ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তরুণ প্রার্থীরা কীভাবে ভোটারদের মন জয় করবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০৮:৩০ এএম
তরুণ প্রার্থীরা কীভাবে ভোটারদের মন জয় করবে

আপনি একজন তরুণ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, দেশ পরিচালনার একজন সদস্য হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালন করার স্বপ্ন আপনার চোখেমুখে। সেই সঙ্গে কিছু চিন্তা তো আছেই। আপনি হয়তো ভয় পাচ্ছেন যে আপনার অভিজ্ঞতা বা চেনাজানা কম, আপনাকে ভোটাররা কীভাবে নেবে।

এবারের নির্বাচনে বেশকিছু তরুণ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেই তরুণদের জন্য কিছু সুবিধা, কিছু অসুবিধা অবশ্যই আছে। তবে বিশ্লেষণ করলে তরুণ প্রার্থীদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থাগুলোই বেশি চোখে পড়ে।

আগের দিনগুলোতে যে ব্যক্তি বেশি অভিজ্ঞ অর্থাৎ প্রবীণ ব্যক্তিদের নির্বাচনের মাঠে বেশি কদর ছিল। কিন্তু এখন আমাদের সমাজব্যবস্থা, ধারণা পাল্টে গেছে। বর্তমান দিনগুলোতে নবীন-তরুণ প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের প্রতি আগ্রহ বেশি। কারণ তরুণরা মোটামুটি কর্মঠ, পরিশ্রমী হয়। তাদের যেকোনো সময়ে পাশে পাওয়া যায়, পরামর্শ করা যায়। তারা দৌড়াদৌড়ি করে সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারে। কিন্তু প্রবীণদের ক্ষেত্রে সেগুলো সবসময় হয়না। তাদের হয়তো সবসময় পাশে পাওয়া যায়না, মন খুলে পরামর্শ করতেও অনেকক্ষেত্রে সমস্যা হয়।

তরুণদের নিয়ে আশাবাদী

সবার প্রত্যাশা থাকে যে, তরুণরা অতি উদ্যম নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই তার কাছে যাওয়া যায়, সমস্যার সমাধান চাওয়া যায়। ভোটাররা চায় তাদের এলাকার প্রার্থীকে তারা যেন সার্বক্ষণিক পাশে থাকুক, সমস্যাগুলোর সমাধানে যেন সর্বদা তার কাছে যাওয়া যায়। প্রবীণ প্রার্থীর তুলনায় নবীন ভোটারদের কাছে প্রবেশগম্যতা অনেক সহজ হয় বলে তাদের প্রতি জনগণ আকৃষ্ট হয় বেশি।

ভোটারদের মন জয় করা সহজ

তরুণ প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করে নিতে পারে সহজেই। এই ধরুন আপনি যদি প্রচারণায় যান, আপনাকে সিনিয়র ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। ধরুন আপনি তাদের জড়িয়ে ধরলেন বা পা ছুঁয়ে সালাম করলেন- এই শ্রদ্ধা দেখালে আপনার প্রতি ধারণাটা তাদের ইতিবাচক হবে।

আদর্শ টিমওয়ার্ক

তরুণদের হাত ধরেই একটি আদর্শ টিমওয়ার্ক গড়ে উঠতে পারে সবক্ষেত্রে। নির্বাচনের ক্ষেত্রেও আদর্শ টিমওয়ার্ক খুবই জরুরি। তরুণরা প্রচারণার ক্ষেত্রে নতুন নতুন সব উদ্ভাবনী কৌশল বের করতে পারে। সেগুলো সময়োপযোগী বলে ভোটাররা এমনিতেই আকৃষ্ট হয়ে উঠতে পারে। কীভাবে সত্যিকার অর্থে ভোটারদের কাছাকাছি গিয়ে নিজের প্রচার আর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা যায়, সেটা তরুণরা দলের সবার সঙ্গে মিলে ঠিক করে নিতে পারে। এতে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।

তরুণরা সৃষ্টিশীল হয়

শুধু প্রচারণার ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীল বা উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখালেই হয়না। নির্বাচিত হলে সে যাতে সবার থেকে আলাদাভাবে উন্নয়নের কাজ করতে পারে, সেটাই চাইবে ভোটাররা। তরুণ প্রার্থী সুষ্ঠু দল গঠনের মাধ্যমে ভিন্ন কৌশলে বেশ দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষায় কাজ করতে পারে। সেক্ষেত্রে তরুণ প্রার্থী হিসেবে আপনি আপনার আসনে কিছুটা সুবিধা অবশ্যই পাচ্ছেন।

তরুণদের প্রতি নারী ভোটারদের আলাদা আগ্রহ

আপনি যে আসন থেকে নির্বাচন করছেন, তার নারী ভোটারদের কাছে আপনি আলাদা ফোকাসে থাকবেন। নারীরা স্বভাবতই কিছুটা নতুনত্বের প্রতি আগ্রহী থাকে সবসময়। সেখানে তরুণ নতুন প্রার্থীর প্রতি তাদের আগ্রহ এবং ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ফলে এটি আপনার জন্য একটি বাড়তি সুবিধা তো বটেই।

অর্থাৎ কোনো অঘটন না ঘটলে বা আপনার কোনো সমস্যা না থাকলে তরুণ প্রার্থী হিসেবে আপনি আপনার আসনে অবশ্যই এই সুবিধাগুলো পাবেন। এগুলো আপনার নির্বাচন এবং ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারবে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ