ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কোন কৌশলে হবে নির্বাচনের প্রচারণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৮:৩১ এএম
কোন কৌশলে হবে নির্বাচনের প্রচারণা

একটা সময় নির্বাচনের প্রচারণার মানেই ছিল সারাদিন মিছিল, মিটিং, জনসভা-পথসভা করা। যে যত বেশি প্রচারণার মাঠে সরব থাকতে পারবে তার প্রতি ভোটাররা তত বেশি আকৃষ্ট হবে। আপনিও প্রার্থী হিসেবে হয়তো সেটাই মনে করেন। কিন্তু আপনি তো জানেন, বিশ্ব এখন বদলে গেছে, আমাদের দেশটাও বদলেছে। বাংলাদেশ এখন সত্যিই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এ রূপান্তরিত হয়েছে। এখন মিছিল, মিটিং, পথসভায় আকৃষ্ট হওয়ার চেয়ে মানুষ যেন একটু বিরক্তই হয়। এতে তাদের স্বাভাবিক কর্মজীবন ব্যাহত হতেও পারে। তাই আপনাকে আধুনিকতার হাত ধরে আপনার প্রচারণায় ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতেই হবে। সময়োপযোগী কৌশলগুলোকে মাথায় নিতে হবে।

সেই বিবেচনায় বাংলা ইনসাইডার আপনাকে নির্বাচনের প্রচারণার কিছু ভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জানাচ্ছে:

সামাজিক মাধ্যম 

বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই ফেসবুকের মাধমে তথ্য আদানপ্রদান, নিজের অভিব্যক্তি ও আকাঙ্ক্ষার কথা জানানো, আপনি কি করতে চান সেগুলো জানানো কার্যকর হতে পারে। এতে একটি প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী রাখুন যারা ফেসবুককে পরিচালনা করতে পারে। সেখানে প্রতিনিয়ত আপনার নির্বাচনী প্রচারণার খবর,অঙ্গীকার, ভাবনা, স্বপ্নগুলো আপডেট করতে পারেন। আপনি নিয়মিত ফেসবুক লাইভে এসে সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন। ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। তার যাবতীয় পরিকল্পনাগুলো তিনি ফেসবুকের মাধমে জানাতে পারেন। আন্তর্জাতিক বিশ্বের নির্বাচনগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যাবে, সেখানে নির্বাাচনে সামাজিক মাধ্যমগুলোর ব্যবহার বেশি। ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে টুইটার ব্যবহার করে প্রার্থী নির্বাচনের কাছে চলে গিয়েছিল। তাই সামাজিক মাধ্যমের বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখুন।

গণমাধ্যমকে ব্যবহার

নির্বাচনী প্রচারণায় গণমাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করতে পারেন। অবশ্যই সেখানে আপনার ভালো অর্জন, প্রচারণা, কর্মকাণ্ড প্রচার করবেন। যতো বেশি নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন, সাধারণ মানুষ ততো বেশি আপনার বিষয়ে জানতে পারবে। আর আপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সুবিধা হবে। তাই গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাটা বেশ জরুরি। আপনার প্রচারণাও সহজ হবে।

বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ

এখন দলবেধে মিছিল, মিটিং করার চেয়ে অন্য সামাজিকতায় নিজেকে জডিয়ে ফেলুন। এই ধরুন নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়া, সেখানে মুসুল্লিদের সঙ্গে মন খুলে কথাবার্তা বলতে পারেন। আবার এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজগুলোতে যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলুন, মত বিনিময় করুন, সেখানের সমস্যাগুলো শুনুন। এলাকার বিভিন্ন ক্লাব, কমিটি,সামাজিক ও স্বেচ্ছাজীবী সংগঠনগুলোতে নিয়মিত যাওয়া-আসা করুন। এতে করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগণের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা বাড়বে।

তবে, সবকিছু ছাপিয়ে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, আপনার ওপর ভোটাররা যেন কখনো বিরক্ত না হয়। অতি প্রচারণার কারণে ভোটাররা অনেক সময় বিরক্ত হয়ে আপনার উপর থেকে মুখ ঘুরিয়েও নিতে পারে। ভোটাররা খুশি হয়, সন্তুষ্ট থাকে- সেই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিন। সবসময় প্রচারণায় নতুনত্ব আনতে চেষ্টা করুন। নতুন ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে চাইলে আপনি একটি উদ্ভাবনী টিমওয়ার্ক তৈরি করে নিতে পারেন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ