ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বেরিয়ে আসুন মানসিক অসুস্থতা থেকে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০৬:১৩ পিএম
বেরিয়ে আসুন মানসিক অসুস্থতা থেকে

মন থাকলেই খারাপ হবে, এটা সবাই বলে। কিন্তু খারাপ হওয়ারও তো সীমা থাকে। মন খারাপ থাকতে থাকতে , বিক্ষিপ্ত হতে হতে তা একসময় মানসিক অসুস্থতায়ও রূপ নিতে পারে। মানসিক আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা ও তার ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ কাজ না। তা না হলে জীবনে বিভিন্ন দুঃখ-কষ্ট, ব্যক্তিগত সম্পর্কে সমস্যা, ও অন্যান্য মানসিক ব্যধির উদয় হতে পারে। মানসিক সুস্থতা না থাকলে মানুষ আত্মঘাতী হতেও দ্বিধা করেনা।  সুস্থ ভাবাবেগ ও মনের অধিকারী হলে আমরা নিশ্চিন্তে যে কোনও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে পারি। তাই সবার আগে প্রয়োজন মানসিক অসুস্থতা থেকে বেরিয়ে আসা। তার জন্য এই বিষয়গুলো জেনে রাখা ভালো: 

পরিবারের সাহায্য নিন

একটা কথা মনে রাখতে হবে, সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে পরিবারই সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে। মানসিকভাবে বিষণ্ন থাকলে, মনে অসুখ থাকলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগে তা শেয়ার করুন। সমস্যা কখনো চাপা দিয়ে রাখতে নেই। তাতে সমস্যা কখনো কমে না, বরং বাড়ে।

ব্যায়াম করুন, ফুসফুসে চাঙা রাখুন

প্রত্যেকেরই শরীরে কিছুক্ষণের জন্যে হলেও সূর্যের আলো লাগানো উচিৎ। এতে করে আমাদের শরীরে সেরিটিনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান নির্গত হয়। এটি আমাদের মস্তিষ্ককে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে সূর্যের আলোয় আমাদের মন ভালো আর হালকা হয়ে যায়। কায়িক পরিশ্রমও সুস্থ মনের জন্যে জরুরি। ব্যায়ামের ফলে শরীরে স্ফূর্তি আসে, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়।

প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটান

কাছের প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটালে নিজের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জন্মায়। বন্ধুবান্ধব, পরিবার, সহকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন। এর ফলে আপনি সবার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত অনুভব করবেন। সহকর্মীদের সঙ্গে একদিন খেতে যান, বা অনেকদিন পরে কোনো পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা করুন। হাসিখুশি মনে থাকলে মনের অশান্তিকে দূরে রাখা যাবে।

কাছের লোকদের সাহায্য চান

আক্ষরিক অর্থে সুখী ও নিশ্চিন্ত জীবন পাওয়া খুব কঠিন। তাই মন খারাপ হলে, বিপদে পড়লে, হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়লে, বিচলিত হলে, রেগে গেলে, অথবা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে বিশ্বাসযোগ্য কোনো ব্যক্তি যেমন জীবনসঙ্গী, বন্ধু, অভিভাবক, ভাইবোন বা আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলুন। না হলে একজন কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন। দেরি করবেন না। এতে লজ্জার কিছুই নেই।

চিন্তা না করে সমস্যার সমাধান করুন

আমরা কোনো সমস্যায় পড়লে বা মন খারাপ হয়ে গেলে সেটা নিয়ে অসম্ভব চিন্তা করি। এতে করে মানসিক অস্থিরতা শুরু হতে পারে। চিন্তা করলে কখনো কোনো সমাধান সম্ভব নয়। তাই সমাধানের পথ খুঁজতে থাকুন। এজন্য মনে মনেই পরিকল্পনা করে নিন। কীভাবে সমাধান সম্ভব ভাবুন।

প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত করুন

বর্তমান সময়ে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন বা বিভিন্ন যন্ত্র আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যতটা সম্ভব যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোনসহ যন্ত্র ব্যবহার বাদ দিন। এমনকি দিনের বেলাতেও যন্ত্র যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

কোনো শখ গড়ে তুলুন, নতুন কিছু করুন

পছন্দমতো কাজ করলেও মনও ভালো থাকে। এর ফলে মাথায় দুশ্চিন্তা আসে না এবং অবদমিত আবেগগুলিও প্রকাশ পায়। তাছাড়া শখের কাজকর্ম করলে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিও তৈরি হয়, ফলে বাইরের জগতে আপনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মেলে ধরতে শেখেন। নতুন জিনিস শিখলে মনের একঘেয়ে চিন্তা কেটে যায়, মনঃসংযোগ বাড়ে, এবং নতুন কিছু শেখার আনন্দে মন ভালো থাকে।

পুষ্টিকর খাবার খান

পুষ্টিমানসম্পন্ন ও সুষম খাবার খাবেন। খাবারের তালিকায় বেশি করে ফল আর সবজি রাখুন। মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে এমন খাবার, বিশেষ করে বাদাম কিংবা পালংশাকের মতো খাবার খান।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ