ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৭ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দ্বিতীয় বিয়েতে সন্তানের আপত্তি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০১৯ বুধবার, ০৪:১১ পিএম
দ্বিতীয় বিয়েতে সন্তানের আপত্তি

স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে চারবছর আগে। আফজাল সাহেব এক ছেলে আর মেয়ে নিয়ে আলাদা থাকছেন, তাদের লালনপালন করছেন। তারা বড় হচ্ছে তাদের মাকে ছেড়েই। এর মাঝে শুরু হয়েছে পরিবারের চাপ। এভাবে একাকী কতদিন চলবে, তার তো একটা ভবিষ্যত আছে, দেখাশোনা আর সংসারের জন্য তো একটা মানুষ, একজন স্ত্রী প্রয়োজন, আরেকটি বিয়ে প্রয়োজন। আফজাল সাহেব পড়েছেন বিপাকে। সন্তানরা এই বিয়ের কথা শুনে মন খারাপ তো করেছেই, মেয়েটা কেঁদেকেটে অস্থিরও হয়েছে। এই অবস্থায় তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কি করবেন। 

কেন দ্বিতীয় বিয়ে?

সঙ্গীর মৃত্যু বা বিচ্ছেদের পর সবাই যে দ্বিতীয় বিয়েতে আগ্রহী হয়, তা কিন্তু নয়। চারপাশের কথা ভেবে, সন্তান, পরিবার, ভবিষ্যত অশান্তি নিয়ে ভাবতে গিয়ে আবার বিয়েকে সমর্থন করেন না অনেকেই। কিন্তু সামাজিক চাপ, জৈবিক তাড়না আর মানসিক বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়ে দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবতে হয় একটি নারী বা পুরুষের। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে নারী আর পুরুষের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। সমস্যা, প্রেক্ষাপট, মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারগুলো আলাদা হয়।

বিয়ের পর সমস্যা

আধুনিক যুগে দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেওয়ার বিষয়টি আগের চেয়ে অনেকটা সহজ হয়েছে। তবে সমস্যা হয় সন্তানদের নিয়ে। তারা বিষয়টি না পারে মানতে, না পারে কিছু করতে। বিভিন্ন পারিবারিক সংকটের পাশাপাশি সন্তানও বড় ধরনের বিবেচ্য বিষয়। বাবা বা মা নতুন বিয়েতে সন্তানদের সমর্থন খুব কমই থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তানদের মানসিক জটিলতা দেখা দেয়। তারা মানতেও পারে না। বিয়ের মানসিক প্রশান্তির তৈরি হয় সার্বিক অশান্তি। সন্তানেরা অনেক দূরে সরে যেতে পারে, বাবা-মায়ের সঙ্গে  সন্তানের স্বাভাবিক সম্পর্ক ও আনন্দ নষ্ট হয়। মানিয়ে নেওয়ার উদাহরণ খুব কমই আছে।

যা করা উচিত

বাস্তব পরিস্থিতকে বুঝতে হবে আগে। তারপরই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কেন বা কোন পরিস্থিতিতে বিয়ে করতে হচ্ছে, কি কি সমস্যা বা সংকট হতে পারে, সুবিধা বা অসুবিধা সব বিষয়গুলোকে  ঠাণ্ডা মাথায় বিচার করে নিতে হবে।

অন্য কেউ যদি প্ররোচনা দেয় বা জোর করে তাতে সব ভুলে যাবেন না। নিজেরটা নিজে বুঝতে চেষ্টা করুন। এটা বড় ধরনের জটিল পারিবারিক সমীকরণ। পুরো একটা পরিবার এখানে জড়িত। তাই এটা সমাধানে নিজের বিবেক-বুদ্ধিকে প্রাধান্য ও গুরুত্ব দিন সবার আগে।

সন্তানদের কাছে নিজের মনোভাব বা ইচ্ছাকে লুকাতে যাবেন না। তাদের নিয়ে আলাদা করে বসুন, খোলামেলাভাবে কথা বলুন। সন্তানদের চাহিদা, যুক্তি, তাদের দ্বিধা সংকোচ, মন খারাপগুলো আপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

কেন আপনি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন, এতে আপনার, সন্তানের, পুরো পরিবারের কি সুবিধা হবে, এর ভবিষ্যত ভালো হবে- এটা নিয়েও তার সঙ্গে আলোচনা করা দরকার। নিজে যদি বোঝাতে সক্ষম না হন, আত্মীয়স্বজন বা প্রিয়জনের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ করুন। প্রয়োজনে কাছের কাউকে দিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

যার সঙ্গে বিয়ে, তাকে আপনার সংসারের পরিস্থিতি, সন্তানদের মনোভাব, মানিয়ে নেওয়ার মনোভাব আছে কিনা- সব বিষয়ে আলোচনা করে নেবেন। সে সন্তানদের কতটা মেনে নিতে পারবে, সন্তান প্রতিপালনে তার কোনো সমস্যা আছে কিনা এটাও জরুরি। কিছুটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন, না হলে পরে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

শুধু বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিয়ে করে নিলেই তো হলো না, নতুন সদস্যটিকেও তো আপনার বুঝতে হবে। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আগ্রহ, আত্মবিশ্বাসকে মূল্যায়নের দায়িত্বও আপনার। তার সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক হওয়ার আগে সন্তানদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন। তাদের মধ্যে বোঝাপড়া হোক, দুইপক্ষ চেনাজানা হোক- সেটাও জরুরি। তাদের দেখা করিয়ে দিন, আলাদা সময় কাটানোর ব্যবস্থা করে দিন আগেই।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ