ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নিরামিষ জীবনের খাবার-দাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০৩:১৫ পিএম
নিরামিষ জীবনের খাবার-দাবার

বরাবরই ভোজনবিলাসী ছিলেন আইয়ূব সাহেব। কোনো দাওয়াত, পার্টি বা নিজের বাসাতেই কবজি ডুবিয়ে খেতে তিনি খুবই পছন্দ করতেন। বিশেষ করে মাছ, মাংসের বিভিন্ন পদ- অর্থাৎ আমিষে তার ঝোঁক ছিল প্রচুর। কিন্তু শরীরে বেঁধে বসলো রোগবালাই। লাগাম টেনে ধরতে হলো অবাধ খাওয়াদাওয়ার। চিকিৎসক আর আশেপাশের সবার পরামর্শ ছিল স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসে। এজন্য আমিষ ছেড়ে বেছে নিতে হলো নিরামিষ জীবন।

অনেক রোগবালাই থেকে দূরে থেকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য এখন নিরামিষ খাবার আমাদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চিকিৎসকেরাও এই পরামর্শটি দিয়ে থাকেন।

কেন খাবেন নিরামিষ খাবার

আমাদের উপমহাদেশে সবজি বা নিরামিষ খাওয়ার প্রচলন আদিকাল থেকেই। কারণ নিরামিষ শরীরে কোলেস্টেরল কমায়। এতে স্যাচুরেটেড চর্বি কম থাকে। ফলে করোনারি হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। বেশি আমিষ গ্রহণে শরীর ভারি আর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বিভিন্ন ফল আর সবজি থেকে প্রাকৃতিক শর্করা পাওয়া যায় ‌যা শরীরে বলবৃদ্ধি করে। কাজের গতিও বেড়ে যায়।

এছাড়া ফল আর সবজি শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ত্বক কোমল রাখে। মাংসে তেল আর চর্বি থাকায় ত্বককেও তৈলাক্ত করে তোলে। হাই ক্যালোরি ডায়েট কোলেস্টেরল বাড়ায়। এ থেকে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। নিরামিষ ডায়েটে ভিটামিন ও খনিজ বেশি থাকায় শরীর ও মন সুস্থ থাকে।

কী কী খাবেন আমিষের পরিবর্তে

আমিষের অভাব পূরণ করতে আপনাকে প্রচুর সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল খেতে হবে। এজন্য প্রতিদিন খাবার তালিকায় কোনো শাক বা সবজির আইটেম রাখুন। আর সকালে আর রাতে ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন। এছাড়া শুকনো ফলও আমিষের বিকল্প চাহিদা পূরণ করতে পারে। কাঠবাদাম, পেস্তা, কিশমিশ, ওয়ালনাট, বাদামে বেশ আমিষ থাকে যা খেলে আপনাকে মাছ মাংস খেতে হবে না। প্রতিদিন একমুঠ বাদাম বা বীজ জাতীয় শস্য খেলে প্রতিদিনের জন্য শরীরের প্রয়োজনীয় আঁশ, ভিটামিন, আমিষ এবং আয়রনের চাহিদা পূরণ হবে। ভিটামিন, খনিজ ও এন্টিঅক্সিডেন্টে ভরপূর থাকে ফল ও সবজি। নিরামিষভোজীদের জন্য এগুলো সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ।

মাছ মাংস শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলে তা আপনি সেগুলো এড়িয়ে চলেন ঠিক আছে। তাই বলে আমিষ থেকে একেবারে দূরে থাকবেন, তা তো হয়না। কিছুটা ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার আপনি খেতেই পারেন। তবে সেটিও নির্দিষ্ট পরিমাণে, সম্ভব হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে। এতে আমিষের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণ হবে।

যারা দুধ বা ডিম কিছুই খাবে না, তাঁদের খাবারে দৈনিক পাঁচমিশালি ডাল, টফু, সয়া প্রোটিন, মাশরুম অবশ্যই রাখবেন। সেই সঙ্গে দইও বেশ ভালো খাবার হতে পারে। ছানা, পনির, লাচ্ছি ইত্যাদি হিসাব করে খান, শরীর চাঙা থাকবে।

নিরামিষ খাবার অনেক ধরনের স্বাস্থ্য উপাদানে ভরপুর। নিজের পছন্দের খাবার দিয়েই রোজকার প্লেট তৈরি করুন। দিনের সময় বুঝে ওটমিল ও বাদামী চালের ভাত রাখুন। সঙ্গে রাখুন ফল ও কাঁচা, সিদ্ধ বা রোস্ট করা সবজি। সকালের নাস্তা, দুপুরের ও রাতের খাবারে রাখুন পুষ্টিমানসমৃদ্ধ ও এন্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত শিমের বিচি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত বীজ।

নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মটরশুঁটি, শিমের দানা, ডাল ইত্যাদি। এগুলো বিকল্প আমিষের একটি ভালো উৎস। পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় আঁশ, ভিটামিন ও খনিজও থাকে এগুলোতে।

আমাদের শরীরের কার্বোহাইড্রেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস শষ্যজাতীয় খাবার। দস্তা, কর্পূর, লৌহ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় খনিজের অভাবও মেটায় এই খাবারগুলো। এজন্য আপনি যব, গমের তৈরি রুটি, পাস্তা, বাদামি চাল ইত্যাদি খেতে পারেন।

হঠাৎ করে আমিষ থেকে নিরামিষ খাবারে অভ্যস্ত হতে সমস্যা হবেই। আমিষ যদি পুরোপুরি বাদ দিতে হয় তো আগে সময় নিন। প্রতি সপ্তাহে একটি-দুটি করে উপাদান বাদ দিন। এতে শরীরও অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। আর প্রতিদিন একই সময়ে নিয়মিত খাবার খান।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর