ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নতুন ক্যাম্পাস, নতুন বন্ধু

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০১৯ বুধবার, ০৮:০১ এএম
নতুন ক্যাম্পাস, নতুন বন্ধু

নতুন ক্যাম্পাসে ভর্তি হতে যাচ্ছে ইতি। নতুন পড়ালেখা, নতুন পরিবেশ আর সবকিছু নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভয় হচ্ছে খাপ খাওয়ানো নিয়ে। কেমন বন্ধু হবে, তারা সহায়ক হবে কিনা, অনেক বেশি অহংকারী হবে কিনা তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই। কেমন হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু?

এই প্রশ্ন অনেকেরই। আমরা প্রথম পর্যায়ে নতুন জায়গায় গিয়ে বন্ধুহীন অবস্থার মধ্যে থাকি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি কর্মস্থলে বন্ধুহীন হয়ে থাকা কঠিন। সেখানে গিয়ে নতুন বন্ধু বানানো বেশ কঠিন। সেখানে সবাই আপনার অপরিচিত, সেখানে নিজের সমস্ত অনুভূতি ও সুখ-দুঃখের কথা বলার মতো কাউকে খুঁজে নেওয়া তো চ্যালেঞ্জেরই। এই অবস্থায় কী করবেন আপনি জেনে নিন-

১. নতুন পরিবেশে বা নতুন ক্যাম্পাসে খাপ খাইয়ে চলতে খারাপ অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই নিতে হয়। কিন্তু থেমে থাকা সম্ভব না। নিজেকে মেলে ধরতে হবে নিজের মতো করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে এসে অনেকেই নতুন বন্ধু বা সিনিয়রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে অনেক সময় ব্যয় করে ফেলে। কিন্তু এই সম্পর্ক যত দ্রুত তৈরি করা যায়, ততই ভালো। নিজেকে গুটিয়ে না রেখে যতটা সম্ভব ক্যাম্পাসের সহপাঠী এবং সিনিয়রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালানো ভালো। সুযোগ পেলে নিজের বিভাগ ছাড়াও অন্যদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

২. বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। বয়স যতই হোক না কেন, নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসের বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। পক্ষান্তরে ছোটদের প্রতিও স্নেহশীল থাকা উচিত। খামোখা কারো সঙ্গে মনোমালিন্যে জড়ানো ভালো দেখায় না। যেকোনো সমস্যায় তাদের সাহায্য নিন। এতে সম্পর্কের বন্ধনটা পাকাপোক্ত হবে।

৩. অহংবোধ বা ইগো কমবেশি সবারই থাকে। কিন্তু সেটা তো সবখানে খাটাতে গেলে চলে না। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আস্তে আস্তে সমঝোতার সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

৪. সিনিয়র শিক্ষার্থী বা সহপাঠী সবার সঙ্গেই নিয়ম বজায় রেখে মজা, আনন্দ করতেই পারেন। ক্যাম্পাসে নতুন বলে নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন না। সংকোচ ভুলে সবার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন। মুখ লুকিয়ে রেখে কখনো কারো সঙ্গে মেলামেশা না করাই ভালো। আর আপনার আনন্দ ভাগাভাগিতে সবাইকে সঙ্গে নিন।

৫. ক্যাম্পাসের নতুন বন্ধু বা সিনিয়রদের চাওয়া-পাওয়াগুলো বুঝতে চেষ্টা করুন। তবে এক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। সবদিক চিন্তাভাবনা করে মিশতে হবে। নিজেকে সবার মতো দেখতে চেষ্টা করবেন না। তাদের বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হবে।

৬. আত্মবিশ্বাস সবসময় ধরে রাখতে চেষ্টা করবেন। তারপর সেই অনুযায়ী নতুন জায়গার মানুষগুলোর সঙ্গে মিশতে শুরু করুন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন, নিজে যা জানেন তা ছড়িয়ে দিন। সবার কাছ থেকে সবকিছু বুঝতে চেষ্টা করুন। সত্যিকার অর্থে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ চাইলে ভেবেচিন্তে আলোচনায় অংশ নিন। আপনার এই কথোপকথনগুলোই সবার মধ্যে আপনার সম্পর্কে ধারণা এনে দেবে।

৭. আশপাশের সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ বজায় রাখুন। কিন্তু কাউকে বন্ধু বানাতে জোর চেষ্টা চালাতে হবে এমনটা নয়। জোর করে বন্ধুত্ব হয় না। আর যদি কেউ আপনার বন্ধুত্বে তেমন আগ্রহ না দেখায় তাহলে হতাশার কিছু নেই। বন্ধুত্ব ধীরেসুস্থেই হোক।

৮. নিয়মিত সবখানে যাওয়ার চেষ্টা করুন। সেই জায়গাগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করুন যেখানে পরিবেশের সঙ্গে মানুষগুলো আপনার পছন্দের। নিয়মিত যাওয়া আসায় আপনার পরিচিতি বাড়বে। আর এভাবেই বন্ধুত্বের বীজ বুনতে পারবেন, তবে আস্তে আস্তে।

৯. সব আচার অনুষ্ঠানগুলোতে যান, অংশগ্রহণ করুন। সহপাঠীদের বিভিন্ন ইভেন্টে যাওয়া-আসা শুরু করুন। দেখবেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার বেশ কিছু ভালো বন্ধু হয়ে যাবে। তাদের সঙ্গে শুরুর দিকে একটা মাত্রা রেখে মিশবেন। বেশি মেলামেশা করতে গিয়ে শেষে ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে ফেলবেন না। পাশাপাশি সবাইকে সাহায্য করার মন মানসিকতা রাখুন নিজের মধ্যে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর