ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দাম্পত্য কলহের জন্য সহকর্মী কতোটা দায়ী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:২৮ এএম
দাম্পত্য কলহের জন্য সহকর্মী কতোটা দায়ী?

অফিসের সহকর্মী বনাম দাম্পত্য কলহ- বর্তমান সময়ের বাস্তব একটি চিত্র। এই কলহ বাড়তে বাড়তে যে বিচ্ছেদের মতো ভয়াবহ ঘটনাও কম ঘটছে না। সিহাব আর জুঁথির বিয়ে হয়েছে প্রায় ৬ বছর। স্বামী-সন্তান আর পরিবারকে গুছিয়ে উঠতে উঠতে বিয়ের পর চাকরিতে ঢুকতে জুঁথির প্রায় অনেকটা দেরি হয়েছে। মাত্র দেড় বছর আগে বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি শুরু করেছে জুঁথি, আর সিহাব শুরু থেকেই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। ব্যস্ততার ফাঁকে সংসার চলে যাচ্ছে নিয়ম মতোই।

কিন্তু আজকাল ব্যাংকে কর্মব্যস্ত দিন কাটিয়ে বাসায় ফিরে কেমন যেন অশান্তি নেমে আসছে জুঁথির। সিহাব তাঁর অফিস, বাইরে থাকা, বিশেষ করে সহকর্মী নিয়ে একটু বেশিই সন্দেহ করছে। কিছুদিন অফিসের কাজে দেরি হয়েছে, একজন পুরুষ সহকর্মী তাঁকে বাসায় এগিয়ে দিয়ে গেছে। সমস্যার শুরু সেখান থেকেই। এরপর থেকে অফিস থেকে দেরি করে ফিরলে আড়চোখে তাকানো, বাঁকা কথা শোনানোর মতো ঘটনাও ঘটছে। অফিস থেকে সেই সহকর্মী কোনো কাজে ফোন দিলেও সেটা ভালোভাবে নিচ্ছে না সে, খারাপ ব্যবহার করছে, কথা শোনাচ্ছে, তিক্ততা বাড়ছে। কিংকর্তব্যবিমূড় জুঁথি বুঝতে পারছে না কি করবে। মাঝে মাঝে ঝগড়া এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে মনে হচ্ছে একসঙ্গে থাকাটাও সম্ভব হবে না হয়তো!

আধুনিক জীবনের অনেক সংসারেই এখন এই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্বামী বা স্ত্রী উভয়েই সহকর্মী ইস্যুটিকে নিয়ে বরাবরই একটু দুর্বল। অথচ চাকরিজীবীদের দিনের সিংহভাগ সময়ই কাটে অফিসে। সেখানে সহকর্মীরাই সবচেয়ে আপন। কাজকর্মে, ভালো-মন্দে সহকর্মীই পাশে থাকে। বিশেষ করে কাজের বিষয়ে যে ধরনের সমস্যাই থাক না কেন, সহকর্মীকে একজন সহকর্মীই সাহায্য করতে পারে ভালো।

কিন্তু সঙ্গী যদি কোনোভাবে একবার ধারণা করেই ফেলে যে সহকর্মীর সঙ্গে অপেক্ষাকৃত ‘ভালো সম্পর্ক’ গড়ে উঠছে তাহলেই সব শেষ। তখন শুরু হয় দাম্পত্য টিকিয়ে রাখা নিয়ে টানাটানি। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বিশাল এক প্রশ্ন চলে আসে সামনে। হয়তো বিনা অপরাধে শুধু অভিযোগেই সংসার ভাঙনের দিকে যেতে থাকে। মূলত কীভাবে শুরু হয় ভাঙন?

আপনি যদি বাড়িতে এসেও সহকর্মীকে নিয়ে আলাপ করেন

অফিসের বিভিন্ন কাজের প্রভাব আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে পড়বে এটা খুবই স্বাভাবিক। ধরুন সারাদিন কি ঘটলো বা কাজ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা বাড়িতে এসেও করা হয়। কিন্তু যদি বিশেষ কোনো সহকর্মী আলোচনায় প্রায়ই উঠে আসে, তাহলেই বিপদ। সহকর্মীর সঙ্গে আপনার কেমন সম্পর্ক সেটা আপনিই ভালো জানেন। সঙ্গী হয়তো ভাবছে আপনি তাকে নিয়ে বেশি উৎসাহী বলেই এতো কথা হচ্ছে তাকে নিয়ে।

কাজের জন্য ফোন আসে

বাড়িতে আসার পর সঙ্গী চাইবে পুরোটা সময় পরিবারের জন্য হোক। কিন্তু সেই সময়ে যদি নিয়মিত অফিস থেকে ফোন আসে তাহলে সেটা কিছুটা দৃষ্টিকটূ। আপনার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা কোনো সহকর্মী যদি প্রায়ই ফোন দেয়, কারণে অকারণে দীর্ঘক্ষণ ধরে কথা বলে সেটা নিয়ে অবশ্যই আপনার সঙ্গী সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠবে।

দেরিতে বাড়িতে ফেরেন

আপনার অফিস যে প্রতিদিন একই সময়ে শেষ হবে, এমনটা নয়। কাজের চাপ বা কোনো প্রোগ্রাম থাকলেও বাসায় ফিরতে দেরি হয়ে যায়। এরকম প্রায়ই যদি ফিরতে দেরি হয়, বা অফিসসংক্রান্ত বাইরের কাজেও যদি সন্দেহ করা সহকর্মীর সঙ্গে যেতে হয় তবে দাম্পত্যে সন্দেহ আর সংঘাত শুরু হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যম

এখন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে মোটামুটি সবাই সক্রিয়। ধরুন সবাই মিলে অফিসের কোনো প্রোগ্রামে গেলেন, সবাই মিলে ছবি তুললেন। এরকম অনেক প্রোগ্রামে অনেক ছবিতে আপনার কোনো একজন সহকর্মীর পাশাপাশি আপনাকে দেখা গেলো। আপনার সঙ্গী ধরে নিতেই পারে যে আপনার সঙ্গে তার আলাদা সম্পর্ক থাকতে পারে। এ থেকে সন্দেহ দানা বাধতেই পারে। 

বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া

ধরুন অফিসেরই কোনো কাজ, তার জন্যেই ফিল্ড বা অডিটের জন্য বাইরে যেতে হতে পারে। বিশেষ করে একজন নারী সহকর্মীর ফিরতে দেরি হবে দেখে পুরুষ সহকর্মী তাকে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে দিলেও সেটা পরিবার থেকে ভালোভাবে নেয় না।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ