ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যমজেরা দেখতে একই রকম কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৮:২১ পিএম
যমজেরা দেখতে একই রকম কেন?

যমজ শিশু আমাদের কাছে বরাবরই আকর্ষণের। আশেপাশে হঠাৎ কোনো যমজ শিশু দেখলে আমরা ঘাড় ঘুরিয়ে আরেকবার তাদের দেখি। ভাবতে থাকি যে তারা দেখতে কি একই রকম নাকি কোনো পার্থক্য আছে চেহারায়?

সাধারণত যমজ সন্তানগুলো দেখতে এক রকম হয়। অনেক চেষ্টা করলে হয়তো কিছু পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে তাদের একই রকম মনে হয়। আবার এমনও যমজ আছে যাদের মুখ দেখে বোঝা যায় না যে তারা যমজ। এই যমজদের নিয়ে চিকিৎসা শাস্ত্র কী বলে তা একবার দেখে নেওয়া যাক:

স্ত্রী দেহের ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণুর মিলনে ভ্রূণ তৈরি হয় সেটা আমাদের জানা। প্রতি ঋতুচক্রেই নারী শরীরে একটি ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। কিন্তু কখনও কখনও দুটি ডিম্বাণুও উৎপন্ন হতে পারে। প্রায় একই সময়ে উৎপন্ন হওয়া দুটি ডিম্বাণু থেকে যমজ সন্তানের উৎপত্তি হয়ে থাকে।

আবার এটাই যে শুধু কারণ, তাও নয়। একটি ডিম্বাণু ভেঙে দুটি হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও যমজ সন্তানের জন্ম হতে পারে। এ ব্যাপারে আসলে কী হয় তা জানিয়েছেন ভারতের চিকিৎসক অরুণকুমার মিত্র তাঁর ‘কন্যা, জায়া ও জননী’ গ্রন্থে। তাঁর সেই লেখা অনুযায়ী যমজের বিভিন্নতা সম্পর্কে জানবো আজ।

ভিন্নধর্মী যমজ

সাধারণ দুটি উর্বর ডিম্বাণু থেকে এই ধরনের যমজের উৎপত্তি। এদের আকৃতি ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। গায়ের রং, চোখ বা চুলের রংও আলাদা হয়। তবে উভয়ের রক্ত ভিন্নধর্মী নাও হতে পারে। এই দুটি ভিন্ন ভ্রূণঝিল্লিতে অবস্থান করে এবং স্বতন্ত্র ফুল থেকে পুষ্টির সরবরাহ পায়। সাধারণত এসব যমজের একটি হয় ছেলে এবং একটি হয় মেয়ে। যে সব দম্পতি নিজেরা যমজ, তাদের এরকম যমজ সন্তান লাভের সম্ভাবনা বেশি।

অভিন্নধর্মী যমজ

এই ধরনের যমজ সন্তানের উৎপত্তি একটি ডিম্বাণু থেকে। এই ডিম্বাণু স্বাভাবিক উর্বরতা লাভের পর দুটি সমান ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি ভ্রুণের সৃষ্টি করে। এটি একটি ভ্রূণঝিল্লির মধ্যে দু’ভাগে অবস্থান করে এবং দুটি ভ্রুণ একটি ফুল থেকেই অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি গ্রহণ করে। তা সত্ত্বেও অনেক সময় একটি ভ্রূণ অপেক্ষা অন্যটি বেশি বেড়েও যেতে পারে। এ ধরনের যমজ সন্তান দেখতে একই রকম হয় আর দুটি-ই ছেলে বা দুটিই মেয়ে হতে পারে। অনেক সময় এদেরও দেহের গঠন, মুখাবয়ব, চুল বা চোখের রং হয় একই রকম। এদের রক্তের গ্রুপ হয় সমচরিত্রের। বলা হয়ে থাকে, একজনের চামড়া কেটে অন্যের গায়ে লাগালে তা নিজের চামড়ার মতোই আচরণ করে। তবে, বুড়ো আঙুলের ছাপ আলাদা হয়। কখনও ডিম্বাণুটি অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত হলে সংযুক্ত-দেহবিশিষ্ট যুক্ত যমজ বা সায়ামিজ টুইন-এর সৃষ্টি হয়।

সূত্র: এবেলা

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ