ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

চেহারা নিয়ে মন খারাপ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০৩:২৫ পিএম
চেহারা নিয়ে মন খারাপ?

যতোবার আয়নার সামনে যায়, শৈলী মুখ ভেচকি দিয়ে সরে আসে। চোখটা তো আরেকটু বড় হতে পারতো, নাকটা কি একটু বোঁচা, মুখের পাশে টোল পড়ে না কেন, গায়ের রংটা এমন চাপা দেখায় কেন- এমন কতো খুঁতখুঁতানি যে মনে হয় তার। এই তো কিছুদিন আগেই তার এক বন্ধু তাকে বলে বসলো, কিরে তোর চোখটা দিন দিন আরও ছোট হচ্ছে মনে হয়! সেই থেকে আরও মন খারাপ হচ্ছে। কেন এমন দেখতে সে? আরেকটু ঝলমলে হলে কী এমন হতো?

এটা শুধু শৈলীরই হয় না, এমন অনেকেই আছে যারা তাদের চেহারা নিয়ে অসম্ভব হীনমন্যতায় ভোগে। সৃষ্টিকর্তা যা দিয়েছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা আর নিজেকে অন্যভাবে বিকশিত করা যায়, এটা তারা বোঝে না। তারা এটাও জানেনা যে, ‘আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তুমি যা দেখতে পাও, সেটার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু রয়েছে, যেগুলো আয়নায় দেখা যায় না।’

এই চেহারা নিয়ে মন খারাপ দূর করতে চাইলে আপনাকে কিছু পরামর্শ দিচ্ছি আমরা-

অন্যের সঙ্গে তুলনা কেন?

এটা নিতান্তই একটা বদঅভ্যাস। আশেপাশে সুন্দর, অসুন্দর কতো মানুষকেই তো আমরা দেখি। আপনি কেন তাদের দেখে মন খারাপ করবেন? আপনি কখনোই অন্যের মতো হবেন না, সবাই আলাদা। আপনি যা, সেই হিসেবেই নিজেকে গ্রহণ করুন। অন্য কারো সঙ্গে ভুলেও নিজের তুলনা করবেন না। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে আপনার মত করে নিজ হাতে তৈরি করেছেন। মনে করবেন আপনি এমনই। অন্য কারো মতো না আপনি। অন্যের মতো হতে গিয়ে নিজের সৌন্দর্যকে নষ্ট করবেন না কখনো।

আশেপাশের মানুষ আপনাকে কখনো অন্যের সঙ্গে তুলনা করে কথা বললে আপনার খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু এটাও ভাববেন যে মানুষটি শুধু আপনার বাইরের সৌন্দর্যের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাকে কথা শোনাচ্ছে, তার মনটা কত কুৎসিত। তাই এসব ভুলে নিজের মানসিক সৌন্দর্যের দিকে মন দিন।

আত্মবিশ্বাসী হন

সবচেয়ে বড় কথা নিজেকে ভালোবাসা। এতে করে নিজের মন পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করা যায়। অন্যের কথায় কান দিয়ে, নিজেকে তুলনা করতে গিয়ে ছোট হবেন না। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। মন থেকে চেহারা খারাপ ভেবে হীনমন্যতা আনবেন না। এসব ঝেড়ে নতুন করে সবকিছু ভাবুন। আত্মবিশ্বাসী হয়ে হাসিমুখে চলুন। হীনমন্যতা আপনাকে কোনো কাজে সফলতা দেবে না। যে আপনাকে পছন্দ করবে সে সবকিছুকেই পছন্দ করবে- এটা মাথায় রাখুন।

সৃজনশীল কাজ করুন

চেহারা নিয়ে খুব মন খারাপ হয়, বন্ধুরা সুন্দর, ফর্সা, আপনার থেকে লম্বা, কতো স্মার্ট- এগুলো নিয়ে আপনার তো কারো সঙ্গে মিশতেই ভালো লাগেনা। এগুলো আপাতত বাদ দিন। গঠনমূলক কাজ করুন। আপনি যেসব কাজে দক্ষ সেগুলো করুন। গান, নাচ, ছবি আঁকা, কিছু লেখালেখি করে ফেলুন। এগুলোতে আপনি সফল হলে সেটাই আপনার পরিচয়। চেহারা দিয়ে মানুষকে মনে রাখেনা কেউ, মনে রাখে তার কাজ আর প্রতিভা দিয়ে। সুন্দরের পিছনে লুকিয়ে থাকা খারাপ মনের চেয়ে সাধারণের মধ্যে থেকে অসাধারণ হওয়ার চেষ্টা করুন। তাই চেহারা নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগে সৃজনশীলতাকে নষ্ট করবেন না।

স্মার্টনেস আনুন

আপনি যেখানেই যান, যাই করুন না কেন আপনাকে অবশ্যই স্মার্ট হতে হবে। চেহারা খারাপ হলে হোক, ভালো হলেও হোক। আপনার পোশাক-আশাক, চালচলন, কথাবার্তায় আপনাকে তুখোড় হতে চেষ্টা করবেন। শালীন হবেন, সুন্দর একটা হাসি, আপনার সুন্দর কথাগুলোই আপনাকে সুন্দর করে তুলবে।

নিজেকে সময় দিতে হবে

নিজেকে বোঝার জন্য সময় দিন। নিজেকে সফলতা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনি নিজে যেমন সমাজে ঠিক তেমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করুন। প্রথমে নিজেকে সম্মান করতে শিখুন। নিজের ব্যক্তিত্বকে ভালবাসুন। কারো প্রশংসা সঞ্চয়ের চেষ্টা করবেন না। আপনি আপনার মতো করে বেড়ে উঠুন। কারো কথা ভেবে সময় নষ্ট না করে নিজেকে সময় দিন।

ব্যস্ত থাকুন

নিজেকে একটি ছক বা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসুন। জীবনে ব্যস্ততা বাড়ান। অলস বসে থাকলেই হাবিজাবি তো মাথার মধ্যে ঘুরবেই। নিজেকে দেখতে খারাপ লাগছে, কেউ চেহারা নিয়ে কটূক্তি করছে, সেটা নিয়ে এতো না ভেবে আপনি কীভাবে কাজ নিয়ে পড়ে থাকতে পারবেন সেই চেষ্টা করুন। চেহারা নিয়ে অন্যের কটূক্তিকে হেসে উড়িয়ে দিয়ে দেখুন, কোনো অশান্তি থাকবে না চেহারা নিয়ে।

আয়নায় বার বার মুখ দেখা বন্ধ করুন

চেহারা ভালো বা খারাপ যাই হোক না কেন- আমাদের অভ্যাস বার বার আয়নায় মুখ দেখা আর চেহারার হাজারো খুত বের করার। এটা ঠিক নয়। প্রয়োজন ছাড়া আয়না দেখার কি দরকার। মনে যদি বেশি হীনমন্যতা কাজ করে, তাহলে কিছুদিন আয়না দেখা কমিয়ে দিন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ