ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সন্তানের শৃঙ্খলা শিক্ষায় বাবা-মা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:৩৯ এএম
সন্তানের শৃঙ্খলা শিক্ষায় বাবা-মা

বাবা-মায়ের কাছে সন্তান আজীবনই প্রিয় আর ছোটই থাকে যেন। প্রতিটা বাবা-মাই বেশ আবেগ নিয়েই বলে যে ছেলে বা মেয়েটা দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেলো। কিন্তু একটা সন্তান কখনোই দেখতে দেখতে বড় হয় না। বাবা-মাই তাদের যত্ন আর ভালোবাসায় বড় করে তোলে। কিন্তু এই ভালোবাসা দিলেই সন্তান কখনো সুসন্তান হয়ে উঠতে পারে না। তার জন্য প্রয়োজন হয় অনেকটা শৃঙ্খলা শিক্ষার। সেটা শুরু হয় বাবা-মা আর পরিবার থেকেই। তাই বাবা-মাকে আগে বুঝতে হবে যে তার শৃঙ্খলা কীভাবে দেওয়া উচিৎ।

১. শিশুরা বরাবরই অনুকরণপ্রিয়। বিশেষ করে বাবা-মাকেই তারা বেশি অনুকরণ করে। তাই নিজেকে সন্তানের অনুকরণীয় করুন। আপনি সন্তানের জন্য যা নিয়ম করবেন, নিজেও অবশ্যই তা মেনে চলুন। আপনি যদি সময়ে-অসময়ে টিভি চালিয়ে রাখেন বা ফোনে গল্প করেন, ইন্টারনেট চালান তাহলে আপনার সন্তানও নিয়ম মানবে না, পড়তে বসবে না। সময়ের কাজ সময়ে করুন, সন্তান আপনাকে দেখে শিখবে।

২. সন্তানকে শাসন করার সময় বাবা-মা দুজনই একটা ইউনিট হিসেবে কাজ করুন। একজন শাসন করবেন আর একজন আদর করলেন, এমনটা করবেন না। শিশুকে বোঝাবেন যে ভুলটা ভুলই। সন্তান যেন বুঝতে পারে অন্যায় করলে মা ও বাবা দুজনেই রাগ করেন। পরে সেটা আর সে করবে না।

৩. সন্তান যতই ছোট হোক, তাকে সম্মান করুন। তার মতামতের গুরুত্ব দিন। ওর মতামত যদি মানার মতো হয়, মানুন। আর তা না হলে যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে বলুন যে কেন তার কথা মানা সম্ভব হচ্ছে না।

৪. একটা কথা সবসময়ে মাথায় রাখবেন যে, সন্তানকে শাসন করার সময় কোনো মন্দবাক্য, গালাগালি ব্যবহার করবেন না। এতে করে সেও সেগুলো শিখবে। বাইরে গিয়ে সেগুলো ব্যবহার করবে। কিংবা আপনার উপরেও সেগুলো প্রয়োগ করতে পারে।

৫. কখনো অন্য কারো সঙ্গে সন্তানের তুলনা করবেন না। তুলনা করে তাকে শোধরাতেও বলবেন না। এতে ওর আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। ভাববে ও বোধহয় আর সবার মতো না।

৬. নেতিবাচকভাবে বা রেগে গিয়ে না বলবেন না, না ইতিবাচকভাবে বলুন। এই ধরুন কোনো কাজে ব্যর্থ হলে আপনি তাকে বললেন যে, তুমি আসলে কিছুই পারো না। এটা না বলে আপনি তাকে বলতে পারেন যে এটা না পারার মতো কিছু না, তুমি চাইলেই পারতে।

৭. শিশুর মাথায় কখনোই শৃঙ্খলা চাপিয়ে দেবেন না। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওর পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিন। ওর মন না চাইলে সেটা জোর দিয়ে করাতে যাবেন না। একেকটি শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক রকম। তাই আপনার শিশু কীভাবে সময় কাটাতে ভালোবাসে, কোন সময়ে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, এগুলো মাথায় রেখে রুটিন বেঁধে দিন। স্কুল থেকে ফিরেই আবার পড়ার টেবিলে বসার জন্য চাপ দেবেন না। কিছুটা সময় ওকে খেলতে দিন। ছবি আঁকা বা ওর শখের কাজে ওকে উৎসাহ দিন।

৮. শিশু কোনো অন্যায় করলে প্রথমে বুঝিয়ে বলুন। তারপর সাবধান করুন। আবার একই কাজ করলে কিছুদিনের জন্য ওর পছন্দের কোনো জিনিস দেওয়া বন্ধ করে দিন কিংবা ওর সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিন। কিন্তু গায়ে হাত তুলবেন না কখনোই। আর সবার সামনে সন্তানের সমালোচনা বা নিন্দা করবেন না।

৯. সন্তানকে সময় দিন। পরিবারের সবাই একসঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় কাটান। নিজেদের ছোটবেলার গল্প ওর সঙ্গে করুন। সব সময় মনে রাখবেন, সন্তান ছোট বয়সে একটু দুষ্টুমি করবেই। খেয়াল রাখবেন আপনার শৃঙ্খলার চাপ যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায়। কারণ তাতে ওর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হবে। মাঝেমধ্যে রুটিন ভাঙার মজাটাও ওকে উপভোগ করতে দিন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ