ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ব্যায়াম বেশি জরুরি নাকি ডায়েট?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ১১:৩২ এএম
ব্যায়াম বেশি জরুরি নাকি ডায়েট?

বাড়তি ওজন আর স্থূলতা নিয়ে এখন অধিকাংশ মানুষই চিন্তিত। এই বাড়তি ওজন কমানোর জন্য যারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন, তাদের সবার মধ্যেই একটি দ্বিধা প্রশ্ন জোরেসোরেই কাজ করে- ওজন কীভাবে কমাবো, ব্যায়াম করে নাকি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে? এই সিদ্ধান্তহীনতা থেকে মনে হতে থাকে যে কোনটায় অতিরিক্ত জোর দেওয়া দরকার, ব্যায়াম না কি খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণ?

শরীরের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা বেশ জটিল একটি কাজ। তাই চারপাশ থেকে বিভিন্ন কৌশল আর পরামর্শ আপনাকে শুনতে হবে। কেউ বলবে ব্যায়াম করো, কেউ বলবে অল্প করে খাও। এগুলো আপনি মিলিয়ে-মিশিয়ে ফেললেই বিপদ। এতে করে ঘটবে হিতে বিপরীত। আপনাকে কৌশলী হতে হবে। মূল কথা হলো ব্যায়াম আর খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণ- দুইদিকেই মনোযোগ দিতে হবে আপনাকে।

কেন ব্যায়াম করবেন

বেশিরভাগ গবেষণা এটাই প্রমাণ করে যে একমাত্র ব্যায়ামই আপনার ওজন কমানোর পরিকল্পনার শ্রেষ্ঠ উপায়। কারণ আমাদের রোজকার খাবারের মেন্যুর ওপর আমাদের সবসময় নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু আপনি কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন বা কী ধরনের ব্যায়াম করবেন সেটা তো আপনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। যদি একটু ভেঙে বলি তাহলে বলতে হয় যে আমাদের অলসতা কাটিয়ে ওঠা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু সময়ে অসময়ে হঠাৎ ক্ষুধাটা কাটানো ততটা সহজ নয়।

বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, যারা নিজেদের ওজন কমাতে চান তাদের জন্য পরিকল্পনাটা একটু গোছালো হওয়া উচিৎ। যখন ওজন কমানোর মিশনে নামতে হবে তখন শুরুর দিকে প্রতিদিনের রুটিনের সঙ্গে অন্তত ২০ শতাংশ ব্যায়াম রাখা উচিৎ। খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শরীরের ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু ক্যালোরি পোড়ানোর জন্য আপনার ব্যায়ামের তো বিকল্প নেই।

এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করলে ঘুম ভালো হয়। সেই সঙ্গে পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে, মানসিক চাপের মাত্রা কমে, রক্তে কোলেস্টোরলের মাত্রাও কমে। মোটকথা, ব্যায়ামের চূড়ান্ত ফলাফল হলো শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া। তাই ব্যায়াম কোনো অবস্থাতেই এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়।

কেন খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণ করবেন

আমাদের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই ভোর বা সকালে উঠে ব্যায়াম করার চেয়ে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। এর কারণ প্রতিদিনের রুটিনে পরিবর্তন এনে তাতে মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে কী খাবো না খাবো সেটা নিয়ন্ত্রণ করা নিজের আওতার মধ্যে। তাই ওজন কমানোর জন্য বিভিন্ন রকমের খাদ্যাভাস বা ডায়েট প্ল্যানের অসংখ্য নমুনা রয়েছে। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনলে অনেক সময়ে শরীরের ওজন কমে। তবে এটা মনে রাখবেন যে এই পরিবর্তন সাময়িক। আপনি আবার স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে গেলে ওজন আবারও বাড়তে শুরু করবে। তবে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণকে একেবারেই গুরুত্বহীনও মনে করা যাবে না। ব্যায়ামের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

কী দিয়ে শুরু করবেন?

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপনার ওজন কমানোর পরিকল্পনায় ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ দুটোই থাকা উচিৎ। এদের একে অন্যের পরিপূরক বলাই শ্রেয়। ওজন কমানো আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের একটি অংশ। তাই এর একটি টেকসই পরিবর্তন প্রয়োজন। তাই এই মিশন কার্যকরভাবে শুরু করা উচিত। স্থায়ীভাবে ওজন কমানো খুবই ক্লান্তিকর কাজ। এটা সময়সাপেক্ষও বটে। তবে সঠিক পন্থা মেনে চললে শরীরে পরিবর্তন আসবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন উন্নতিও ঘটবে।

তাই যাই করুন না কেন, আগে একটি স্থির পরিকল্পনা করে নিন। কোনোটাকে কমবেশি গুরুত্ব না দিয়ে সমান গুরুত্ব দিতে চেষ্টা করুন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর