ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডিভোর্সিদের বিয়েতে সমাজের সংকীর্ণতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:৩২ এএম
ডিভোর্সিদের বিয়েতে সমাজের সংকীর্ণতা

মৌমিতার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় দুইবছর হতে চলল। বিচ্ছেদের পরে সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে নিজে ছোট একটা বাসায় উঠেছে। কিছুদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার পরে আশেপাশের বিভিন্ন কটূকথায় নিজেই নিজের পথ বেছে নিয়েছে। স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নিয়েছে। এখন পরিবার, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব শুধু ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে বলে, আবার সংসারী হওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু মৌমিতা তার মেয়েকে নিয়ে চিন্তিত, তার জন্যেই নতুন সংসার নিয়ে তার চিন্তা।

এরই মাঝে এক সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, দুজন দুজনের প্রতি বিশ্বাসী ছিল, ভালোলাগাও ছিল। কিন্তু বাধ সাধে সেই সহকর্মীর পরিবার। তারা ডিভোর্সি মেয়েকে ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে কোনোভাবেই রাজি হয় না। কারণ আমাদের সমাজব্যবস্থা ডিভোর্সি ছেলে বা মেয়েকে অন্যচোখে দেখে। তাদের দ্বিতীয় বিয়েকে মেনে নিতে অস্বস্তি অবশ্যই হয়।

ডিভোর্সিদের নিয়ে সমাজে প্রচলিত আছে বিভিন্ন বদ্ধমূল ধারণা। তাদেরকে বিয়ে এবং সংসারের ক্ষেত্রে অচ্ছুত মনে করা হয়, তাদের জীবনকে জটিলতায় ভরপুর ভাবা হয়। কিন্তু ডিভোর্সিদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য, ভালোবাসা এবং সম্পর্কের মিলমিশকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। সবসময় অতীতকেও গ্রাহ্য না করলেও চলে। আর তাই ডিভোর্সিদের বিয়ে নিয়ে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা ভালো:

ডিভোর্সিরা হয়তো সম্পর্কে সফল নয়

আমাদের সবারই ধারণা একবার সম্পর্ক ভাঙলে কেউ আর সম্পর্কে সফল হতে পারেনা। এটা ভুল ধারণা। আমরা চাইলে বিষয়টি ভিন্নদৃষ্টিতে দেখতে পারেন। এটা ভাবা উচিৎ যে একটি ব্যর্থ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়াই সাহস আর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। কারণ একটি অকার্যকর আর যন্ত্রণাদায়ক সম্পর্কে আটকে থাকাই অনুচিত। তাই কোনো ডিভোর্সি নারী বা পুরুষ সম্পর্কে ব্যর্থ এটা আর ভাববেন না। কারণ সে হয়তো সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে, বা হয়তো   সঠিক মানুষের জন্য এখনো অপেক্ষা করছে।

আগের বিয়ের বাচ্চা যদি থাকে

ডিভোর্সি ব্যক্তির আগের বিয়েতে সন্তান থাকতেই পারে। অনেকেই সেই সন্তানকে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে বোঝা মনে করতে পারেন। কিন্তু এর উল্টোটাও হতে পারে। কারণ সেই শিশুটিই হয়তো পরে তার নতুন বাবা বা মায়ের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আগে শুধু বুঝতে হবে যে শিশুটি কোনো সংঘাত ছাড়া নতুন বাবা বা মাকে মেনে নিতে পারবে কিনা।

ভাববেন না যে অকারণেই সে সম্পর্ক ভাঙে

কেউ একবার বিবাহ বিচ্ছেদ করলে এটা ভাববেন না যে ছোটখাটো সমস্যাতেই আবার সে সম্পর্ক নষ্ট করবে। তার আগে ভাববেন যে কেন তিনি আগের বিয়ে থেকে বেরিয়ে এসেছেন, বা কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন। বিয়ের সম্পর্কে যদি যথেষ্ট ভালোবাসা বা বোঝাপড়া থাকতো তবে সেটা থেকে নিশ্চয়ই সে বেরিয়ে আসতো না।

ডিভোর্সিরা স্বার্থপর হয় কথাটি ভিত্তিহীন

নিজের সবধরনের শান্তির জন্য কোনো খারাপ সম্পর্কবন্ধন থেকে বেরিয়ে আসাকে স্বার্থপরতা বলা যাবে না। সম্পর্কে টিকতে না পারলে যে কেউ চাইবে সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে। জীবনে শান্তির আশা করা নিশ্চয়ই স্বার্থপরতা না। সুতরাং বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটালেই আপনি কাউকে স্বার্থপর বলতে পারেন না। কাউকে স্বার্থপর বলার আগে তাদের পুরো আচরণ পর্যবেক্ষণ করুন।

বিবাদ পছন্দ করে বলে ধারণা 

কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের লোকই নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ পছন্দ করে না। কোনো ডিভোর্সি যদি তার আগের সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করে, তার মানে এই না যে তিনি পরের সঙ্গীর সঙ্গেও সেই একই কাজ করবেন। আগে কাউকে বিচার করার আগে তার ব্যক্তিত্ব বোঝার চেষ্টা করুন, তারপর তাকে মূল্যায়ন করুন।

সমাজ কি বলবে সেই ভয়

শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত কিংবা হোক সেটা নিম্নবিত্ত শ্রেণী- এখন সমাজের সব স্তরেই বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। তাই ডিভোর্সিকে বিয়ে করতে গেলে এটা ভাববেন না যে সমাজ না জানি কি বলবে। সমাজ এতে বিরোধীতা করে সেটা সত্যি। কিন্তু তাকে টপকে যেতে পারলে সেটা আপনার সাফল্য।

ভালোবাসতে অক্ষম মনেকরা

একজন ডিভোর্সিকে বিয়ের বিষয়ে অনেকেই ভাবেন যে সে ইতিমধ্যেই কাউকে ভালোবেসে ফেলেছে। সুতরাং তার পক্ষে আর নতুন করে কাউকে গভীরভাবে ভালোবাসা সম্ভব নয়। কিন্তু ভালোবাসা নতুন করে গড়ে ওঠে। আর আগের সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা অবশিষ্ট থাকলে সে নিশ্চয়ই সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতো না।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ