ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ক্যারিয়ার নির্ভরতা থেকে বিয়ে নিয়ে অনীহা

লাইফস্টাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৮:৩৯ এএম
ক্যারিয়ার নির্ভরতা থেকে বিয়ে নিয়ে অনীহা

প্রায় এক বছর হলো একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে কাজ করছেন শাকিলা বাশার। পড়াশুনায় বরাবরই তিনি ভালো, তাঁকে নিয়ে বাবা-মা আর আত্মীয়-স্বজনের প্রত্যাশাও ছিল অনেক। মেয়ে লেখাপড়ায় ভালো বলে তাঁকে প্রফেশন আর ক্যারিয়ারের পিছনেই বেশি আগ্রহী করে তুলেছেন বাবা-মা। শাকিলা নিজেও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খুব প্রত্যাশী ছিল। সে অনুযায়ী ফলও পেয়েছে সে, সব পরীক্ষাতে ভালো ফল, ভালো চাকরি। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেছে অনেক। ক্যারিয়ারের বাইরে পরবর্তী বাস্তব জীবন নিয়ে ভাবনা চিন্তায় ভাটা পড়েছে তাঁর। 

আধুনিক যুগে মেয়েরা পড়াশুনা আর ক্যারিয়ার নিয়ে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে তারা পুরুষের সমান বা তার চেয়েও এগিয়ে এবং অবশ্যই সফল। এখন একটা মেয়ের পূর্ণাঙ্গ নারী হয়ে ওঠা মানে ক্যারিয়ারে সফলতা। এই বিষয়গুলো মানিয়ে চলতে চলতে সময় পেরিয়ে যায় অনেকটা সময়। নিজের সংসার, বিবাহিত জীবন নিয়ে ভাবার অবকাশ হয়ে ওঠেনা। বর্তমান দিনে এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। ক্যারিয়ার আর সফলতার পিছনে ছুটতে গিয়ে কতো সমস্যার মুখেই তো পড়ছে সেই সফল নারীরা। সবচেয়ে বড় কথা, বিয়ের বিষয়ে তাদের মধ্যে অনীহা তৈরি হচ্ছে। পড়াশুনার সময়টা বিয়ের জন্য সঠিক নয়, পড়াশুনা শেষ করে বিয়ে। এই ভাবনা শেষে পড়াশুনা যখন শেষ হলো, তখন মনে হলো আগে প্রতিষ্ঠিত হই। চাকরি হলো, সেই চাকরিতে আরেকটু গুছিয়ে নিতে নিতে আরও দেরি।

কেন এই অনীহা

বিয়ে মানে একটি সামাজিকতা। বিয়ের পর মেয়েদের সম্পূর্ণ নতুন একটা পরিবেশে মানিয়ে চলতে হয় বিধায় মানসিকতার ওপরে একটা চাপ পড়ে। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা মেনে চলা, স্বামী-সংসার-সন্তানকে সময় দিতে গিয়ে নিজের মেধা আর ক্যারিয়ারকে অনেক সময়ে পাশ কাটিয়ে চলতে হয়। ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ বিয়েকে ক্যারিয়ারের অন্যতম বাধা মনে করতে থাকে তারা।

আমাদের দেশে মেয়েদের বিয়ের নূন্যতম বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত। আধুনিকতার বদৌলতে সেটা আগাতে আগাতে এখন বয়সের সীমা নেই কোনো। একটা মেয়ের লেখাপড়া শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হতে হতে যথেষ্ট বয়স পার হয়। কখনো কখনো তা ৩০ পেরিয়েও যেতে পারে। আমাদের সমাজব্যবস্থাতে একটা মেয়ে যখন এই বয়সটি অবিবাহিত অবস্থায় পার করে, তাকে অনেকটা প্রতিকূল পরিস্থিতি পার করতে হয়। তাকে আশেপাশে থেকে অনেক কথা শুনতে হয়। তাতে করে বরং আরও মানসিকতা নষ্ট হতে থাকে।

উপযুক্ত পাত্র পেতে সমস্যা

এই কথা আমাদের সমাজে বেশ প্রচলিত যে বয়স বেশি হলে বা বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে একটা মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র পাওয়া কঠিন হয়। এটা অনেকটাই সত্য। কারণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত একটি মেয়ে আর তার পরিবার পাত্র হিসেবে তার সমকক্ষ বা তার চেয়েও বেশি প্রতিষ্ঠিত সঙ্গী চাইবে। সেই সঙ্গে বয়সটাও খাপ খাওয়ানো চাই। সবকিছু মিলিয়ে পাত্র পাওয়া বেশ দুস্কর হয়। বিয়ের সময়টা আরও বাড়তে পারে। আবার ক্রমাগত পারিবারিক ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক নারীই ভুল মানুষটিকে বেছে নেন বিয়ের জন্য। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, যাকে সামনে পেলাম, তাকেই বিয়ে করে ফেললাম।

পরবর্তীতে সন্তান নিতে সমস্যা

সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় যখন সন্তান ধারণের সঠিক বয়সটাই পার হয়ে যায়। গবেষণা অনুযায়ী, মা হওয়ার জন্য ২৫-৩০ বছর বয়সটাই একেবারে উপযুক্ত এবং শেষ সময় বলা যায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হতে গিয়ে যদি ৩০ বছরেই লেগে যায় আর বিয়ে, সন্তানধারণে ৩৫ বছর পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে সেই ক্ষেত্রে একজন নারী বড় সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। সন্তান ধারণ, গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়।

বিয়ে পরবর্তী দূরত্ব

দেরি করে বিয়ে মানে সবদিক থেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। আর তার মাঝখানের সময়টাতে বিয়ের প্রতি অনীহাবোধ। এর ফলে একটা মেয়ে যখন সংসারজীবনে প্রবেশ করে, সবকিছু মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়। সম্পূর্ণ একটা নতুন পরিবেশ, মানুষের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মন মানসিকতা তৈরি হতে চায় না সাধারণত। ফলে কেমন একটা দুরত্ব তৈরি হয়। মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চলে আসে।

আপনার ক্যারিয়ারকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা এই বিশ্বে, এই সমাজে টিকে থাকতে হলে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু বিয়েটাকে ক্যারিয়ারের কোনো প্রতিবন্ধক ইস্যু মনে না করে সাধারণ কোনো ঘটনা মনে করুন। দেরিতে বিয়ের নেতিবাচক দিকগুলো বিবেচনা করুন। বিয়ের পরেও প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। সেটা মাথায় রাখুন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ