ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচনে কোথায় কীভাবে খরচ করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৮:৩০ এএম
নির্বাচনে কোথায় কীভাবে খরচ করবেন?

নির্বাচনের অনেক প্রার্থীর মতো আপনিও হয়তো মনে করেন যে দু’হাত ভরে টাকা খরচ করলেই নির্বাচনে বুঝি জয়ী হওয়া যায়। নির্বাচনে টাকা অবশ্যই একটি ফ্যাক্টর। বিগত কয়েকটি নির্বাচন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, নির্বাচনে অর্থ খরচ একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে বটে। কিন্তু বেশি টাকা বাজেট রাখলেই নির্বাচনে জেতা যায় না। বরং অনেক প্রার্থীই অধিক টাকা খরচ করে ভরাডুবির মুখেও পড়েন। এই ভরাডুবিগুলো তখনই হয় যখন খরচের ক্ষেত্রে তাদের কোনো সুচিন্তিত পদ্ধতি এবং পরিকল্পনা থাকে না। আপনারও হতে পারে এমনটা। জয়ের জন্য অবশ্যই প্রার্থী হিসেবে আপনি অর্থ ব্যয় করবেন, সেই ব্যয়ের জন্য আপনার অবশ্যই একটি পরিকল্পনা এবং নিয়মনীতি রাখতে হবে।

নির্বাচনের সার্বিক কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থবরাদ্দ থাকে সব প্রার্থীদের জন্য। বেশিরভাগ প্রার্থীই সেই বরাদ্দের বাইরে খরচ করে ফেলেন। সেই বিবেচনায় নির্বাচনে টাকা কোথায় কীভাবে খরচ করবেন, তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার আপনাকে কিছু বিশেষ পদ্ধতির কথা জানাচ্ছে-

১. সরাসরি প্রার্থীর নিজের হাতে না করে দলের বিশ্বস্ত লোকদের দিয়ে টাকা খরচ করানো উচিৎ। মনে রাখতে হবে, ভোটারদেরকে কখনো টাকা দিয়ে কেনা যায় না। আপনার সঙ্গে যারা অনেকদিন থেকে সততা, বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করছে, যাদের বিরুদ্ধে আপনি ছাড়াও অন্য কারো কোনো অভিযোগ নেই- তাদের হাতে খরচের দায়িত্বটা দিন। আপনি হয়তো ব্যস্ততা বা চিন্তার খাতিরে খরচের বিষয়টি সামলাতে পারবেন না। তাই তাদের ওপরেই ভরসা রাখুন।

২. একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ভোটারদের হাতে সরাসরি টাকা দেওয়া উচিৎ না। তাদের খুশি রাখতে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করুন। ভোটারদের হাতে টাকা দিলে অনেকে ভাবতে পারে আপনি টাকা দিয়ে ভোটারদের কিনতে চাচ্ছেন। তাই এই ভুল করবেন না। নাহলে আপনি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারেন।

৩. প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকেন। যাদেরকে বলে ভোটের পকেট বা ভোটব্যাংক। অনেক সময় অনেক প্রার্থীই ভাবেন, তাদেরকে টাকা দিলেই তারা হয়তো সবগুলো ভোট কিনে ফেলতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা তা নয়। একটা সময়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির কথায় অন্যেরা ভোট দিতো। এলাকার মওলানা, প্রভাশালীদের কথায় এখন ভোটাররা খুব একটা আকৃষ্ট হয় না। এখন মানুষ নিজেরাই সচেতন। তাই কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন উপলক্ষ্যে টাকা দেওয়া অর্থহীন।

৪. টাকাটা খরচ করতে হবে খুব কার্যকর, যুক্তিযুক্তভাবে এবং অবশ্যই কৌশলে। নির্বাচনের সময়ে প্রচারণার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রচারণা পদ্ধতি মেনে চলুন। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতে যদি প্রচারণা খরচ করা হয় তবে সেটি কার্যকর হবে বেশি।

৫. গরীর-দুস্থদের প্রতি আপনার বেশি মনোযোগী হতে হবে। তাদের আবাসন ব্যবস্থা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের জন্য আপনি খরচ করতে পারেন। নির্বাচন হচ্ছে শীতের মৌসুমে। দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র সরবরাহ একটি ভালো উপায় হতে পারে আপনার জন্য।

৬. অনেক প্রার্থী মনে করেন তার আসনের পোলিং এজেন্ট বা প্রচারণায় নিয়োজিত অন্যান্য লোকদের পিছনে অর্থব্যয়ের মাধ্যমে ভোটে জয়লাভ করা সহজ হয়। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই লোকগুলোই উল্টো বেশি করে প্রতারণা করে বসে, আপনার প্রতিপক্ষের কাছে এরা বিক্রি হয়ে যেতে পারে। তাই বিশ্বাস করতে না পারলে এদের পিছনে টাকা খরচ থেকে দূরে থাকুন।

৭. আর কারো হাতে হাতে টাকা দিয়ে জনপ্রিয়তা না বাড়িয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন এবং সেবামূলক কাজে যেমন স্কুল, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামোগত কাজে ব্যয় করুন। এতে আপনার এলাকার উন্নয়ন তো হবেই। সেই সঙ্গে আপনার ভাবমূর্তিও বাড়বে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ