ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কম বাজেটে বিয়ে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৮:২৯ এএম
কম বাজেটে বিয়ে

অধিকাংশ মানুষের জীবনেই বিয়ে একটি বহুলপ্রতীক্ষিত বিষয়। সবারই প্রত্যাশা থাকে বিয়ের দিনটি যেন ধুমধাম ও জাঁকজমকপূর্ণ করে সবার সামনে উপস্থাপন করা যায়। কোন কাজ কীভাবে হবে, কে করবে তা নিয়ে হিমশিম খেতে হয় বাড়ির ছোট-বড় সবাইকে। তাই বিয়ের প্রতিটি অনুষ্ঠান স্মরণীয় করতে চাই পূর্ব পরিকল্পনা। মধ্যবিত্তের বাজেটের মধ্যে কীভাবে নির্বিঘ্নে একটি বিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। 

প্রস্তুতি

সবার আগে ব্যাংকের একটা আলাদা অ্যাকাউন্টে বিয়ের বাজেটের পুরো টাকা পাঠিয়ে নিন। আর সিদ্ধান্ত নিন ওই বাজেটের বাইরে চলবেন না, যতই প্রলোভন আসুক। বাজেট কত হবে, সেটাও ঠিক করে নিন আগে থাকে। 

বিয়ের স্থান

নিজের বা পরিচিত কারো বড় বাড়ি থাকলে অনায়াসে সেখানে বিয়ের আয়োজন করে ফেলা যায়। সেখানে ৫০০-৬০০ লোকের জায়গা হয়েই যায় তাহলে বাইরে বিয়ের আয়োজন করার প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া তো রয়েছে সরকারি বেসরকারি কমিউনিটি হল, ম্যারেজ হল, হোটেল, সরকারি সম্পত্তি, ক্লাব হাউজ। এদের মধ্যে যেকোনো একটি বুক করতে পারেন বাজেটের কথা মাথায় রেখে। আর অবশ্যই বেশ কিছুদিন আগেই বুক দিয়ে রাখবেন। বেশি দূরত্বের মধ্যে বিয়ের ভেন্যু ঠিক করবেন না। যাতায়াতে সময় নষ্ট ও পরিশ্রম হতে পারে। নিজের বাড়ি হলে ছাদ থেকে শুরু করে, বাড়িবারান্দা, বাগান, গ্যারাজ সবেতেই প্যান্ডেল করে নিন। বাড়িভাড়া পুরোটাই বেঁচে যাবে।

অনুষ্ঠান সাজানো

বিয়ের অনুষ্ঠান সাজাতে হলে খরচের বিষয়টি মাথায় রাখুন। খরচ কমাতে হলে থিম বেছে নিন। যেকোনো একটি রং বেছে নিন। সেই রঙের ফুল, কাপড়, ইন্টেরিয়র বেছে নিন। আসল ফুলের দাম বেশি মনে হলে নকল ফুল কিনে নিন, কিনুন সুগন্ধি স্প্রে। ফুলের উপর সুগন্ধি ছড়িয়ে দিন। আর পরিচিত ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে দিয়ে সাজগোজগুলো করে নিতে পারেন।

বিয়ের কার্ড

বিয়ের আমন্ত্রণ কার্ডের ব্যবহার অতিথিদের নিমন্ত্রণ জানানোর জন্য। বিয়ের দিনের পরে এই কার্ড আর কোনো কাজে আসে না। তাই কার্ডের পিছনে অযথা খরচ করার প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ এবং অবশ্যই রূচিসম্মত বিয়ের কার্ড করুন। বড় দোকান বা ডিজাইনার কার্ড শপে গেলে দাম বেশি পড়বে। নিজে ডিজাইন করে কাস্টমাইজড কার্ডও বানাতে পারেন। সুন্দর হবে, দামও কম লাগবে।

অতিথিদের তালিকা

বিয়ে জীবনের খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে এই দিনে পরিবার, আত্মীয়-বন্ধুদের পাশে রাখা জরুরি। অযথা লোক বাড়িয়ে কখনো তালিকা বাড়াবেন না। যাদের সঙ্গে আসলেই সুসম্পর্ক এবং যাদের নিমন্ত্রণ না করলেই নয়, সামাজিকতার খাতির বিবেচনায় আপনার অতিথির তালিকা করে নিন। মনে রাখবেন যে যত সংক্ষিপ্ত তালিকা, খরচ আর ঝামেলা তত কম।

খাবার পরিবেশন

একটি বিয়ে বাড়িতে অতিথিদের সন্তুষ্ট করার প্রধান উপায় ভালো খাবার পরিবেশন। ভালো খাবার মেন্যু সবসময়ের জন্য অতিথিদের মনে থেকে যায়। বর্তশান সময়ে ট্রেন্ডের কথা মাথায় রেখে নানা রকম প্ল্যাটার, কন্টিনেন্টাল রাখেন মেন্যুতে। একদিনেই বেশি রকমের খাবার খাওয়া সম্ভব নয়, তাই অল্প পদের মধ্যেই সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করুন। এতে অতিথিরা তৃপ্তি করে খাবে,  খরচও নিয়ন্ত্রণ হবে।

ওয়েডিং ফটোগ্রাফি

এখন বিয়ের অন্যতম একটি অনুসঙ্গ হলো ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। বিয়ের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে যত্ন করে রাখতেই এই ফটোগ্রাফি। নামকরা সংস্থা বা ফটোগ্রাফারকে দিয়ে ফোটোগ্রাফি করালে স্বাভাবিকভাবেই বেশি খরচ হবে। এক্ষেত্রে নতুন ফটোগ্রাফার, ফ্রেশারদের দিয়ে ফটোগ্রাফি করালে খরচ কমবে। আবার পরিচিত বা বন্ধুবান্ধবের ফটোগ্রাফির হাত ভালো থাকলে তাকেও বিশেষ আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন।

পোষাক ও গয়না

নিজের বিয়েতে সুন্দর করে সাজবেনা, সেটা তো হয় না। অনেকেই প্রফেশনাল ডিজাইনারদের থেকে বিশেষ পছন্দের পোষাক, শাড়ি কিনতে গিয়ে বেশি খরচ করে ফেলেন। ডিজাইনার পোষাক না কিনে ব্র্যান্ডেড দোকান থেকে কিনলে অনেকটাই কম দামে ভাল মানের পোষাক পাবেন। আর গয়নার ক্ষেত্রে ব্রান্ডের দিকে না ঝুকে পরিচিত দোকানে সব গয়না একসঙ্গে বানাতে দিন।

আলোকসজ্জা

আজকালকার বিয়েকে জাকজমকপূর্ণ করে তুলতে ডেকোরেশনের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। ফলে আলোকসজ্জা বা আলোর ব্যবহার বেশি করে ফেলে । কিন্তু এই চোখ ধাধানো সৌন্দর্য বাড়াতে গিয়ে কি অন্যদিকে মনোযোগ না দিয়ে বেশি খরচ ফেলছেন কি  না আগেই ভেবে নিন। অতিথি আপ্যায়ন ও সুন্দর ছবি ওঠার জন্য যতটা প্রয়োজন ততোটা আলোকসজ্জা করুন।

বিয়েতে সাজগোজ

বিয়ের আগে থেকেই বর কনে সাজগোজ নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকবেন। বিয়েতে একটু আলাদা জমকালো সাজতে তো চায় সবাই। কিন্তু সাজের ক্ষেত্রেও মধ্যবিত্ত বাজেটেরে কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। কিন্তু পার্লার ও মেকআপ একটা বিরাট ব্যাপার। বিয়ের দু’দিন আগে পার্লারে দিয়ে ফেশিয়াল, ওয়্যাক্সিং, থ্রেডিং, পেডিকিওর ও ম্যানিকিওর করিয়ে আসুন। পরিচিত পার্লার বা ব্রাইডাল মেকআপ প্যাকেজ গ্রহণ করবেন। এতে কম খরচে সব সেবাই পাবেন। আর প্রফেশনাল পরিচিত কাউকে দিয়ে মেকঅাপ পুরোটা করিয়ে নিতে পারলেই সেটা আরও ভালো হবে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ