ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গাঁজা: মাদক নাকি ওষুধ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০৭:৫২ পিএম
গাঁজা: মাদক নাকি ওষুধ

আমরা কারও কাছে কোনো অবিশ্বাস্য বা অবাক করা বিষয় শুনলেই বলে বসি ‘এটা নিশ্চয়ই গাঁজা খাওয়া তথ্য’। মানে যারা গাঁজা সেবন করে, তাদের কথার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বললেই চলে। আবার বহু বিশেষজ্ঞের কাছে গাঁজা এক ধরনের ওষুধ। অনেক দেশে চিকিৎসার কাজে গাঁজার ব্যবহার চলছে। এটা একটা উদ্ভিদ যা বিশেষ ধরনের মৃগীরোগের চিকিৎসায় ওষুধের কাজ করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাঁজাকে যতই ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হোক না কেন, নীরব ঘাতকের কাজ করার যথেষ্ট দক্ষতা এর রয়েছে। এই অবস্থায় গাঁজা বৈধকরণের মতো পদক্ষেপে বাড়ছে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ।

কিন্তু বেশিরভাগের কাছেই গাঁজা নেশার উপকরণ। আসলে গাঁজা খেলে মন-মস্তিষ্কে অনেক কিছু ঘটে। এটা এমন এক উদ্ভিদ যা মনের ওপর প্রভাব ফেলে। অন্যান্য নেশা দ্রব্য ব্যবহার থেকে বাঁচতে বা মানসিক রোগের চিকিৎসাতেও গাঁজার ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। এখানে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গাঁজা আসলে মন ও মস্তিষ্কে কি ঘটায়?

মস্তিস্ককে সচল করে

গাঁজায় আছে টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনোল (টিএইচসি)। এটা মস্তিষ্কে এমন এক অংশে কাজ করে যে অংশটি সুখকর অনুভূতির সৃষ্টি করে। আবার যারা মাঝে মাঝে বা সব সময় গাঁজা খেয়ে থাকেন, তাদের ক্ষুধা বেড়ে যায়। গাঁজা মস্তিষ্কের এমন একটি অংশকে প্রভাবিত করে যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।

মৃগীরোগ কমায়

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০১৩ সালে জানিয়েছেন, মারিজুয়ানা বা গাঁজা একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় নিলে মৃগী বা কিছু স্নায়ুরোগ থেকে দূরে থাকা যায়৷ বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী জার্নাল অফ ফার্মাকোলজি অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল থেরাপিউটিক্স-এ ছাপাও হয়েছে তাঁদের এই গবেষণালব্ধ তত্ত্ব৷

গ্লুকোমা দূরে রাখতে সহায়তা করে

এই বিষয়টি তো প্রায় দশ বছর আগে জানা গেছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইন্সটিটিউট জানিয়েছিল মারিজুয়ানা গ্লুকোমার ঝুঁকিও কমায়৷ গ্লুকোমা চোখের এমন এক রোগ যা চির অন্ধত্ব ডেকে আনে৷

আলঝাইমার কমায়

দ্য জার্নাল অব আলঝাইমার’স ডিজিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মারিজুয়ানা মস্তিষ্কের দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়াও রোধ করে৷ আর এভাবে আলঝাইমার ঝুঁকিও কমাতে পারে মারিজুয়ানা৷ তবে মারিজুয়ানা ‘ওষুধ’ হলেই রোগ সারাবে, কারো নিয়ন্ত্রণহীন আসক্তির পণ্য হলে নয়৷

ক্যানসারেরও সমাধান

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সে দেশের ক্যানসার বিষয়ক ওযেবসাইট ক্যানসার অর্গ-এ জানানো হয়, মারিজুয়ানা অনেক ক্ষেত্রে টিউমারের ঝুঁকি কমিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধকেরও ভূমিকা পালন করে৷

কেমোথেরাপির ক্ষতি কম

ইউএস এজেন্সি ফর ড্রাগ জানিয়েছে, মারিজুয়ানা ক্যানসার রোগীর রোগযন্ত্রণা অন্যভাবেও কমায়৷ ক্যানসার রোগীকে এক পর্যায়ে কেমোথেরাপি নিতে হয়৷ কেমোথেরাপির অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া৷ মারিজুয়ানা কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত অনেক ক্ষতি লাঘব করে৷

স্ট্রোক কম হয়

এটি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহ্যামের গবেষকদের উদ্ভাবন৷ তাঁরা গবেষণা করে দেখেছেন, মারিজুয়ানা মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতেও সহায়তা করে৷ ফলে স্ট্রোক-এর ঝুঁকি কমে৷

গাঁজা মাল্টিপল সক্লেরোসিসবিরোধী

মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে একটি বিশেষ স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হলে ‘মাল্টিপল সক্লেরোসিস’ বা এমএস নামের এক ধরণের স্নায়ুরোগ হয়৷ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মারিজুয়ানা সেবন করলে এই রোগের ঝুঁকিও কমে।

ব্যথা নিরোধ করে

ডায়বেটিস চরম রূপ নিলে রোগীদের অনেক সময় হাত-পা এবং শরীরের নানা অংশে জ্বালাযন্ত্রণা হয়৷ ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা বলছেন, গাঁজা সেই যন্ত্রণা লাঘব করতে সক্ষম।

হেপাটাইটিস ‘সি’-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমায়

হেপাটাইটিস সি-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কমায় মারিজুয়ানা৷ নির্দিষ্ট মাত্রায় ওষুধের মতো গাঁজা সেবন করিয়ে দেখা গেছে এই রোগে আক্রান্তদের শতকরা ৮৬ ভাগেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কমেছে৷

তবে গাঁজা যতই স্বাস্থ্যকর হোক বা না হোক, আমাদের কাছে সেটি মাদক হিসেবেই পরিচিত। গাঁজা বিষণ্নতা আনে আবার বিষণ্ন মানুষ গাঁজায় আসক্ত হয়। যারা বিষণ্নতায় ভোগেন, গাঁজা তাদের এ সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। গাঁজা হতে পারে ঔষধিগুণ সম্পন্ন, সেটা সাময়িক এবং পরিমিত ব্যবহারে। কিন্তু নেশা বা মাদক হিসেবে ব্যবহারে তা অনেক ভয়াবহ হয়ে উঠতেই পারে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ

বিষয়: গাঁজা