ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভালোবাসতে কি বয়স লাগে?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৪:১২ পিএম
ভালোবাসতে কি বয়স লাগে?

মহুয়া (ছদ্মনাম) অফিসে জয়েন করেছে কমপক্ষে দু’বছর তো হবেই। কাজের পরিবেশ চমৎকার, বস আর সহকর্মীরাও দারুণ। অফিসে মোটামুটি সবাই সিনিয়র হলেও কাজ করতে গিয়ে তেমন বিড়ম্বনা পোহাতে হয়নি তাকে। হেসেখেলেই কাজ শেখা, কাজ করে নিতে পেরেছে। এই সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এক পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে কখন যে অন্যরকম সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে, বুঝতেই পারেনি। বয়সে মহুয়ার চেয়ে কমপক্ষে ২৫ বছরের বড় তো হবেই। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ডিভোর্সি এই সিনিয়র সহকর্মীর সঙ্গে কীভাবে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লো সে, বুঝতে পারে না।

এবার আসি রিপনের (ছদ্মনাম) কথায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই এক অদ্ভূত ভালোলাগা তৈরি হয় এক শিক্ষিকার প্রতি। বয়সে বড় বিবাহিত এক নারীর প্রেমে পড়ার কোনো মানে সে কখনোই খুঁজে পায়নি। কিন্তু ভালোবেসেছে ঠিকই। প্রেমে পড়েছে, অপেক্ষা করেছে কখন দেখা হবে।

আবার যৌবনের পড়ন্তবেলায় এসে চুটিয়ে প্রেম করছেন রশিদ আর শম্পা (ছদ্মনাম)। একজনের সংসার রয়েছে, একজন চিরকুমার। অফিস শেষে নিয়মিত দেখা করা, খোঁজখবর রাখা, সময় কাটানো- কোনোকিছুই বাদ যায়নি।

এমন ঘটনা শেষ হওয়ার নয়। আমরা জানি ভালোবাসা, প্রেমের কোনো বয়স নেই। না মানলেও এটা সত্যি। জেনেশুনে অসম্ভব বয়সীদের সঙ্গে স্বচ্ছ প্রেমের সম্পর্কের উদাহরণ তো আমাদের আশোপাশে আছে। আমরা শুধু এগুলো দেখে অভ্যস্ত নই, মেনে নিতেও পারিনা সমাজ মেনে নিতে চায় না বলে।

অসম্ভব বয়সের প্রেম, সম্পর্কগুলো কেমন হয়, পরিণতি আদৌ আছে কি নেই- সেটা নিয়ে তো আমাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রচুর। কিন্তু একেবারে বাল্যকালে বা বার্ধক্যে এসে নবযৌবনার মতো ধরা দেয়। সেগুলোর গভীরতা, আকাঙ্ক্ষা, হারানোর ভয় সবকিছুই থাকে। অপরপক্ষ সম্মত থাক বা না থাক- এই প্রেম কিন্তু মনের ভেতরে ঠিকই আন্দোলন তুলতে পারে।

অনেকের মতে এই উদ্ভট বয়সে প্রেমে পড়া উচিৎ নয়, কখনওবা অপরাধও। কিন্তু কারো মনের নিয়ন্ত্রণ তো আরেকজনের হাতে নেই। এমনকি নিজের মনের ওপরই নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না মানুষের। আর কে কী বললো, সেটা ভেবে তো অন্তত প্রেম সম্ভব না। তবে আমাদের সমাজে তবে অল্প বয়সের প্রেমটাকে মানুষের জীবনের ভুল হিসেবে ধরা হয়। না বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া, অন্যায় বলে তাকে হেয় করা হয়। আবার শেষ বয়সে যদি কেউ প্রেমে পড়েন তবে তাকে ভীমরতি বলা হয়। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি। একমাত্র মাঝ বয়সের প্রেমটাকে উপযুক্ত মনে করা হয়।

অনেকেরই প্রশ্ন, মনের দরজা খোলা বা বন্ধের কোনো সময় আছে নাকি? তাদের বক্তব্য ভালবাসার কোনো বয়স নেই, সেটা যখন তখন হতে পারে। আমরা আশেপাশে এমন উদ্ভট বয়সের প্রেম অনেক পাবো। বিশেষ করে খ্যাতনামা সব ব্যক্তিদের মধ্যে। আমাদের দেশে কিংবদন্তী লেখক হুমায়ূন আহমেদ আর শাওনের প্রেম আর পরিণতির কথা আমরা সবাই জানি। তাদের এই সম্পর্কটা নিয়ে কথা, সমালোচনা তো হয়েছে প্রচুর। কিন্তু ভালোবাসা তো দমে থাকেনি। হুমায়ূন আহমেদের অনেক গল্প, উপন্যাস, নাটকেও উদ্ভট বয়সে প্রেমের নানা কাহিনী পাওয়া গেছে।

আবার বিশ্বের নামজাদা লোকগুলোর মধ্যেও এমন উদাহরণ রয়েছে। অন্যতম রাষ্ট্রনেতা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখো তার চেয়ে ২৫ বছর বড় বয়সী শিক্ষিকাকে নির্দ্বিধায় বিয়ে করে নিয়েছেন।

যার প্রেমে পড়ছেন কার বয়স বা আপনার বয়স কতো, সেটার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেমের ব্যাপ্তি কেমন। আপনার মন কী চাইছে, মানুষটির সঙ্গ ভালো লাগছে কিনা। বেশি বয়সে প্রেমে পড়ার একটি বড় কারণ নিঃসঙ্গতা। এই সময়ে কারো সঙ্গ পেতে মন চাইবেই, স্বাভাবিক। তখন প্রেমটা হয়েই যায়। অপরিণত বা পরিণত বয়সের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রেমগুলোতে হয়তো পরিণতির সম্ভাবনা কম থাকে, কিন্তু মনের টান ঠিকই থাকে। ভালোবাসা অন্ধ। এটি কোনো নিয়ম মেনেও চলে না। ভালোবাসা সঙ্গীর বয়স মেনে হয় না, নিজের বয়সও মুখ্য মনে হয় না। এটি অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত। কেউ ৬০ বছর পেরিয়েও উদ্যম নিয়ে প্রেম করতে পারেন। তাদের ভেতরে কেমিস্ট্রি অনেকের তুলনায় চমৎকার হতে পারে। এখানে প্রশ্ন আসতেই পারে- ভালোবাসায় বয়স কি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, নাকি নেহায়েৎই সেটা একটা সংখ্যা মাত্র?

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর