ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেন হয় মানসিক সমস্যা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ১১:৫৬ এএম
কেন হয় মানসিক সমস্যা?

শরীর আর মন- এই দুটো নিয়েই আমাদের বসবাস। পরিবেশ পরিস্থিতি, বিভিন্ন অভ্যাসের ওপরই শরীর আর মনের ভালো বা মন্দ থাকা নির্ভর করে। তবে শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা যতটা চিন্তিত, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা ততটা চিন্তিত হইনা। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য অসুস্থ হলে আমরা বুঝতে পারি না। কিন্তু মানসিক অসুস্থতা আমাদের জীবনে অনেক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই জানা দরকার কেন হয় মানসিক অসুস্থতা, কীভাবে বোঝা যাবে এর সম্পর্কে।

কখন বুঝবো মানসিক সমস্যা হচ্ছে

অনেকদিন ধরে দিনের বেশির ভাগ সময় মন খারাপ থাকা, কোনো কাজে আগ্রহ না পাওয়া, আনন্দের অনুভূতি কমে যাওয়া, ঘুম কমে যাওয়া বা বেশি ঘুমানো, ঘুম ভেঙে মনে হওয়া আরেকটি খারাপ দিন শুরু হলো, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, কাজে মনোযোগের অভাব, অহেতুক কোনো কাজের জন্য অনুতপ্ত বোধ করা, ভালোবাসা বা যৌনতার অনুভূতি কমে যাওয়া, ভবিষ্যৎ অন্ধকার মনে হওয়া, খাবার ইচ্ছা কমে যাওয়া বা খুব বেশি খেতে ইচ্ছে করা, শারীরিক কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা থাকা- এগুলোই মূলত মানসিক সমস্যা। এই সমস্যাগুলো একদিনে তৈরি হয়না। তার কিছু কারণ অবশ্যই থাকে।

ছেলেবেলা থেকেই পরিবারে অশান্তি

শিশু ভূমিষ্ঠ হয় একটি পরিবারে। সেই পরিবারেই তার বেড়ে ওঠা, মানুষ হয়ে ওঠা। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষাই আমরা পরিবার থেকে পাই, পরিবার দ্বারা প্রভাবিত হই। কিন্তু কেউ বেড়ে ওঠার সেই সময়টাতে পরিবারে অশান্তি দেখলে সুস্থ মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে না। বিশেষ করে সন্তান তার বাবা-মায়ের দ্বন্দ্ব দেখলে, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মাঝখানে অন্ত:কলহ দেখলে- সেই প্রভাব অবশ্যই তার মধ্যেও পড়ে। সে মনের ভেতরে যন্ত্রণা বোধ করতে পারে, মনের কথা কাউকে বলতে শেখে না বা হীনমন্যতা তৈরি হয়। এই মানসিক সমস্যা তার আজীবনই থেকে যায়।

জেনেটিক বা শারীরিক অসুস্থতা

কারো আত্মীয় পরিজনের মধ্যে মানসিক কোনো রোগব্যাধি থাকলে জেনেটিক্যালি কারো মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানসিক স্বাস্থ্যের জেনেটিক্যালি প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়। আর সেক্ষেত্রে আগে থেকেই সতর্কতার অভাব রয়েছে আমাদের মধ্যে। আবার কেউ যদি বয়সের শুরু থেকেই কোনো জটিল বা দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভোগে, শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটতে থাকে। সুস্থতা না পাওয়ায় তার মধ্যে একটা অশান্তি, খিটখিটে যন্ত্রণাবোধ সর্বদাই থাকে।

প্রেমে ব্যর্থতা

মানসিক সমস্যার অন্যতম মূল কারণ হলো প্রেমে ব্যর্থতা বা সম্পর্কের অবনতি। এই সমস্যা যুগ যুগ ধরেই চলছে। ভালোবাসার সম্পর্কগুলো যেহেতু দ্বিপাক্ষিক, তাই দুজনেরই সমান অনুভূতি প্রয়োজন। কিন্তু সঙ্গীর সঙ্গে কোনো কারণে বিচ্ছেদ ঘটলে সেটা মেনে নেওয়া বেশ মুশকিল হয়। কখনো মন ভেঙে যেতে পারে, কখনো ইগোতে আঘাত লাগতে পারে। সে থেকে শুরু হয় মানসিক টানাপোড়েন আর অশান্তি। আবার চলমান সম্পর্কে কোনো সমস্যা চললেও মানসিকভাবে সমস্যার কমতি থাকে না।

বৈবাহিক সমস্যা

একটা নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিয়ে মানে একজনের সঙ্গে একই ছাদের নিচে সারাজীবন কাটানো। কিন্তু সঙ্গীর সঙ্গে বনিবনা, বোঝাপড়ার অভাবে অনেক বৈবাহিক সম্পর্কের সুতোয় টান পড়ে। কখনো বা বৈবাহিক সম্পর্কের সঙ্গে পারিবারিক সমস্যাগুলোও যোগ হয়। সঙ্গী সন্তানের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বন্দ্বে যখন পরিবারটিতেই অশান্তি শুরু হয়, মনের ওপর চাপ পড়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই।

আর্থিক অস্বচ্ছলতা

যতোই বলা হোক না কেন যে অর্থই অনর্থের মূল, আর্থিক স্বচ্ছলতা ছাড়া কখনো প্রকৃত সুখী হওয়া সম্ভব নয়। চাহিদা অনুযায়ী আর্থিক সঙ্গতি না থাকলে সেটা বয়ে বেড়ানো মানে প্রবল মানসিক চাপের মুখোমুখি হওয়া। বিশেষ করে কারো ওপর যদি দায়দায়িত্ব বেশি থাকে, এবং সেটা পূরণ করতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে হিমশিম খেতেই হয়, কখনোবা ঋণগ্রস্ত হতে হয়। সেই চাপ থেকেই মানসিক সমস্যা।

কর্মক্ষেত্রে কোনো জটিলতা

জীবিকার তাগিদে আমাদের কোনো না কোনো কাজ তো করতেই হয়। কিন্তু বর্তমান কঠিন সময়ে কর্মক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পাওয়া দুস্কর। সহকর্মীর সঙ্গে সমস্যা, কারণে অকারণে বসের শাসন, প্রতিষ্ঠানের চাহিদা পূরণ করতে না পারা বা ব্যবসাতে উন্নতি করতে না পারা- সবমিলিয়ে কর্মজীবন বিষিয়ে উঠতে পারে। এটা মারাত্নক চাপ ফেলে মাথায়।

ঘনিষ্ঠ কারও মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতা

খুব কাচের প্রিয়জনের যদি মৃত্যু হয় বা চোখের সামনে তাকে প্রতিনিয়ত অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে হয়, মনের ভেতর খারাপ লাগা কাজ করে অসম্ভব। মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। তারপর মানুষটির অভাববোধ, শূন্যতা থাকলে মন স্বাভাবিক থাকবে না। আবার কেউ অসুস্থ থাকলে সেটা মেনে নেওয়াও কঠিন আবার তার জন্য কিছু করতে না পারার একটা বোধও ভেতরে কাজ করতে থাকে।

অপরাধবোধ বা সিদ্ধান্তহীনতা থেকে

চলতি পথে ভুল বা কোনো অপরাধ আমাদের হতেই পারে। সেটা কখনো আমরা উপেক্ষা করে যাই। আবার কখনো আমাদের মনের মধ্যে একেবারে গেড়ে বসে। তখন শুরু হয় অপরাধবোধ। নিজেকে যেন কোনোভাবেই ক্ষমা করা যায় না। আবার কখনো কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পেরেও মনের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়। এগুলো থেকেও মানসিক স্বাস্থ্যের অনেকটা হানি হয়।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ