ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রোগ প্রতিরোধক খাদ্যাভাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৬:৩৭ পিএম
রোগ প্রতিরোধক খাদ্যাভাস

বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেয়ে-পরে সুস্থ হয়ে টিকে থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবেশ দূষণ, ভেজাল খাবার এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনের মাঝে শরীরকে সুস্থ রাখা কঠিন। কিন্তু সুস্থ থাকার চাবিকাঠি আপনার হাতেই রয়েছে। আপনি চাইলেই খুব সহজ এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসে অভ্যস্ত হতে পারেন, আর আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অনেক বেশি চাঙা করে তুলতে পারেন।

মাশরুম

বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে মাশরুম আমাদের সাহায্য করতে পারে। কারণ মাশরুমে থাকা উপাদানগুলো শ্বেত রক্ত কণিকার কর্মক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে জটিল বা সাধারণ যেকোনো ধরনের রোগের প্রতিরোধকে অনেকটাই শক্তিশালী করে তোলে। ফলে শরীর ফিট আর সুস্থ থাকে।

জাম

অদ্ভুত স্বাদের এই ফলটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারি। মুখে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ থেকে শরীর বাঁচাতে জাম বেশ সাহায্য করে। জামে থাকা ভিটামিন সি, ই এবং বেশকিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নানাভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। বিষাক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকতে হলে নিয়মিত জাম খেতে শুরু করুন।

লেবু

লেবু তো কতো প্রকারেরই হয়- পাতি লেবু, মৌসাম্বি লেবু এবং কমলা লেবু। এগুলোকে চিকিৎসার পরিভাষায় সাইট্রাস ফল বলে। এই ফলগুলোতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। এই ভিটামিন শ্বেত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন ইনফেকশন এবং ক্ষয়জনিত রোগবালাইও কমে যায়।

লাল আলু

গবেষণায় প্রমাণিত যে, লাল আলুতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। লাল আলুতে ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট মোটামুটি অনেক পরিমাণে থাকে। ফলে শরীর গঠনে সহায়ক হয়। এর পাশাপাশি শরীরে রোগে আক্রমণের প্রবণতা কমে যেতে পারে।

ব্রকলি

ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, সি এবং ই। সেই সঙ্গে বেশকিছু উপকারি খনিজও রয়েছে। ফলে শরীরের একদম ভেতর থেকে রোগ প্রতিরোধক সেলকে শক্তিশালী করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হাড়ের গঠনেও ব্রকলি ভালো কাজ করে। ব্রকলির পাশাপাশি ফুলকপিও শরীরে এই একই কাজগুলো করে।

দই

শরীর ভালো রাখতে দুপুর বা রাতে খাবার পরে নিয়মিত এক কাপ টক দই খাওয়া শুরু করুন। এতে করে দেখবেন শরীরে অনেকটা বল পাবেন। কারণ দইয়ে রয়েছে ভিটামিন এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর করার বিপুল শক্তি। এতে করে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়ে ওঠে, হাড়ও শক্তপোক্ত হয়। ফল একটু বেশি বয়সে হাড়ের রোগে আক্রান্তের আশঙ্কা কমে।

রসুন

ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলার পাশাপাশি হার্টকে সুস্থ রাখতে রসুনের কোনো বিকল্প নেই। রসুনে থাকা বিভিন্ন উপাদান শরীরে উচ্চ রক্তচাপ এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্ট ভালো থাকে। রসুনে থাকা সালফার শরীরের রোগ প্রতিরোধকে শক্তিশালী করে তোলে।

হলুদ

হলুদ যে শুধু রোগকে প্রতিরোধই করে না, আর্থ্রাইটিস মতো রোগকেও প্রতিহত করতে পারে। সেই সঙ্গে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে পারে হলুদ। হলুদে থাকা অ্যান্টি-ইফ্লেমেটরি প্রপাটিজ এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে। এছাড়া হলুদে কার্কিউমিন উপাদানটি শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে পারে।  

আদা

আদায় থাকা জিঞ্জেরল উপাদানটি শরীরের ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ কমাতে দারুন উপকারে লাগে। সেই সঙ্গে যে কোনও ধরনের যন্ত্রণা উপশমেও আদা বেশ কার্যকর।

সূত্র: বোল্ডস্কাই

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ