাই কিছু বিষয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেদেরকেই সমাধান করে নিতে হয়। সঙ্গী আপনার সবকিছু কেন ভাবছে না বা বুঝছে না, সেটা ভেবে মন খারাপ করলে চলবে না।

অন্যের কাছে নিজেদের সমস্যার সমাধান আশা করবেন না

সম্পর্কে খুটখাট লাগতেই পারে। অনেক সময় বন্ধুর সাহায্য নেয়াই যেতে পারে ঝগড়া মেটাতে। তবে বুঝতে হবে কোন ঝামেলাগুলো বন্ধুরা সমাধান করে দিতে পারেন এবং কোনগুলো তাদের এখতিয়ারের বাইরে। নিজের সঙ্গীর মনোভাব বুঝেই ব্যক্তিগত বিষয় বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করা ভালো।

সবসময় একে অপরকে খুশি রাখার চেষ্টা না করা

বেশি ভালো কখনোই ভালো নয়। সবাই সঙ্গীকে খুশি করতে চায়। তাই বলে সবসময় নিজের সঙ্গীকে খুশি করাটা যদি জোর করে দায়িত্বের মতো করে পালন করেন তবে সেটা একসময় অসহ্য বা বিরক্তির পর্যায়ে চলে যেতে পারে। কারণ তখন মনের টানের থেকে সম্পর্ক রক্ষা বা ফরমালিটির তাগিদ থেকে একে অপরকে খুশি করতে হয়। এতে সম্পর্কের অবনতিই ঘটে।

দুজনের ব্যক্তিগত কাজ মিলিয়ে ফেলা

সবারই বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজ থাকতেই পারে। সেটা একান্ত নিজেরও হতে পারে। নিজের সঙ্গীকে যে সব কথা বলতে হবে বা সব কাজে তাকে সঙ্গে রাখতে হবে, এটা ভাববেন না। আর দুজনেরই কিছু ব্যক্তিগত পরিসর থাকতে পারে। সেখানে সবসময় ঢোকা, তাকে সাহায্য করা মাঝেমাঝে তার বিরক্তির কারণও হতে পারে। তাই দুজনে পৃথকভাবে করার মত কিছু কাজ বাকি রেখে দিন। ঝামেলা কম হবে।

প্রেম কখনো লোকদেখানো নয়

প্রেম ভালোবাসা অবশ্যই মন থেকে আসে। কাউকে দেখিয়ে সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, শপিং করা, একই রেস্টুরেন্টে খাওয়া, সামাজিক মাধ্যমে ছবি শেয়ার করা- এগুলো করে সবার সামনে সম্পর্ককে প্রতিষ্ঠিত করে তোলা যায় না। আগে নিজেদের সমস্যা থাকলে সমাধান করে একান্তে দুজনে সময় কাটান। এতে করে আপনাদের সম্পর্ক লোক না দেখিয়েই ভালো আর স্বচ্ছ রাখা যাবে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ