ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এই আবহাওয়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগবালাই থেকে বাঁচতে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০৮:৫৭ পিএম
এই আবহাওয়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগবালাই থেকে বাঁচতে

বেশ আরামে ঘুমাচ্ছিলেন, সকালের দিকে টের পেলেন বেশ শীত শীত করছে। গায়ে হালকা কম্বলটাতে কাজ হচ্ছে না। কারণ বাইরে ঝুম বৃষ্টি। শীত শেষ হয়েছে, চলে এসেছে বসন্ত। তাও শীতের আমেজ এখনো প্রকৃতি থেকে চলে যায়নি। রাতে আর সকালের মৃদুমন্দ বাতাস এখনো শীতের প্রভাব জানান দিচ্ছে। বসন্তে এমন শীতের প্রকোপে আমরা মোটামুটি অবাক। শীতের কাপড় পরবো কি পরবো না, কখন গরম লাগছে কখন ঠাণ্ডা লাগছে আমরা এমনিতেই দ্বিধায় পড়ি, তার মধ্যে আবার বৃষ্টি। ঠাণ্ডা তো লাগছেই, রোগবালাই জেঁকে বসার ভয়ও রয়েছে।

ঠাণ্ডা আর গরম মেশানো আবহাওয়াতেই ঠাণ্ডা লাগার ভয় বেশি থাকে। সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট- কি না হয় এসময়ে। সাবধান হওয়ার পরেও ঠাণ্ডাকে রোখা যাচ্ছে না। প্রকৃতি তো আপনার হাতে নেই, আপনি আপনার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সাবধান হতে পারেন।

ঠাণ্ডায় হঠাৎ বৃষ্টি বাদলে

ঠাণ্ডার মধ্যে বৃষ্টি হলে আপনাকে বেশি সতর্ক হতে হবে। কখনোই বৃষ্টিতে ভিজবেন না, বিশেষ করে যদি ঠাণ্ডার সমস্যা থাকে। সম্ভব হলে সঙ্গে ছাতা রাখুন। ক্লাস বা কলেজে বের হতে গিয়ে ভিজে গেলে খুব দ্রুত কাপড় শুকিয়ে ফেলবেন, মাথা মুছে নেবেন। তবে ফ্যান বা এসির নিচে বসবেন না।

এই ঋতু পরিবর্তনের সময়ে বেশি বেশি ঠাণ্ডা লাগছে, ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি? তাহলে সাবধান হন এখনই-

১. চিকিৎসকের পরামর্শমতো ভিটামিন গ্রহণ করুন। জিঙ্ক ও ভিটামিন ‘সি’দুটোই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলতে বেশ কার্যকর। বিশেষ করে গোটা খাদ্যশষ্য ও দুধে জিঙ্ক বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া কমলা, স্ট্রবেরি ও  আনারসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। 

২. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে আপনাকে। এই মৌসুমে যেহেতু আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেবেন। যখনই পারেন একটু ঘুমিয়ে নিন। রাতে বেশিক্ষণ জেগে না থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুতে চলে যান। যথেষ্ট ঘুম ও বিশ্রাম রোগ প্রতিরোধকে সচল করে।

৩. এই সময়ে আপনার ব্যায়াম বন্ধ রাখুন। ব্যায়াম আপনাকে সুস্থ রাখে ঠিকই। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় কিছুদিনের জন্য ব্যায়ামে বিরতি দেওয়াই ভালো। সুস্থবোধ না করা পর্যন্ত স্বাভাবিক হাঁটাচলার চেয়ে বেশি ব্যায়াম করা উচিত নয়।

৪. এই অসুখবিসুখের মধ্যে চেষ্টা করুন চাপমুক্ত থাকতে। কেননা মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে শারীরিক স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ইমিউন সিস্টেমকে ধীরগতির করে ফেলে। তাই শরীরের ওপর এর প্রভাব পড়ে। মানসিক চাপ, কান্নাকাটি ঠাণ্ডার প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

৫. ঠাণ্ডা লাগছে বলে পানি খাবেন না, সেটা ঠিক নয়। এই সময়টাতে প্রচুর পানি পান করুন। স্বাস্থ্যকর থাকতে হলে আপনাকে হাইড্রেটেড থাকতে হবে। শরীর অসুস্থ থাকলে শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে। ইমিউন সিস্টেম এর কার্যকর রাখতে পানি অবশ্যই প্রয়োজনীয়।

৬. নিয়মিত খাওয়াদাওয়াও অবশ্যই প্রয়োজন। ক্ষুধা না লাগলে কিংবা খেতে ইচ্ছা না করলেও মুখরোচক কিছু খেতে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে বার বার খান। রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করলে শরীরকে অনেক ক্যালরি খরচ করতে হয়। খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিলে শরীরে ক্যালরির ঘাটতি দেখা দেবে, অসুখ আরও পেয়ে বসবে আপনাকে।

৭. কাজকর্ম ছেড়ে ভালো হয় বাড়িতে বিশ্রামে থাকলে। চিকিৎসকেরাও তাই বলেন। এটি আপনার রোগ উপশমের জন্যেই শুধু ভালো নয়। আপনার সহকর্মী, বন্ধুবান্ধবের জন্যেও ভালো। কেননা আপনার ফ্লু বা জীবাণু অন্যদের মাঝেও সংক্রমিত হতে পারে। অফিসের স্পেসগুলোতে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে।

৮. ঠাণ্ডা তাপমাত্রা থেকে সবসময় দূরে থাকুন। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের প্রকোপ ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় বেশি থাকে। এসির ঠাণ্ডা বাতাস থেকে দূরে থাকুন। গলায়, কানে, নাকে একবারেই ঠাণ্ডা লাগতে দেবেন না। বাইরে বের হলে একেবারে দিনের বেলাতে বের হন। সকালে বা রাতে বের না হওয়াই ভালো। ক্লাস মিস দিতে হতে পারে, ছুটিও কাটাতে হবে হয়তো। কাপড়চোপড়ের ব্যাপারেও সাবধান হন।

৯. আপনাকে অবশ্যই কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। গোসলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করবেন। নিয়মিত স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। হাত দিয়ে আর খেয়াল রাখুন আপনি হাত দিয়ে কখন কি স্পর্শ করছেন। হাঁচিকাশি দিতে গেলে সাবধানে নাকমুখ ঢেকে নিন। আর শিশু, বৃদ্ধদের বিষয়ে বেশি সাবধান থাকা উচিৎ।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর