ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

শীত যায় না কেন?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০৮:০০ এএম
শীত যায় না কেন?

সকালে ঘর থেকে বেরিয়েই দেখলেন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, হীমশীতল বাতাস বইছে। এদিকে রোদের দেখাও পেলেন না। অথচ কয়দিন আগেও সকালটা পার হলে কেমন উষ্ণ আবহাওয়া দেখা যাচ্ছিলো। এটা আমাদের বর্তমান আবহাওয়ার অবস্থা। শীতকে বিদায় ‍দিয়ে আমরা যেখানে বসন্তবরণে ব্যস্ত, সেখানে হঠাৎ এই শীতের প্রভাব কেমন অবাক করে দিচ্ছে আমাদের। শীতের কাপড় পরবো না সঙ্গে নিয়ে বের হবো তা নিয়েও আমরা দ্বিধাগ্রস্ত। শীতের শেষপ্রান্তে কেন এমন আবহাওয়া?

শীতের যাই-আসি ভাব যেন যাচ্ছেই না। শীত ঋতু চলে যাচ্ছে, আর মাত্র দুইদিন বাদেই আসছে বসন্ত। এরই মধ্যে প্রকৃতিতে চলছে শীতের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, শৈত্যপ্রবাহ, মেঘলা পরিবেশ। সারাদেশেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিসহ মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করছে। এতে আবারও জেঁকে বসেছে শীত। মাঘের শেষে আবহাওয়ার এমন বিপর্যয়ে বিপাকে পড়ে গেছেন সাধারণ মানুষ। মাঘের শেষপ্রান্তে এসে ঝড়োবৃষ্টি আর বজ্রপাতসহ শৈত্যপ্রবাহের আভাস এই সময়ে কেন যেন বেমাননই আমাদের কাছে।

আবার অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টির ফলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় করছেন কৃষক। সারাদেশেই মেঘলা আবহাওয়া ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কয়দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাসও এসেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থে শীতকে আমরা আরও কিছুদিন পাচ্ছি। অথচ শীতকে বিদায় দেবো আর মাত্র দুদিন বাদেই। এরপরই আসবে ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্ত।

কিন্তু শীত না যেতেই ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। যদিও গত তিনদিন ধরে দেশ থেকে শৈত্যপ্রবাহ দূর হয়ে গেছে। তারপরেও কেন এই শীত, সেই প্রশ্ন তো আমাদের মনে আসা খুবই স্বাভাবিক। তাপমাত্রা বাড়তে থাকলেও মেঘ ও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, কিছুদিনের মধ্যেই তাপমাত্রা বেড়ে শীতের পুরোপুরি বিদায় হবে।

এদিকে পুরো মাঘে তেমন কোনো তীব্র শীতের আনাগোনা চোখে পড়েনি। যে মাঘের শীতে নাকি বাঘ পালায়, সেই শীত এবার আমরা নগরবাসী তেমন উপভোগ করিনি। 

কেন হচ্ছে এমন?

মেঘ আর বাতাসের মধ্যে মাঝেমাঝেই উঁকি দিচ্ছে সূর্য- এই আবহাওয়া খুব একটা খারাপ না লাগলেও প্রশ্ন আসছে হুট করেই আবহাওয়ার এতটা পরিবর্তন কেন? পরিবর্তন লক্ষ্য করার জন্য বেশিদিন আগে দৃষ্টি না দিয়ে গেলো বছরের দিকে তাকালেই হবে। এই সময়টায় সাধারণত তাপমাত্রা বেশ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ফাগুন আসতে আসতে রোদের তেজ বাড়তে থাকে। না শীত না খুব গরম- অর্থাৎ নাতিষীতোষ্ণ ভাব বিরাজ করে। গরম কাপড় পরবো কি পরবো না, বাইরে কেমন ঠাণ্ডা, সন্ধ্যে নামতে বেশি ঠাণ্ডা লাগে কিনা- এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা এই সময়টাতে খুব একটা থাকতো না।

প্রকৃতি এমন আচরণ করছে কেন, আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে কেন, বৈশাখে আষাঢ়ের আচরণ, যথাসময়ে শীত না আসা, গরমে শীত-শীতভাব, বর্ষায় বৃষ্টি কম- এগুলো আবহাওয়া আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বাংলাদেশের পরিবেশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দিন দিন যেভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে তাতে এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এটা শঙ্কাজনক।

ভৌগোলিক কারণ আর পরিবেশ দূষণের ফলে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তিত রূপ দেখা দিচ্ছে। আমরা হয়তো আবহাওয়াকে খামোখাই দুষছি। কিন্তু এই আবহাওয়াকে তো বিগড়ে দিচ্ছি আমরা মানুষরাই। আমাদের এখন মানুষ বাড়ছে, মানুষেরা অনেক বেশি আধুনিক হচ্ছে। বাড়ছে শিল্পায়ন আর নগরায়ন। ফলে অবকাঠামোগত উন্নতির ফলে চারিদিকে এখন শুধুই পরিবেশ দূষণ। ইটভাটার আর পরিবহনের বিষাক্ত কালো ধোয়া, গাছপালা ইচ্ছেমত কেটে আবাস নির্মাণ, সেই নির্মাণে পরিবেশকে অত্যাচার। পরিবেশ কীভাবে সুস্থ থাকে, আমরা কীভাবে সুস্থ থাকি?

আমরা মুখে অনেক প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আর প্রতিহত করার উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে সেটা করতে পারছি না। ফলে কিছুতেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করা যাচ্ছে না। আমাদের জীবনধারাকে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে আগে তো পরিবেশটাকে সামলাতে হবে। তাহলেই না আবহাওয়ার এমন বদল ঠেকানো সম্ভব হবে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ