ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সহকর্মীর সঙ্গে যে বিষয়গুলো বলা উচিৎ নয়

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৩:০০ পিএম
সহকর্মীর সঙ্গে যে বিষয়গুলো বলা উচিৎ নয়

কিছুদিন আগে সম্পর্কের অবনতি নিয়ে বেশ অশান্তিতে ছিল সবুজ। কাজ ভালো লাগতো না, মন খারাপ হতো, অফিসে গিয়েও ঝিম মেরে বসে থাকতে হতো। সহকর্মীরা প্রশ্ন করতো কী হয়েছে, কোনো সমস্যা? সবুজ দু’একজন সহকর্মীকে বিশ্বাস করে বলেও ফেলেছে তার সমস্যার বিস্তারিত। সেই সঙ্গে প্রকাশ পেয়ে গিয়েছে তার দুর্বলতা, ব্যক্তিগত টানাপোড়েনগুলো। এই শেয়ারিং এর ফলে সমস্যা না কমে বরং বাড়লো। দেখলো ব্যাপারটি অনেকেই জেনে গেছে, সেটা নিয়ে কানাঘুষো-হাসাহাসি শুরু হয়েছে। সবুজের মনে হতে লাগলো- কোন কুক্ষণেই না কথাগুলো তাদের বলেছিলেন!

অফিসে কাজ করতে গিয়ে সবারই একটা নিজস্ব বলয়, হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয় সহকর্মীদের সঙ্গে। ভালোমন্দ অনেক কিছুই শেয়ার করা হয়। কিন্তু সবকিছুই সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করা অনুচিত। এতে ক্যারিয়ারের বা নিজের মানহানি হতে পারে। কী কী বিষয় এড়িয়ে চলবেন, জানাচ্ছি সেগুলোই-

বেতন বিষয়ে কোনো কথা নয়

নিজের বেতনকড়ি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন না। যে কম বেতন পাচ্ছে সে আপনাকে ঈর্ষা করতে পারে, যে আপনার চেয়ে বেশি পাচ্ছে সে আপনাকে তাচ্ছিল্য আর করুণার দৃষ্টিতে দেখবে। সব মিলিয়ে আপনি একধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়বেন।

দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলোচনা নয়

সহকর্মীদের সঙ্গে হাসিঠাট্টার ছলেই নিজের সঙ্গী বা দাম্পত্য জীবন নিয়ে অনেককিছু বলে ফেলতে পারেন। এতে তারা সবই জেনে গেলো। আপনার দুর্বলতা, সমস্যা তারা বুঝে যাবে, হয়তো এটা নিয়ে অনেককিছু ভাববে। সেই সঙ্গে আপনি ব্যক্তিত্বহীন একটা মানুষে পরিণত হবেন তাদের কাছে। এর বাইরে অন্য কারো দাম্পত্য বিষয়ে কথা বললেও এমনটা হতে পারে। তাই অফিসে দাম্পত্য জীবন নিয়ে একেবারে চুপ থাকুন।

ব্যক্তিগত সমস্যা

জীবনে তো চড়াই উতরাই আসবে। সেই সমস্যা নিয়ে মন খারাপ হলে বা কাউকে কিছু শেয়ার করতে ইচ্ছে হলে সেটা অবশ্যই সহকর্মীদের সঙ্গে নয়। কারণ এতে পারিবারিক সমস্যা অন্যের ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া নিজের দুর্বলতা, চাওয়া পাওয়ার কাহিনী তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। এগুলো আপনাকে ব্যক্তিত্বহীন, আদবকেতাহীন মানুষে পরিণত করবে।

অতীতের কোনো খারাপ ইতিহাস

মানুষ ভুল করতেই পারে, খুবই স্বাভাবিক। সেগুলো সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করে ফেললে সবাই হয়তো সেটা ভালোভাবে নেবে না। সেই ভুলের ইতিহাস যদি আপনার সহকর্মীদের সাথে আলোচনা করেন, তাহলে আপনি তাদের কাছে হাসি-ঠাট্টার পাত্র হয়ে গেলেন। তারা হয়তো আপনার অতীত নিয়ে বিভিন্নভাবে আপনাকে ছোট করতে চাইবে। আপনার কাজের দক্ষতা যাই হোক, ব্যক্তি হিসেবে আপনার মূল্যায়ন আর সেভাবে হবে না।

সহকর্মীদের নিয়ে কিছু বিষয়

অফিসের কোনো একজনকে আপনি খুবই পছন্দ করেন, আবার কাউকে হয়তো খুবই পছন্দ করেন। ভুলেও সেগুলো কোনো সহকর্মীর সঙ্গে শেয়ার করতে যাবেন না। কারণ সেগুলো এক কান থেকে আরেক কানে চলে যাবে। এই অবস্থায় আপনার প্রতিপক্ষ তৈরি হবে, আপনাকে কেউ শত্রু মনে করতে পারে।

কাজ ভালো লাগছে না

আপনি অফিসে যে কাজ করছেন সেটি আপনার ব্যক্তিগত পছন্দনীয় নাও হতে পারে। এটা আবার আবেগে পড়ে অফিসের কাউকে বলতে বা আলোচনা করতে যাবেন না। কারণ এটা কোনোভাবে উপর পর্যায়ের কারো কানে গেলে তারা আপনার বিষয়ে অন্যকিছু ভাবতে পারে, অন্য কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারে। তাই সাবধান।

ধর্মীয় আর রাজনৈতিক আলাপ একেবারেই নয়

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিভেদ বা বিভক্তি তৈরি হয় ধর্ম আর রাজনৈতিক মতাদর্শকে কেন্দ্র করে। কর্মক্ষেত্রে এসব বিষয়ে আলোচনা করার পর আগের তুলনায় আপনার কাজের জায়গা অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে, আপনারা মতাদর্শে আলাদা হয়ে যেতে পারেন।

ফেসবুকে সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে সাবধান

অফিস সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বও কখনো কখনো বিপদজনক হতে পারে ক্যারিয়ারের জন্য। আপনি হয়তো সামাজিক মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত অনেক বিষয় প্রায়ই শেয়ার করেন। আপনার এই চেক ইন, আপলোড করা ছবি দেখে বুঝে নেওয়া যায় আপনি ব্যক্তি হিসেবে কেমন। অফিস সহকর্মীদের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ প্রকাশ করে দিলে দিনশেষে তা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো নাও হতে পারে। তারা কি না কি ভাববে সেটাও জরুরি।

ভবিষ্যতে কী করবেন

আপনার নিজের একটা ভবিষ্যত পরিকল্পনা অবশ্যই আছে, আপনি সেটা নিয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। সেই আশায় আনন্দিত হয়ে সব পরিকল্পনা শেয়ার করলেন কোনো সহকর্মীর সঙ্গে। পরিকল্পনা জানার পাশাপাশি তিনি আপনার চাহিদার বিষয়েও জেনে গেলেন। আপনার ঘাটতি, দুর্বলতার জায়গা অনেকটাই প্রকাশ পেয়ে যাবে। এটা নিয়ে সমস্যাও হবে। আপনার সব তারা জানবে কেন!

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর