ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অস্বাভাবিক সম্পর্ক কি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০৩:০০ পিএম
অস্বাভাবিক সম্পর্ক কি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব?

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই লেকচারার হয়ে জয়েন করলো মনামি। সবকিছুই চলছিল ঠিকঠাক। যেখানে পড়াশুনা, সেখানেই শিক্ষকতা বেশ উপভোগ্য তো অবশ্যই। যারা একসময়ের শিক্ষক, তাদের অনেকেই এখন সহকর্মী। প্রথমে একটু দ্বিধা হলেও সহায়তা করেছে সবাই। দিন গড়াতে লাগলো, সিনিয়র এক সহকর্মী আর প্রাক্তন শিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্কের মাপকাঠি ছাড়িয়ে যেতে লাগলো। পুরুষ সহকর্মীটি ডিভোর্সি, সন্তান রয়েছে, বয়সেও অনেক বড়। তাদের এই সম্পর্ক নিয়ে তাদের পুরো বিভাগেই চলছে কানাঘুষো। কেউই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে না। কারণ আমাদের দৃষ্টিতে সম্পর্কটি অবশ্যই অস্বাভাবিক।

অস্বাভাবিক সম্পর্ক বলতে যেটি বেশি বোঝায় সেটা হলো বয়সের ব্যবধান বেশি হওয়া। আমাদের কাছে বয়সের ব্যবধান মানে হলো ছেলেটি মেয়েটির থেকে অবশ্যই বড় হবে, সেটা ৫-১০ বছর হলেই বেশি ভালো। কিন্তু সেই সীমা যদি ২৫-৩০ বছর পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায় সেটা তো অস্বাভাবিক মনে হবেই। সমাজে প্রায়ই দেখা যায়, একটি উঠতি বয়সী মেয়ে তার বাবার চেয়ে বেশি বয়সের ব্যক্তির প্রেমে পড়ছে। আবার কখনো এর উল্টোটাও ঘটে। এখন দেখা যায় বয়সে বড় মেয়েদের সঙ্গেও সম্পর্ক, বিয়েতে জড়িয়ে পড়ে ছেলেরা। আবার অন্যধর্মে প্রেম, সামাজিক অবস্থান উতরে প্রেম, পরিবারের মধ্যে অসম্ভব সম্পর্কের কারো সঙ্গে প্রেমের ঘটনা অহরহ ঘটছে। বিশেষ করে সেলিব্রিটি পর্যায়ে এই বিষয়টি বেশ কমন।

সম্পর্ক আর বিয়েশাদির রীতিনীতির ট্রেন্ড যুগে যুগে বদলাচ্ছে। সঙ্গে সম্পর্কের গতিপথও বদলায়। কিন্তু সম্পর্কের সূত্র বয়স, ধর্ম, জাত, শ্রেণীর ফ্রেমে বেঁধে দেওয়া সম্ভব না। বিভিন্ন ব্যবধানকে তুড়ি মেরে তুচ্ছ করে এমন সব সম্পর্ক হয়, যাকে আমরা একবাক্যে অস্বাভাবিক সম্পর্ক বলতেই পারি।

এই অস্বাভাবিক সম্পর্কের প্রবণতাকে আমরা আধুনিক সমাজে ‘কালচার’ ধরে নিতেই পারি। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এই কালচার হরহামেশাই চলে। তাদের কাছে এগুলো কোনো ব্যাপারই না। কিন্তু আমাদের মতো মোটামুটি রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় নিজের গণ্ডি আর যোগ্যতা থেকে বেরিয়ে সম্পর্কে জড়ানোটাকে ভালোদৃষ্টিতে দেখা হয়না। মেনে নেওয়া তো দূরের কথা।

কিছু ভালো দিকও কিন্তু রয়েছে

সম্পর্ক যে সবকিছু দেখেশুনে বা বুঝে তা তো নয়। এই অস্বাভাবিক সম্পর্কগুলো কখনোবা ভিন্ন ম্যাচিউরিটির লেভেলে চলে যেতে পারে। বয়স, ধর্ম আর মানসিকতাকে উপেক্ষা করে যে পরিণতিগুলো হচ্ছে তা অনেক পরিপূর্ণ হয়। এতে সম্পর্কের রসায়ন গাঢ় হয়।

প্রেমটা তো হচ্ছে মন আর মানুষের সঙ্গে। এর সঙ্গে অন্য অনুসঙ্গ খুব একটা কাজ করছে না। একটা মানুষের চিন্তার সঙ্গে মিল পড়লেই বিয়ে বা সম্পর্ক হয়। তাই মানুষকে বিচার করার একটা আলাদা সুযোগ তৈরি হয়। এতে সুখ আসে।

মানুষ এই সম্পর্কগুলোর খাতিরে আরও অনেক বাস্তববাদী হয়। সঙ্গীর সঙ্গে বিভিন্ন অসামঞ্জস্য, ফারাকগুলো মানিয়ে নিতে গিয়ে মন পরিণত হতে পারে। জীবনে চলার পথে এই ম্যাচিউরিটির দরকার।

সঙ্গী অন্য ধরনের হলে তাতে ছাড় দেওয়া, বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে। এতে সঙ্গীর শরীর এবং মনকে বোঝার ক্ষমতা বাড়বে। এই বোঝাপড়া সম্পর্ক মজবুত করবে। সন্তুষ্টিও আসবে।

এই ধরনের সম্পর্কগুলোতে শুধু আবেগ, ভালোবাসাই থাকে না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো, নিজেদের মূল্য, ভালোলাগার শেয়ারিংটাও বাড়ে। ফলে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। কোনো ঘাটতি থাকে না।

কিছু সমস্যা অবশ্যই থাকে

সঙ্গীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ফারাক থাকলে যোগ্যতার কমবেশিতে ঝামেলা তৈরি হতে পারে। যে এগিয়ে থাকে সে সবসময় কর্তৃত্বের মুডে থাকে। অপরপক্ষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। এতে করে সহিংসতা, সমস্যা বাড়তে শুরু করে।

এর ফলে একে অন্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে থাকে। যে বয়স বা যোগ্যতায় এগিয়ে থাকবে, সে মনে করবে তার কথা সঙ্গী অবশ্যই মেনে চলবে। তার কোনো স্বাধীনতা থাকবে না। একটা বেড়াজাল, ইগো সম্পর্কটাকে ঢেকে দিতে পারে।

দুইপক্ষেরই মনের মধ্যে সবসময় খুঁতখুঁত করতে থাকবে যে এটা কি আসলেই প্রেম না মোহ চলছে। মনে হবে এটা একটা ফ্যান্টাসি। এই সম্পর্ক কতক্ষণ টেকসই হবে সেটা নিয়ে দ্বিধা কাজ করে। আকর্ষণটা থাকবে না চলে যাবে, এ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই যায়। ভবিষ্যতের দিকে এগোতে ভয় করে।

এই সম্পর্কগুলোতে বোঝাপড়ায় বিস্তর ব্যবধান চলে আসতে পারে। ফলে জন্ম নেয় দূরত্ব। দুজনের ভালোলাগা, মন্দলাগাগুলো মেলে না। ফলে সম্পর্ক ভাঙনের দিকে এগোয়। কখনো আবেগের অনুপস্থিতি চলে আসে। মিলেমিশে চলতে সমস্যা হয় অনেক ক্ষেত্রেই।

কীভাবে লাগাম টেনে ধরা সম্ভব

সবার আগে একটা কথা মনে রাখতে হবে, প্রেমে পড়তে তো কোনো কারণ লাগে না। কার সঙ্গে কখন কীভাবে সম্পর্ক তৈরি হবে, সেটা আপনি আমি কেউই বলতে পারি না। সমাজে বাস করা আর বেঁচে থাকার জন্য আমাদের সম্পর্কগুলো স্বাস্থ্যকর হওয়া দরকার। এজন্য এই ধরনের সম্পর্কগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হয়তো বাঞ্ছনীয়।

আজকের দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পর্কগুলো গড়ে তোলা খুব খোলামেলা হয়ে গেছে এখন। এখানে সম্পর্ক হওয়ার কোনো মাপকাঠি থাকছে না। তাই সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সাবধান হতে হবে।

মনে রাখতে হবে আপনি পরিবার আর সমাজের একটি অংশ। এই সমাজ আর পরিবারকে উপেক্ষা করা মানে বিরুদ্ধাচারণের মতো কাজ করা। তাই হয়ত এমন সম্পর্কগুলোকে ‘স্কিপ’ করে যাওয়া ছাড়া মনের বিরুদ্ধে যাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় পথটি নেই। তবে ভালোবাসার জন্য সবকিছু মেনে নিয়ে চলার মানসিকতা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর